আযাদের ফাঁসির আদেশ
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলায় জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত রুকন পলাতক আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। গণহত্যা, লুটপাট, তিন নারীকে ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ, ধর্মান্তরিতকরণ প্রভৃতি অপরাধের দায়ে তাকে এ মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।
গতকাল সোমবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন এবং সদস্য বিচারপতি মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারক শাহিনুর ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, আরো তিনটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলেও অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় কারাদণ্ড দেয়া হলো না। বিচার কার্যক্রমে তার অনুপস্থিতি সম্পর্কে বলা হয়, আযাদকে অনুপস্থিত অভিযুক্ত বলে বিবেচনা করা যায় না। বরং তিনি একজন ফেরারি আসামি। এ বিচারকার্যে উপস্থিত থাকার অধিকার তিনি নিজের ইচ্ছায় পরিত্যাগ করেছেন। তার এ আচরণ শাস্তিযোগ্য। বিচার শুরু হওয়ার দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ফৌজদারী অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাচ্চু যদি এক মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণ করে আপিল না করেন তাহলে ধৃত হওয়ার পর ফাঁসি কার্যকর করা যাবে। তবে এক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা দিয়ে বিলম্ব মার্জনার আবেদন জানিয়ে আপিল করতে পারেন। গতকাল সকাল পৌনে ১১টায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম মামলার রায় ঘোষণার কার্যক্রম শুরু হয়। ট্রাইব্যুনাল-২-এর এজলাসে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল-১-এর এজলাসে রায় ঘোষণার জন্য বিচারকরা আসেন। জনাকীর্ণ আদালতে পিনপতন নিরবতায় ১১টা ৪৬ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ার- ম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। শুরুতেই তিনি বলেন, পুরো রায় ১১২ পৃষ্ঠার। এতে ৩৩৪টি অনুচ্ছেদ রয়েছে; কিন্তু পুরো রায় না পড়ে এর সারাংশ পড়া হবে। ২৪ পৃষ্ঠার এ সারাংশ পড়তে সময় লাগে এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট। সারাংশে তিনি মামলার বিচার কার্যক্রম, আযাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়গুলো পড়ে শোনান।
রায়ে বলা হয়, সাক্ষিদের সাক্ষ্যে প্রমাণ হয়েছে, রাজাকার বাহিনীর একজন সশস্ত্র সদস্য হিসেবে আবুল কালাম আযাদ প্রত্যক্ষভাবে অপরাধ সংঘটিত করেছেন। তার নৃশংস কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি এলাকায় রাজাকার হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৪-এর ১ ধারা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি একা বা যৌথভাবে কোনো অপরাধ করলে তার দায় তাকে নিতে হবে। এ মামলার অভিযোগে দেখা যায়, আযাদ নিজে উপস্থিত থেকে তার অস্ত্রধারী সহযোগীদের সাথে মিলে অপরাধ করেছেন। এটা প্রমাণিত।
রায়ে বলা হয়, সকল সাক্ষ্য প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল সর্বসম্মতিক্রমে আসামি আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আনা তিন নম্বর (সুধাংশু মোহন রায় হত্যা), চার নম্বর (লুটপাট ও মাধবচন্দ্র বিশ্বাসকে হত্যা), ছয় নম্বর (চিত্তরঞ্জন দাসকে হত্যা) ও সাত নম্বর (গণহত্যা) অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হওয়ায় তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হচ্ছে। এক নম্বর (বাবুনাথকে নির্যাতন), পাঁচ নম্বর (বোয়ালমারীর নতিবদিয়া গ্রামের এক হিন্দু বাড়িতে দুই নারীকে গণধর্ষণ) ও আট নম্বর (এক সংখ্যালঘু তরুণীকে অপহরণ করে নির্যাতন) অভিযোগও সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়; কিন্তু চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ায় আদালাভাবে কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুই নম্বর অভিযোগটি প্রমাণিত না হওয়ায় ওই অভিযোগ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
রায়ের আদেশে বলা হয়, ফরিদপুরের বুরাখারদিয়া গ্রামের মৃত আব্দুস সালামের ছেলে আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চুর বর্তমান ঠিকানা, ঢাকার উত্তরখানের ২৭৯/৬ চানপাড়া। তার বিরুদ্ধে তিন, চার, ছয় নম্বর অভিযোগে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও সাত নম্বর অভিযোগে গণহত্যা অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩-এর ২০-এর ২ ধারা অনুসারে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হচ্ছে। পলাতক আযাদকে গ্রেফতার বা ট্রাইব্যুনালে তিনি আত্মসমর্পণের পর এ রায় কার্যকর করা হবে। আযাদকে গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এ রায়ের কপি পুলিশের আইজি ও ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।
