উচ্ছল নারী-শিশুর স্বপ্ন জাগানিয়া ছবি দেখতে চাই
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০১
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক মানববন্ধনে দেশের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, নানা বাধা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সামাজিক উন্নয়ন সূচকে এ দেশের অবস্থান প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়ে ভালো। কিন্তু আমাদের অসাম্প্রদায়িক ও সমতার সমাজ নির্মাণের প্রচেষ্টাগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নারী ও শিশুর উপর নির্যাতন-ধর্ষণের কারণে প্রশ্নের মুখে জাতীয় বিবেক। সম্প্রতি নির্যাতকরা যেন নির্যাতনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। পত্রিকার পাতা খুললেই নির্যাতিত নারী ও শিশুর বিবর্ণ ছবি দেখতে হয়। দুঃস্বপ্নের ছবি নয়, সুখী ও উচ্ছল নারী-শিশুর স্বপ্ন জাগানিয়া ছবি দেখতে চাই। এ জন্য সরকারকে দ্রুততম সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতকদের বিরুদ্ধে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে দ্রুত বিচার আইনে নির্যাতকদের বিচার করতে হবে।
গতকাল রবিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে এক মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিশিষ্টজনরা এ দাবি জানান। ‘নির্যাতক ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এলামনাই এসোসিয়েশন (ডুয়া)।
মানববন্ধনে ভাষাসৈনিক রওশন আরা বাচ্চু বলেন, প্রতিদিনই খুন ও ধর্ষণ হচ্ছে। ধর্ষক ও নির্যাতনকারী নরপশুদের আমরা চিহ্নিত করেছি, করছি। তবুও এদের বিচার হচ্ছে না। আইনের কোথায় যেন ফাঁক রয়েছে।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, এ বিষয়ে আইন রয়েছে, তবে আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ কমাতে হবে। তরুণ প্রজন্ম এগিয়ে না আসলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তবে সারা দেশে নারী নির্যাতন বেড়েই চলছে। তাই যারা অপরাধ করে তাদের আইনের হাতে তুলে দেয়ার দায়িত্ব পরিবারকেও নিতে হবে।
জেএসডি’র সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, পুরো সমাজ ও রাষ্ট্র আজ আসামির কাঠগড়ায়। গোটা সমাজ ব্যবস্থার কোথায় যেন পচন ধরেছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের প্রকাশ্য ফাঁসি দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
বিএনপি’র নেত্রী ও সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান বলেন, প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই নির্যাতকের ছবি, নির্যাতনে ঘটনা দেখতে-পড়তে হয়। দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিতে হলে দল মত নির্বিশেষে এর প্রতিবাদ জানাতে হবে।
ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম বলেন, ধর্ষণ ও নির্যাতন সীমা অতিক্রম করেছে। এই সব ঘটনা দমাতে হলে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাবেক সভাপতি ও ডুয়া’র সহ-সভাপতি সেলিনা খান বলেন, আমরা গণমাধ্যমে কোনো নির্যাতিতা নারীর বিবর্ণ ছবি দেখতে চাই না। আমরা চাই ঐসব নির্যাতনকারীদের নাম, ঠিকানা ও ছবি। যাতে করে জাতি এই মানুষরূপী নরপশুদের চিনতে পারে।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক রওশন আরা আমান, এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, মহাসচিব রকিব উদ্দিন আহমেদ।