শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড

অষ্টম, নবম, দশম শ্রেণির উপযোগী আজকের ভাব-সমপ্রসারণ করেছেন আব্দুল্লাহ আল মামুন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা বা জ্ঞানই মানুষের জীবনধারণ ও উন্নতির প্রধানতম সহায়ক বা নিয়ামক হিসাবে আখ্যায়িত। একদা গুহাবাসী আদিমমানব আজ যে বিষ্ময়কর সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে তার পেছনে রয়েছে মানুষের যুগ-যুগান্তরের অর্জিত জ্ঞান ও অর্জনের প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার নামই হল শিক্ষা। এক সময় শারীরিক সামর্থ জাতির গর্বের বিষয় ছিল, প্রকৃতি প্রদত্ত ঐশ্বর্য জাতির অহমিকার উপাদান যুগিয়েছে। কিন্তু জ্ঞান বিজ্ঞানের বিষ্ময়কর উন্নতির এ যুগে জাতীয় জীবনে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনের বিকাশে শিক্ষা এক অবিকল্প ব্যাপার। শিক্ষাহীন মানুষ তার নিজের মঙ্গল বোঝে না। জ্ঞান বিজ্ঞানের আলোয় অলোকিত নয় বলে পদে পদে সে অন্ধকার দেখে। অজ্ঞতার অন্ধকারে নিমজ্জিত নিরক্ষর জনগোষ্ঠি তাই জাতির জন্য বোঝাস্বরূপ। ‘নিশ্চল জীবন পঙ্কে’ রুদ্ধ এ মানুষেরা যত দিন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত থাকবে, জাতির দুর্ভাগ্য ততই প্রবলতর হতে থাকবে। এ দুস্থ মানুষেরা নিজেরাই মানবেতর জীবনযাপন করবে, সেই সাথে জাতির অগ্রগতির পথে দুর্লঙ্ঘ বাধা সৃষ্টি করবে। জাতির আত্মনির্ভর হয়ে সমাজ প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে পারবে না। তেত্রিশটি কশেরুকার সমন্বয়ে গঠিত একটি ঋজু অস্থি আমাদের এই সুঠাম দেহকে কর্মক্ষম রেখেছে। এরই নাম মেরুদণ্ড। এর কোন ক্ষতি মানুষকে জড়প্রায় নির্জীব প্রাণীতে পরিণত করে যার অস্তিত্বই হয় পরনির্ভর। কোনো আশা বা স্বপ্ন তার কাছে মনে হয় অলীক, অচেনা। শিক্ষাবঞ্চিত জনগোষ্ঠি একই রকমভাবে অস্তিত্বর জন্যই পরান্নুখ, প্রতিযোগিতা পৃথিবীতে একেবারেই অসহায়। প্রাচীন কাল থেকেই দেখা যায়, যে জাতি শিক্ষা-দীক্ষায় উন্নত, সে জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞান, শৌর্য-বীর্য ও প্রভাব-প্রতিপত্তি তত বেশি। প্রাচীন গ্রীকজাতি তাঁদের শিক্ষাদীক্ষার জন্যই আজও আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এ যুগে অশিক্ষিত মানুষের কর্মদক্ষতা ও উত্পাদন ক্ষমতার মান স্বাভাবিক ভাবেই নিম্ন হয়। ফলে জাতির যে কোনো কল্যাণমুখি পদক্ষেপে এরা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। প্রথাবদ্ধ সংস্কার বশত শিক্ষাহীন মানুষ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণকে মেনে নিতে পারছে না বিধায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আমাদের দেশে ঈস্ফিত অগ্রগতি হচ্ছে না। অন্ধবিশ্বাস তাদের এমন নির্বোধ করে রেখেছে যে সর্বজনীন কোন কর্মসূচিতে নিরক্ষর মানুষের অংশগ্রহণ ঘটছে না। শিক্ষা বিবর্জিত মানুষ এসব বিষয়কে পিছিয়ে দেয়, জাতিকে পরিণত করে ন্যুব্জ, গর্বহীন, দীপ্তিহীন জনগোষ্ঠিতে। বস্তুত, শিক্ষার প্রসারই পারে সব সংস্কার, জড়তা দূর করে জাতিকে গতিশীল করতে, সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম করে তুলতে, আশা ও স্বপ্ন দেখার সাহস যোগাতে। তাই ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিহার্য। সুতরাং, শিক্ষা মানবজাতির জন্য এক মহার্ঘ বিষয়। এটা ব্যতীত মানুষের কল্যাণ কখনই সম্ভব নয়। আজকে পৃথিবীর এই যে প্রগতি ও প্রাচুর্য, তার মূলেও রয়েছে শিক্ষার বিস্তৃত প্রভাব।