ডাক্তার পাওয়া ভার কেশবপুর হাসপাতালে
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৫
যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (হাসপাতাল) চিকিত্সা সেবা কার্যত ভেঙ্গে পড়েছে। ডাক্তাররা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো আসেন-যান। অধিকাংশই ব্যস্ত থাকেন বেসরকারি ক্লিনিকে। কোনো জবাবদিহিতা নেই। প্রয়োজনের সময় তাদের পাওয়া যায় না। এমন সব অভিযোগ করেছেন এখানে চিকিত্সা নিতে আসা উপজেলার সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন ডাক্তারও কিছু অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
গতকাল রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কেশবপুর হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল ভয়াবহ চিত্র। ডা. কামরুজ্জামানের কক্ষে শত শত রোগী। পাশের কক্ষে ডা. আব্দুল মজিদ ওষুধ কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধির সাথে খোশগল্প করছেন। জরুরি বিভাগের পাশে ডাক্তার আনোয়ারের কক্ষে দেখা মিলল আরো ডজনখানিক রোগীর। গোটা হাসপাতালে সাকুল্যে এ তিনজন ডাক্তার উপস্থিত আছেন। অথচ এ হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্ত ডাক্তারের সংখ্যা ১৪ জন। জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের চিকিত্সা দিতে দেখা গেল একজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্টেন্টকে। আনোয়ার হোসেন নামের ওই অ্যাসিস্টেন্ট দাবি করলেন, এ হাসপাতালে ‘আমরাই রোগী দেখি’। দোতলায় গিয়ে দেখা গেল, একই সিরিঞ্জ দিয়ে একাধিক রোগীর দেহে ইনজেকশন (ওষুধ) দেয়া হচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে কর্তব্যরত নার্স জানান, এখানে এভাবেই ইনজেকশন দেয়া হয়।
ওয়ার্ডে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়েছেন স্থানীয় বেতিখোলা গ্রামের হারুন অর রশিদ। তিনদিন চলে গেলেও তার কাছে কোনো ডাক্তার যাননি বলে অভিযোগ করলেন। অন্য রোগীরা জানান, এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যায় না। কেউ ভর্তি হলেও চিকিত্সা ঠিক মতো হবে না—এ আশংকায় কাউকে কিছু না জানিয়ে গোপনে চলে যান। তাই অনেক বেড খালি পড়ে থাকে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, এ হাসপাতালের সব ডাক্তারের নিজস্ব ক্লিনিক আর দালাল চক্র রয়েছে। দালালরা রোগী ভাগিয়ে ওইসব ক্লিনিকে নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে ভাগিয়ে নিয়ে স্থানীয় সেবা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে অপারেশন করতে গিয়ে ডা. আব্দুল মজিদের হাতে প্রাণ গেছে মঙ্গলকোট গ্রামের আব্দুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা বেগমের। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
হাসপাতালের এসব অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলতে চাইলে ডা. কামরুজ্জামান হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডা. শামছুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিলেন। শামছুজ্জামানের কক্ষে গিয়ে দেখা গেল তিনি নেই। খোঁজ করে জানা গেল, তিনি তার নিজস্ব ক্লিনিকে আছেন। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যশোর সদর থেকে অফিস করেন। মায়ের অসুস্থতার কারণে তিনি আসেননি। অন্যদের মধ্যে ডা. আল মামুন সপ্তাহে একদিন আসেন। গতকাল তিনিও ছিলেন অনুপস্থিত। হাসপাতালে দুপুর একটা পর্যন্ত অন্য কোন ডাক্তারের দেখা পাওয়া যায়নি।