তদন্ত ও অভিযোগ গঠন
২০১১ সালের ১০ এপ্রিল আযাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রাষ্ট্রপক্ষ গত ২৫ মার্চ আবুল কালাম আযাদকে গ্রেফতারের আবেদন করে। পরে ২ এপ্রিলের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। গত ৩ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আযাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে; কিন্তু সেদিন উত্তরখানের বাসা থেকে আযাদ রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। যদিও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আগেই তাকে নজরবন্দি করে রেখেছিলো গোয়েন্দা পুলিশ। নজরবন্দি অবস্থায় তিনি দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে কীভাবে পালিয়ে গেলেন তা নিয়েও রহস্য রয়েছে। এ নিয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দুই ছেলেকে উদ্ধারের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়ী করে হাইকোর্টে একটি হেভিয়াস করপাস রিট পিটিশন দাখিল করা হয়; কিন্তু পরবর্তীতে তার পরিবারের আইনজীবী আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতে উত্থাপন করেনি।
গত ২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৯ সেপ্টেম্বর আযাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এ সময় তাকে গ্রেফতারে আবারো নির্দেশ দেয়া হয়। তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় ২৫ সেপ্টেম্বর আযাদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার জন্য দুইটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তিনি হাজির হননি। পরে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার শুরু হয়। ৭ অক্টোবর পলাতক আযাদের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল মামলা পরিচালনার জন্য মো. আবদুস শুকুর খান নামে একজন আইনজীবীকে নিয়োগ দেয় ।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া
মাত্র দুই মাসের মধ্যে আযাদের বিরুদ্ধে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। মূলত আবুল কালাম আযাদ পলাতক থাকায় এবং তার পক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী না থাকায় দ্রুত বিচার কাজ শেষ হয়। গত ৪ নভেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আযাদের বিরুদ্ধে মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এরপর ২৬ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ৩৩ পৃষ্ঠার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর ওইদিনই তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেনসহ রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২২ জন সাক্ষ্য প্রদান করেন। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে এক নারী সাক্ষী ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আবদুর শুকুর খান তাদের জেরা শেষ করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ২২ জন সাক্ষ্য দিলেও আসমিপক্ষে কোনো সাফাই সাক্ষী হাজির করা সম্ভব হয়নি। সাফাই সাক্ষী না থাকায় ট্রাইব্যুনাল যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করে। দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মামলার কার্যক্রম শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি সাহিদুর রহমান অভিযোগের বিষয়ে এবং অপর কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী আইনী বিষয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রথম রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকায় গতকাল সকাল থেকে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিসহ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত হন। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, এম কে রহমান, চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু, রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম, সৈয়দ হায়দার আলী, মোখলেসুর রহমান বাদল, মীর ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার সৈয়দ সাইদুল হকসহ সকল কৌঁসুলি উপস্থিত ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনালের সামনে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আজকের এ বিজয় মানবতাকে সমুন্নত রাখার জন্য ১৯৭১ সাল থেকে আমরা যে চেষ্টা করছি তার বিজয়। হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, লুটপাটের অভিযোগগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়েছে। সমস্ত জাতি এতো বছর ধরে এই রায়ের জন্য অপেক্ষ?া করছিল। এই রায়ের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। এ রায়ে জাতি স্বস্তি প্রকাশ করছে। তিনি বলেন, রায়ের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি রাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিবেচনা করবেন। আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
