শেষদিন পর্যন্ত আরো ৬৮ হাজার ২৪১ আবেদন
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
খসড়া ভোটার তালিকা সম্পর্কে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদনের শেষ দিন পর্যন্ত সারা দেশে আরো ৬৮ হাজার ২৪১ জন ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন। এছাড়া ভুল সংশোধনের জন্য ৮ হাজার ২৯৩, স্থানান্তরের জন্য ৫ হাজার ৬৮৭ এবং নাম কর্তনের জন্য ১ হাজার ৬২৬ টি আবেদন জমা হয়েছে। ভোটার তালিকা সম্পর্কে দাবি, আপত্তি ও সংশোধনের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ছিলো গত ১৭ জানুয়ারি। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করার শেষ তারিখ ২৭ জানুয়ারি। ৩১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় নারী ভোটার কমার বিষয়টি এখনো অজানাই রয়েছে। এ প্রসঙ্গে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা প্রকল্পের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আখতারুজ্জামান সিদ্দিকী ইত্তেফাককে বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে তথ্য পেয়েছে তাই খসড়া আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোন ঘাটতি ছিলো না।
গত ১০ মার্চ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে পর্যায়ক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলে। গত ১ জানুয়ারি পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি ছিলো তাদেরকেও এবার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গত ২ জানুয়ারি সারাদেশে হালনাগাদ ভোটারের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়।
হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকায় নিবন্ধনকৃত মোট ৬৯ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭১ ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ৪১ লাখ ৪৭ হাজার ১১৬ জন। আর নারী ভোটার রয়েছে ২৮ লাখ ৯ হাজার ৫৫৫ জন। নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটার বেশি ১৩ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬১ জন। বিদ্যমান ভোটার তালিকাতে নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হলেও নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এছাড়া এবার বিদ্যমান ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার কর্তন হয়েছে ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৬ জন। স্থানান্তর হয়েছেন ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭০৪ জন। তবে ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রমে প্রতি জেলায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে পুরুষ ভোটার। হালনাগাদে নতুনভাবে নিবন্ধনকৃত মোট ভোটারের ৬০ শতাংশই পুরুষ ভোটার। সবচেয়ে বেশি পুরুষ ভোটার বেড়েছে ফেনী জেলায়। এখানে নিবন্ধনকৃত মোট ভোটারের প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ ভোটার। এরপরে যথাক্রমে ভোটার বেড়েছে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে। অন্যদিকে নারী ভোটার কমেছে ব্যাপকভাবে। মোট হালনাগাদে নিবন্ধনকৃত ভোটারের মাত্র ৪০ শতাংশ নারী ভোটার। ৬৪টি জেলার প্রতিটিতেই কমেছে নারী ভোটার সংখ্যা। তবে পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির এই হার ২০০৮ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, ২০১০ সালের হালনাগাদ এবং জনসংখ্যার হিসাবের সঙ্গে অসামঞ্জস্য। আদমশুমারিতে নারী-পুরুষ সমান হলেও ভোটারের ক্ষেত্রে দেখা গেছে ভারসাম্যহীন। এদিকে ভোটার হালনাগাদে নারী ভোটার অস্বাভাবিকভাবে কেন কমে গেলো সে প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো জবাব সংশ্লিষ্টরা দিতে পারছেন না। বিষয়টিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন অনেকেই। খসড়া তালিকা প্রকাশের পর যারা নতুন করে আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে নারী ভোটার কত সে প্রশ্নেরও জবাব নেই। কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব বিশ্বাস লুত্ফর রহমান এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা মোট সংখ্যা সম্পর্কে তথ্য পেয়েছি। এ বিষয়ে নারী-পুরুষ আলাদা করে তথ্য চাওয়া হয়নি।
ঢাকার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা জেলায় আরো ২ হাজার ৯৫০ জন ভোটার হতে আবেদন করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ নারী। নাম কর্তনের জন্য আবেদন করা হয়েছে ৩টি। এছাড়া ভুল সংশোধনের জন্য ৩৮১ ও স্থানান্তরের জন্য ৬৬টি আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ২০০৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে মোট ৮৬ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬৫ জন নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়। এর মধ্যে নারী ভোটার ছিলো ২০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৮৬ এবং পুরুষ ভোটার ছিলো ২৬ লাখ ১১ হাজার ২৭৯ জন। এছাড়া সে সময় নতুন ভোটারদের মধ্যে ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮২ ভোটার ছিলো ২০০৮ সালে বাদপড়া ভোটার। এতে আমাদের ধারণা, দেশে নারী ভোটার আসলে বেশি নয়।
২০০৮ সালে দেশে নারী ভোটার ছিলো ৪ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৪৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ছিলো ৩ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ১৪৯ জন। অর্থাত্ ৫ বছর আগে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটার ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৪শ’ জন বেশি ছিলো। কিন্তু এবারের ভোটার হালনাগাদে ভিন্ন তথ্য মিলেছে। নতুন ভোটারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা অনেক কম।