বিচারকদের বেতন কাঠামো মূল্যায়নে মন্ত্রিসভা কমিটি

নিম্ন আদালতের বিচারিক হাকিমদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনায় মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি প্রয়োজনে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারিদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করে সমন্বিত বেতন কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করতে পারবে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আপিল বিভাগ সরকারকে সময় বেধে দিয়েছিল। সরকার একাধিকবার সময় নিলেও পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। সরকারের মতে জুডিশিয়াল সার্ভিসে পে-কমিশনের সুপারিশে উল্লেখ করা-বেতন কাঠামো বেশকিছু ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। জুডিশিয়াল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের মতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা না মেনে আদালতকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। অপরদিকে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের ভ্রমণভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, এক হাজার টাকা ভ্রমণভাতা বাড়িয়ে টক-শো’র যন্ত্রণা ভোগ করার দরকার নেই। তবে রাষ্ট্রপতির বাত্সরিক স্বেচ্ছাধীন তহবিল এক কোটি থেকে বাড়িয়ে দুই কোটি টাকা করা হয়েছে। স্পিকারের স্বেচ্ছাধীন তহবিল সাড়ে চার লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে। জিয়া এরশাদের অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে জারি করা যেসব অধ্যাদেশ এখনো কার্যকর রয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে সংশোধনের পর আইন প্রণয়ন করা হবে। এ সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের জন্য ২৩ জুন পর্যন্ত সময় বেধে দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, জিয়াউর রহমান এবং এরশাদ সরকারের আমলে মোট ১৭২টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। এর অনেকগুলো এখনো কার্যকর আছে। বৈঠকশেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, আইন মন্ত্রণালয় সে সময়ের অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করবে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ৯১টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিলো। এছাড়া ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ৮১টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সামরিক শাসনামলে জারি করা সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করা হয়। মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বাতিল করা এসব অধ্যাদেশের আওতায় যেসব কাজ হয়েছে সেগুলোর মধ্য থেকে কিছু কাজকে বৈধতা দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।