এ মামলার প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যেসব তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। নিজস্ব আইনে পরিচালিত ট্রাইব্যুনাল স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে বিচার সম্পন্ন করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেয়াদ আল মালুম বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে, যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিরুদ্ধে সকল যড়যন্ত্রের অবসান হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রয়েছে। খুন, ধর্ষণ করে পার পাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। ৪০ বছর পরে হলেও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে আযাদের পক্ষে রাষ্ট্রের নিয়োগকৃত আইনজীবী মো. আবদুস শুকুর খান এ রায় সম্পর্কে বলেন, সাতটি অভিযোগের ভিত্তিতে আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ মামলার রায়ে আসামি সুবিচার পাননি। তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করলে সুবিচার পাবেন বলে আমি আশাবাদী। তবে আযাদের পরিবার থেকে সহযোগিতা করলে আজ তিনি খালাস হতে পারতেন। আসামির আপিলের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বলেন, রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের আপিল বিভাগে আসামি আবেদন করতে পারবেন। এ সময়ের মধ্যে আসামি আবেদন করলে আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করবে এবং শুনানি হবে। কিন্তু আসামি ৩০ দিন পরে গ্রেফতার বা আত্মসমর্পণ করলে তখন তার আপিল গ্রহণ করা হবে কিনা সে এখতিয়ার আপিল বিভাগের।
মুনতাসীর মামুন ও নাসিরউদ্দিন ইউসুফের প্রতিক্রিয়া
গতকাল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় ঘোষণার সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু। রায় ঘোষণা শেষে তারা সাংবাদিকদের কাছে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মুনতাসীর মামুন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের কাছে এ রায় মাইলফলক হয়ে থাকবে। কারণ এ অঞ্চলে প্রথমবারের মতো মানবতাবিরোধী কোনো অপরাধের বিচারের রায় এটি। এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এবং বিচার বানচালের চেষ্টা করেছিল। কবি সুফিয়া কামাল, শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, অধ্যাপক কবীর চৌধুরীসহ যুদ্ধাপর?াধীদের বিচারের দাবিতে গত ৪০ বছর ধরে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, গত ৪০ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী তথা মানবতা বিরোধীদের বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনের ফসল হচ্ছে আজকের এই রায়।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, জামায়াতকে যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। এ রায়ের মধ্যে তা স্পষ্ট হয়েছে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম আরো জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক কমান্ডের সভাপতি আকরাম হোসেন খান ও সেক্রেটারি কার্তিক চ্যাটার্জী রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
রাজধানী ঘিরে কড়া নিরাপত্তা
রায় ঘোষণার দিন ধার্য থাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যেন না ঘটে সেজন্য ট্রাইব্যুনাল ও এর আশেপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ভোর থেকেই ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের দুই গেট ছাড়াও আশপাশে মোতায়েন করা রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসবি, ডিবি ও ডিজিএফআই’র বিপুল সংখ্যক সদস্য। শুধুমাত্র ট্রাইব্যুনাল নয় মতিঝিল, রমনা, মগবাজার, শাহবাগ ও ট্রাইব্যুনাল-সুপ্রিমকোর্টের সর্বত্রই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সারাদেশেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের আশেপাশে ২০/২৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে পর্যবেক্ষণ, ট্রাইব্যুনালের প্রবেশ পথে মেটাল ডিটেক্টরসহ অন্যান্য ডিভাইস দিয়ে গাড়ি এবং ট্রাইব্যুনালে আসা প্রত্যেককেই তল্ল¬াশি করা হয়।