পুলিশ পদক তালিকায় ৯ কর্মকর্তা না থাকায় ক্ষোভ, পরে অন্তর্ভুক্ত
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৬
পুলিশ সদস্যদের সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের জন্য নির্বাচক কমিটি প্রদত্ত পদক তালিকা থেকে ৯ কর্মকর্তাকে বাদ দেয়ায় পুলিশ প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিলে শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টির সুরাহা হয়েছে। এখন এই ৯ জনসহ মোট ৬৭ জনকে দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ পদক ( বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক ( পিপিএম)। আজ সোমবার এ সংক্রান্ত আদেশ জারি হবে বলে জানা গেছে। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বার্ষিক পুলিশ প্যারেড পরিদর্শন শেষে তাদের পদক প্রদান করবেন।
জানা গেছে, পদকের জন্য নির্বাচক কমিটি যে তালিকা প্রদান করে তার থেকে ৯ কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়ে গত শনিবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-২ ৫৮ পুলিশ সদস্যকে মনোনীত করে একটি আদেশ জারি করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ প্রশাসনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই প্রথম নির্বাচক কমিটি প্রদত্ত তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়ার ঘটনা ঘটলো। বেকায়দায় ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত চার পুলিশ কর্মকর্তা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এদের একজন অতিরিক্ত আইজিপি, একজন ডিআইজি ও দুইজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাহিনীর মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন ওই শীর্ষ কর্মকর্তারা।
গত রাতে ৯ পুলিশ কর্মকর্তার নাম নির্বাচক কমিটির তালিকা থেকে বাদ দেয়ার বিষয়টি শীর্ষ কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তাত্ক্ষণিক কর্তৃপক্ষ ৯ জনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার ৯ জনের নাম পদকের তালিকায় অন্তর্ভুক্তি করার অনুমোদনের জন্য ফাইল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
পরে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় তারা হলেন, পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (প্রশাসন) বিনয় কৃষ্ণ বালা, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ইব্রাহীম ফাতমী, অতিরিক্ত ডিআইজি (ঢাকা রেঞ্জ) মিজানুর রহমান, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (গোপনীয়) মাহফুজুর রহমান, খুলনা মহানগরের পুলিশ কমিশনার শফিকুর রহমান, ভোলার পুলিশ সুপার বশির আহমেদ, পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (প্রশাসন) রখফার সুলতানা খানম, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনা ও মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া সার্কেলের এএসপি আলমগীর হোসেন।
জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ ৬৭ জনকে ইতিমধ্যে ঢাকা এসে পদক নেয়ার জন্য প্যারেড করতে বলে। তারা নিয়মিত প্যারেড করেন।
পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা যায়, যে ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের মধ্যে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ নির্বাচক কমিটি ৬৬ জনের তালিকা মনোনীত করেন। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য পুলিশ সদর দফতর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। প্রথম দফায় ওই তালিকা থেকে একজন পুলিশ সদস্যের নাম বাদ দিয়ে ডিআইজি ও এসপি পদ মর্যাদার দুই কর্মকর্তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এদের মধ্যে একজন বির্তকিত পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন। ৬৭ তালিকা পদকের জন্য নির্ধারণ করা হয়। এ তালিকা থেকে ৯ পুলিশ কর্মকর্তার নাম বাদ দিয়ে ৫৮ জনকে চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আদেশ জারি করে।
