রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র ক্রয় চুক্তিতে অস্বচ্ছতা নেই

রাশিয়া থেকে আট হাজার কোটি টাকার অস্ত্র ক্রয় চুক্তির ব্যাপারে কোনো অস্বচ্ছতা নেই বলে জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। এ চুক্তি সম্পাদনে দেশে প্রচলিত বিধান ও নীতিমালা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে অনুসরণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ ও তাদের মতামত নিয়ে ক্রয় চুক্তি করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বিমান বাহিনীর ফ্যালকন সেন্টারে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানায়। প্রেস ব্রিফিংয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, মাস্টার জেনারেল অব অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল আব্দুল মতিন ও সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল আবু এসরার উপস্থিত ছিলেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন, জাতিসংঘ মিশনগুলোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং প্রাকৃতিক ও মানব সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলার বিষয়টি সামরিক সরঞ্জামাদি ক্রয়ের ঋণ চুক্তিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির ফলে বাংলাদেশ যে বিশাল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইইজেড) অধিকারী হয়েছে, তার নিরাপত্তার বিষয়টিও এ অস্ত্র ক্রয় চুক্তির সময় আমলে নেয়া হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ঋণ চুক্তি অনুযায়ী এক বিলিয়ন ডলারের (আট হাজার কোটি টাকা) সামরিক সরঞ্জাম কেনা হবে। এ ঋণ সাড়ে ৪ শতাংশ বার্ষিক সুদে পরিশোধ করা হবে। ঋণ ব্যবহারের সময়কাল ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত হলেও ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০ কিস্তিতে ১০ বছর ধরে এ ঋণ পরিশোধ করা হবে। সেনাবাহিনীর বার্ষিক বাজেট ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ গ্রহণ থেকে পাওয়া অর্থ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হবে। জানানো হয়, এ ঋণ চুক্তি যথেষ্ট নমনীয়। উভয় দেশের সম্মতিতে যেকোন অস্ত্র অথবা সরঞ্জাম এই চুক্তিতে সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে। চুক্তির অধীনে যাই কেনা হোক না কেন, প্রতিটি ক্রয়ের ক্ষেত্রে সরঞ্জামের সংখ্যা, মূল্য ও অন্যান্য বিষয় সন্নিবেশিত করে আলাদা চুক্তি হবে। ঋণ চুক্তির আওতায় সেনাবাহিনীর জন্য ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল, আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার ও পন্টুন ব্রিজ, বিমান বাহিনীর জন্য কম্ব্যাট ট্রেনার এয়ার ক্র্যাফট, মিলিটারি হেলিকপ্টারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনা হবে। বাংলাদেশের মতো দেশে বিশাল অংকের টাকায় এত অস্ত্র কেনার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে জানতে চাইলে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সংখ্যাটা বড় নয়। একসঙ্গে কেনা হচ্ছে বলে বড় মনে হচ্ছে। এরআগেও প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনা হয়েছে। ৪ দশমিক ৫ শতাংশ সুদ বেশি কি-না এমন প্রশ্নের উত্তরে জানানো হয়, আগে এর চেয়েও উচ্চহারে সুদ দিয়ে সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় করা হয়েছে। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে এতো বড় অংকের টাকার অস্ত্র কেনা হয়েছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জানায়, গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় থাকলে সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে চলা উচিত। তাছাড়া দায়িত্ব অনুযায়ী স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বাহিনীকে আরো সক্ষম করে গড়ে তুলতে প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্র কেনার চুক্তি হয়েছে। ক্রয় করা অস্ত্র ও সরঞ্জামের বড় অংশ জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তি মিশনে ব্যবহার হবে। অস্ত্র ক্রয় চুক্তির ব্যাপারে মন্ত্রিসভায় আলোচনা না করার কারণ জানতে চাওয়া হলে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, দীর্ঘদিন আলোচনার পর চুক্তিটি স্বচ্ছভাবে সম্পাদিত হয়েছে। চুক্তির বিভিন্ন কমিটিতে বাণিজ্য, অর্থ, প্রতিরক্ষা ও পরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর জন্য সব ধরনের সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে গোপনীয়তা রক্ষার রীতি মেনে সবকিছু করা হয়েছে।