বগুড়ার শেরপুরে থানা থেকে অস্ত্রলুটের আসামি ‘গোলাগুলি’তে নিহত

বগুড়ার শেরপুরে আবারও দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘গোলাগুলি’র ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩ মামলার আসামি শফিউর রহমান জ্যোতি (৫৮) নামে চরমপন্থি দলের আঞ্চলিক নেতা নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৩০এপ্রিল) দিবাগত রাত অনুমান দেড়টার দিকে শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের বোয়ালকান্দি ব্রিজের ওপর এই ‘গোলাগুলি’র ঘটনা ঘটে। 

এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি, একটি রামদা এবং জ্যোতির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে। নিহত শফিউর রহমান জ্যোতি ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের প্রতাব খাদুলী গ্রামের মৃত মোজাফফর রহমান মাস্টারের ছেলে। গত বুধবার (১ মে) নিহতের লাশ ময়না তদন্ত শেষে প্রতাব খাদুলী গ্রামের পারিবারিক কবরে দাফন করা হয়েছে। 

এর আগে গত ২৬ এপ্রিল শুক্রবার রাতে উপজেলার ভবানীপুর বাজার সংলগ্ন গোবিন্দপুর ব্রিজের কাছে দুইদল সন্ত্রাসীর মধ্যে ‘গোলাগুলি’ হয়। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি (সর্বহারা) পার্টির দুই সদস্য নিহত হন। 

শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, নিহত শফিউর রহমান জ্যোতির বিরুদ্ধে পুলিশের ক্রিমিনাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে পাঁচটি হত্যাসহ ১৩টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৯৮৭ সালের ১৬ মে ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নিশ্চিন্তপুর গ্রামের রোমজান আলী, ১৯৮৮ সালের ২১ জুন ধুনট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চরখাদুলী গ্রামের হাফিজুর রহমান দুদু, খাদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রান্ডিলা গ্রামের নুরুল ইসলাম, ১৯৮৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ধেরুয়াহাটি গ্রামের খলিলুর রহমান ও ২০১৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রুদ্রবাড়িয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক শহিদুল ইসলাম হত্যায় তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। 

পাশাপাশি গত ১৯৮৭ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি নাটোরের গুরুদাসপুর থানায় দুই পুলিশ সদস্যকে খুন করে অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই মামলায় ২০০৬ সালে জ্যোতির ৮৪ বছরের সাজা হয়। এছাড়া জ্যোতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় বিস্ফোরক আইনে আরও ৭টি মামলা রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত কক্সবাজার

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির (সর্বহারা) সদস্যরা গত ৮ এপ্রিল রাতে ভবানীপুর বাজারে টহল পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নিজেদের তৎপরতার কথা জানান দেয়। পরদিন ৯ এপ্রিল পাবনায় স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর কাছে ১৪ জেলার ৫৯৫ জন চরমপন্থি আত্মসমর্পণের বিরোধিতা করে চরমপন্থীরা ভবানীপুর বাজার এলাকায় সর্বহারা পার্টির পোস্টারিং করছিলেন। এ সময় সেখানে শেরপুর থানার টহল পুলিশের ওপর তার গুলি ছেঁড়ে। গুলিতে পুলিশের সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. নান্নু মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে ডান পা হারান। তিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। 

ইত্তেফাক/অনি