ফলের বাগানে কারেন্ট জাল : মারা যাচ্ছে পাখি

বাগানের বরই (কুল) রক্ষা করতে রাজীবপুর উপজেলার কৃষকরা জাল দিয়ে পাখি মারার ফাঁদ তৈরি করেছে। আর ওই ফাঁদে পড়ে প্রাণ হারাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী পাখিরা। সরেজমিনে উপজেলার টাঙ্গালিয়া পাড়া গ্রামের ফরিদ হোসেনের বরই (কুল) বাগানে গিয়ে দেখা যায় বাগান ঘিরে ৪০-৫০ ফুট উঁচু করে কারেন্ট জাল টানিয়ে দেয়া হয়েছে। রাতেরবেলা বিভিন্ন প্রজাতির পাখি উড়ে ওই বাগানের উপর দিয়ে বা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাগানে পাতানো ফাঁদ কারেন্ট জালে আটকে মারা যাচ্ছে। গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, এইভাবে ফাঁদ পেতে ওই কৃষক বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় একশ’পাখি হত্যা করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, গতবছর ওই কৃষকের পাতানো ফাঁদে পেঁচা, বাঁদুড়, ঘুঘু, শালিক, মাছরাঙ্গা, পানকৌড়ি, টগা (টগর) ও টিয়া পাখির মতো দু’শ’রও অধিক পাখি মারা গেছে। এইভাবে পাখি মারা ঠিক কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওই বাগানের মালিক ফরিদ হোসেন বলেন, ‘আমি টেকা খরচ কইরা বাগান করছি, পাখি ফল খাইলে আমার লোকসান হইবো তাই জাল দিয়া পাখি মারি’। রাজীবপুর উপজেলার আরও কয়েকটি বাগান ঘুরে ওই একই চিত্র দেখা গেছে। কৃষকরা বাগান রক্ষার জন্য ৩০-৪০ ফুট পর্যন্ত উঁচু করে বাঁশ দিয়ে বাগানের চারপাশে জাল টানিয়ে দিয়েছে। রাজীবপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ছানোয়ার হোসেন জানান, কৃষকরা বাঁদুড় জাতীয় পাখির আক্রমণ থেকে বাগান রক্ষার জন্য ফাঁদ পাতে। সেই ফাঁদে বাঁদুড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উপকারী পাখি মারা যায়। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে ফাঁদের ব্যবহার কমানো সম্ভব।