বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ
দক্ষিণাঞ্চলের আলোকবর্তিকা
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৬
একজন অশ্বিনী কুমার দত্ত। ১৮৮৮ সালে তিনি বাবা ব্রজমোহন দত্তের নামে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। অপেক্ষা করতে হয় এক বছর। কেননা সরকারি অনুমতি মেলেনি তখনও। পরের বছর ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই যাত্রা শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান জ্ঞানেন্দ্রনাথ চৌধুরী। এরপর পেরিয়ে গেছে ১২৩ বছর। ১৯৬৫ সালের জুলাই মাসে ব্রজমোহন কলেজ সরকারি হিসেবে পূর্ণতা লাভ করে। বর্তমানে এই কলেজে ২১টি বিষয়ে অনার্স এবং ২০টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। এছাড়া পরিসংখ্যান বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু করার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে বিএম কলেজ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে। তবে এক দিনেই এসব কোর্স চালু হয়নি। এর পিছনে রয়েছে লম্বা ইতিহাস।
জানা গেছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বিএম কলেজের শিক্ষাদান পদ্ধতি ও পরীক্ষার ফলাফলে সন্তুষ্ট হয়ে অনার্স কোর্স চালুর অনুমতি দেয়। তারই অংশ হিসেবে বিএম কলেজে চলমান ২১টি অনার্স বিষয়ে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। প্রতিবছর বিভিন্ন বিষয়ের প্রথম ১০টি আসনের মধ্যে বিএম কলেজের এসব শিক্ষার্থীরা একাধিক আসন অর্জন করে নেন। এছাড়া বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, আব্দুল ওহাব খান, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহম্মেদ, বর্তমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, হুইপ আসম ফিরোজ, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, লে. কর্নেল দেলোয়ার হোসেন বীরপ্রতীক, প্রখ্যাত আইনজীবী ও আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট মুনসুর আহাম্মেদ প্রমুখ এ কলেজেরই কৃতী শিক্ষার্থী।
আন্দোলন সংগ্রামে বিএম কলেজর অবদান রয়েছে। মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্তের নেতৃত্বে বিএম কলেজকে কেন্দ্র করে স্বদেশি আন্দোলন শুরু হয়। ওই আন্দোলনের ফলে বাঙালিদের ঘুমন্ত জাতীয়তাবোধ বিকাশ লাভ করে। যে জাতীয়তাবাদের আন্দোলনে অশ্বিনী কুমার দত্ত ও চারণ কবি মুকুন্দ দাস বিএম কলেজের শিক্ষার্থী তথা বরিশালবাসীকে জাগ্রত করেছিলেন, সেই পথ ধরেই এ কলেজের শিক্ষার্থীরা ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪’র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬’র ৬ দফা, ১৯৬৯’র গণআন্দোলন এবং ১৯৭১’র স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের এক সাগর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে এ কলেজের শিক্ষার্থীদেরও রক্ত। এছাড়া ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ওয়ান-ইলেভেনের সময় প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
বিএম কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র রইজ আহাম্মেদ ও ইংরেজি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র অনিক সেরনিয়াবাত বলেন, ‘বিএম কলেজ আমাদের অহংকার। দক্ষিণাঞ্চলের আন্দোলন সংগ্রামের সূতিকাগার এটি। কিছু সমস্যা আছে। বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস বলেন, ‘এত বড় একটি প্রতিষ্ঠানে কম বেশি সমস্যা থাকবেই। তবে সব সমস্যা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।