সিলেটের পল্লীতে জনতার রুদ্ররোষের শিকার কয়েক ছাত্রলীগ নেতা
প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
সিলেটের কানাইঘাটে ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের এলজিএসপি প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করতে গিয়ে গত রবিবার ছাত্রলীগের রোষানলে পড়ে তদন্তকারী দল। ছাত্রলীগ নেতারা তদন্তকারী দলের সামনেই গ্রামের সাধারণ যুবককে পিটিয়েছে। গ্রামবাসীও উত্তম-মধ্যম দিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন ।
এলাকাবাসী জানান, কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের ২০১০-১১ অর্থবছরে এলজিএসপির বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাত্ ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এলাকাবাসী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বরাবর। এই অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটি রবিবার সেখানে যায়। উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াজ মাহমুদের নেতৃত্বে এলজিইডির একদল কর্মকর্তা অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করতে যান। এদিন বুরহানউদ্দিন-কচুপাড়া ব্রিকসোলিং রাস্তার কাজ তদন্তের সময় প্রকৌশলী রিয়াজ মাহমুদ গত বছর এ রাস্তায় কাজ হয়েছে কিনা এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা বিলাল আহমদের কাছে জানতে চান। বিলাল নেতিবাচক জবাব দিলে উপস্থিত উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল ইসলাম হারুন, ছাত্রলীগ নেতা মারুফ আহমদসহ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের পক্ষ নিয়ে বিলাল আহমদকে বেধড়ক পেটাতে শুরু করে। এলাকার লোকজন তাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে এলে তাদের উপরও আক্রমণ চালায় ওরা। লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা হামলা ও প্রহার করে নেতাদের। এলাকাবাসী ছাত্রলীগ নেতাদের দুটি মোটরসাইকেল আটক করে। উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকাবাসী এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ও মোটরসাইকেল দুটি পুলিশের হাতে তুলে দেন। ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে এলজিএসপির টাকা আত্মসাত্ ও বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উপজেলা প্রকৌশলী রিয়াজ মাহমুদ জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি সরেজমিনে তদন্ত করেছেন।