এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি
অলোক কুমার মিস্ত্রী বন্যপ্রাণী গবেষক ও কলামিস্ট (প্রভাষক) জীববিজ্ঞান বিভাগ
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:২৮
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ আমি তোমাদের জীববিজ্ঞান ২য় পত্রের ৮.১ মানবদেহ রেচনতন্ত্র ) Excretory system - বিষয়ের ওপর রচনামূলক প্রশ্নোওর উপস্থাপন করব, যা ফাইনাল ২০১৩ সালের (সকল বোর্ড) পরীক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্ন ঃ নেফ্রণ কী ? চিত্রসহ নেফ্রণের গঠন বর্ণনা কর।
উত্তর ঃ নেফ্রণ হলো কিডনীর ইউরিনিফেরাস নালীর ক্ষরণকারী অংশ ও কর্ষিকা বটে। আর প্রতিটি নেফ্রণের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ সে.মি. অনেকগুলো রক্তনালী ও বেশ কিছু যোজক কলার সমন্বয়ে প্রতিটি কিডনী গঠিত। এতে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রণ থাকে।
অর্থাত্ নেফ্রণ বলতে আমরা বৃক্কের গাঠনিক ও কার্যকরী একককে বুঝি। এর প্রধানতঃ দুটি অংশ। যথা ঃ (১) রেনাল করপাসল (Renal corpuscle ) এবং (২) রেনাল টিউবিউল (Renal tubules)।
রেনাল করপাসল
(Renal corpuscle) বা মালপজিয়ান কণিকা বা মালপজিয়ান বডি ঃ নেফ্রনের অগ্রপান্তকে রেনাল করপাসল বলে। এটি কিডনীর কর্টেক্স অঞ্চলে অবস্থিত। এটি আইশাকার এপিথেলিয়ামে গঠিত দ্বিস্তরী পেয়ালার মতো প্রসারিত বোম্যানস ক্যাপসুল এবং গোলাকার একগুচ্ছ কৈশিকজালিকা বা গ্লোমেরুলাস নিয়ে গঠিত। গ্লোমেরুলাস বোম্যানস ক্যাপসুলের অভ্যন্তরে প্রায় সম্পূর্ণ আবদ্ধ থাকে। রেনাল ধমনী থেকে সৃষ্ট অ্যাফারেন্ট আর্টিওল ক্যাপসুলের ভেতরে ঢুকে প্রায় ৫০ টি কৈশিক নালীকা তৈরি করে। ঐগুলো পুণঃবিভক্ত হয়ে সূক্ষ্ম রক্তজালিকা সৃষ্টি করে। এসব জালিকার কৈশিকনালীগুলো মিলিত হয়ে ইফারেন্ট অ্যার্টিওল সৃষ্টি করে এবং ক্যাপসুল থেকে বেরিয়ে আসে।
কাজ ঃ মানব শরীরে ছাকনির কাজ করে থাকে এবং রক্ত থেকে গ্লোমেরুলাস-পরিশ্রুত তরল উত্পাদন করে থাকে।
রেনাল টিউবিউল (Renal tubules) ঃ বেম্যান্স ক্যাপসুলের অঙ্কীয়দেশ থেকে সংগ্রাহী নালী পর্যন্ত বিসতৃত নালিকাকে রেনাল টিউবিউল বলে। দুই বৃক্কির মোট ২০ লক্ষ রেনাল টিউবিউলের সম্নিলিত দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬৪. ৪ কিলোমিটার। প্রতিটি রেনাল টিউবিউল নিম্নলিখিত ৩ টি অংশ নিয়ে গঠিত হয়ে থাকে।
(ক) গোড়াদেশীয় প্যাঁচানো নালিকা ঃ এটি রেনাল টিউবিউলের প্রথম অংশ। এরা কর্টেক্স এর বেশির ভাগ গঠন করে, গ্লোমেরুলাস এর ঠিক নিচে অবস্থিত এবং খুব প্যাঁচানো। এ অংশটি ঘনতলাকার কোষে গঠিত।
(খ) হেনলির লুপ ঃ গোড়াদেশীয় প্যাঁচানো নালিকার শেষপ্রান্ত সোজা ও নিম্নমূখী হয়ে মেডুলায় ঢুকে যে U ু অক্ষরের মতো লুপ তৈরি করে অবশেষে প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকায় যুক্ত হয় তাক হেনলির লুপ বলে।
(গ) প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালিকা ঃ এটি হেনলির লুপের পরবর্তী কুন্ডলিত অংশ। এর প্রাচীর ঘনকার এপিথেলিয়াম তিয়ে গঠিত। এর পরিশেষে একটি সংগ্রাহক নালিকায় মুক্ত হয়।