যুদ্ধাপরাধ বিচারের প্রথম রায়
বাংলার জনগণের নবযাত্রা শুরু হল
--- প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২২
প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রথম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের নবযাত্রা শুরু হলো। বাঙ্গালি জাতির দীর্ঘ দিনের প্রতীক্ষা পূরণ হল। নির্বাচনের আগে দেয়া আওয়ামী লীগের ওয়াদা পূরণ হয়েছে। জাতির ললাটে যে কলঙ্ক ছিল তা মোচন শুরু হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করছি। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলতে থাকবে। যখন যেখানে যুদ্ধাপরাধী পাওয়া যাবে তাদের ধরে বিচার করা হবে। কোন শক্তি এ বিচার বন্ধ করতে পারবে না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যাতে কেউ বানচাল করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রথম সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শেখ হাসিনা ভোটার ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ দেয় বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু অডিন্যান্স জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা ক্ষমতায় এসে মার্শাল অডিন্যান্স জারি করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। জেলখানায় আটক যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দেয়া হয়। অনেকের নাগরিকত্ব ফেরত দেয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ পাকিস্তানের পাসপোর্টে দেশে এসেছিল। রাজনীতিসহ সার্বিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করা হয়। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করতে পেরেছি। একজনের ফাঁসির রায়ের মধ্য দিয়ে ওয়াদা রক্ষা করতে পেরেছি। আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস এসেছে উল্লেখ করেন তিনি দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ শেষ করবো ইনশাল্লাহ।
শেখ হাসিনা বলেন, ২১ বছর পর ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু নানা কারণে বিচার শুরু করতে পারিনি। সেসময় জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা করি। এবার ক্ষমতায় এসে আমরা বিচারের রায় কার্যকর করেছি। এখন চলছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।
আওয়ামী লীগ দেশ ও জনগণের সেবা করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসেন জনগণ কিছু পায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা এসেছে। অর্থনৈতিক মুক্তিও আওয়ামী লীগ এনে দেবে। গণতন্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকার কারণে সঠিক সময়ে দলের জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠান করতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াবে। জাতি হারানো গৌরব ফিরে পাবে। বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলবে। আর যাতে মাথা নিচু করতে না হয় সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের দলকে সংগঠিত করতে হবে। প্রতিটি নেতাকর্মীকে দেশ এবং জনগণের সেবা মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।
বৈঠকের শুরুতে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতা ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। বৈঠকের শুরুতে কমিটির সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় ঘোষণায় সরকার প্রধান হিসাবে প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রারম্ভিব বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এ বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দলের সাংগঠনিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৈঠক চলছি।