এ বিষয়ে পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, বাদ পড়া ৯ জনের নাম তালিকায় ছিল। এ নিয়ে ভুল বুঝাবুঝির কোন অবকাশ নেই।
যারা পদক পাচ্ছেন: কক্সবাজারের মৃত এসআই শ্রী পরেশ কুমার কারবারী বিপিএম (মরণোত্তর), ডিএমপির গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের কনস্টেবল লুত্ফুর রহমান বিপিএম, এআইজি (সিআইডি) মো. মোখলেসুর রহমান বিপিএম (সেবা), ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা নজরুল ইসলাম বিপিএম (সেবা), পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম(সেবা)।
পিপিএম পাচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১ এর মেজর খন্দকার গোলাম সারোয়ার, র্যাব-৩ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর আহমেদ হোসেন মহিউদ্দিন, র্যাব-১০ এর স্কোয়াড্রন লীডার ইমন আহসান, র্যাব-৮ এর সিনিয়র এএসপি মো. আজাহার আলী শেখ, চট্টগ্রাম সিএমপির বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন,মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার ওসি মো. আশরাফ উল ইসলাম, ভোলা চরফ্যাশন থানার ওসি রিয়াজ হোসেন, মতিঝিল ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী, ডিএমপির শাহ আলী থানার এসআই মো. জাহিদুর রহমান খান, লালবাগ থানার এসআই মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফেনী মডেল থানার এসআই মো. মাহবুবুর রহমান, বরিশালের এসআই নূরুল আলম তালুকদার, শরিয়তপুর নড়িয়া থানার এসআই মো. ফয়সাল হাওলাদার, ডিএমপির রমনা মডেল থানার এএসআই মো. হারুন অর রশীদ, কক্সবাজার পুলিশ লাইনসের এএসআই মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, হেড কনস্টেবল জাহাঙ্গীর হোসেন ১৪১ (আরআরএফ) ১৭৫ (খাগড়াছড়ি), হেড কনস্টেবল মহসীন সিপিসি-২ র্যাব-১১, হেড কনস্টেবল জুলফিকার আলী র্যাব-৩, ডিএমপি গুলশান থানার কনস্টেবল আমজাদ হোসেন, র্যাব সদর দফতরের ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের সৈনিক মোঃ ইমরুল কায়েস।
পিপিএম-সেবা পাচ্ছেন- খুলনা র্যাব-৬ এর অধিনায়ক ডিআইজি মো. মনজুর কাদের খান, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মিলি বিশ্বাস, র্যাব সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) কর্নেল মো. মজিবুর রহমান পিএসসি, ডিএমপির গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুত্ফুল কবির, উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোন) মো. আনোয়ার হোসেন, ডাইরেক্টর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-১ গোলাম রউফ খান পিপিএম, শেরপুর জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, ডিএমপির উপ-কমিশনার (লালবাগ জোন) হারুন-অর-রশীদ, র্যাব-৮ এর লে. কমান্ডার মোহাম্মদ নুর-উজ-জামান, র্যাব-৮ এর মেজর রাশেদুল হক খান, র্যাব-৬ এর ঝিনাইদহ ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন আশরাফ আলী, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার আবিদা সুলতানা, পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মোহাম্মদ সিহাব কায়সার খান, ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মশিউর রহমান, ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আয়েশা সিদ্দিকা, ডিবির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আশিকুর রহমান, পুলিশ সদর দফতরের এএসপি মাহফুজুর রহমান আল মামুন, ডিবির সহকারী কমিশনার ছানোয়ার হোসেন, ডিবির সহকারী কমিশনার সাইফুল ইসলাম, ডিএমপির ওয়ারী জোনের সহকারী কমিশনার মনজুর রহমান, ডিবির সহকারী কমিশনার মাহফুজুল ইসলাম, র্যাব-৫ এর লেফটেন্যান্ট বিএম নুর মোহাম্মদ, র্যাব-৮ এর লেফটেন্যান্ট সৈয়দ মোঃ সরফরাজ ওবায়েদ, সাভার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মনোয়ার হোসেন, ডিবির সহকারি কমিশনার ওবায়দুল হক, ডিবির সহকারি কমিশনার জাহিদুল হক, ডিএমপি সুত্রাপুর থানার ওসি (বদলিকৃত) নজরুল ইসলাম, ডিবির পরিদর্শক জিয়াউর রহমান, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম, ডিএমপি সুত্রাপুর থানার এসআই জালাল উদ্দিন ও কুষ্টিয়া মিরপুর থানার এসআই মো. শাহাব উদ্দিন।