ক্যাম্পাসের ডায়েরি
দেখা হবে বন্ধু
ফারিবা সুলতানা দিনা ও প্রিন্স
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৯
হাড় কাঁপানো শীতের হিমেল হাওয়ায় ক্যাম্পাসের হল থেকে বের হওয়া যাচ্ছিল না। বের হওয়ার দরকারই বা কী! দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিনন্দন সবুজ ক্যাম্পাসে শিক্ষা সমাপনীর আনন্দে শতাধিক বিদ্যার্থীর এই হাড় কাঁপানো শীতের হিমেল হাওয়ায় হারিয়ে যাওয়ায়। সবাই সেজেছে একই পোশাকে। ছাত্ররা পরেছিল অনুষদ ও ব্যাচের নাম খচিত কালো গেঞ্জি এবং ছাত্রীরা পরেছিল কালো গেঞ্জির সাথে গলায় এবং কানে পরেছিল বাহারি ডিজাইনের গহনা। জীবনের একটি অন্যতম অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে খচিত হলো তাদের বিদায়ের এই দিনটি।
সত্যি বলতে কি, এ অনুভূতি প্রকাশ করার কোন ভাষা নেই। এমনিভাবে ভাষা ছাড়াই প্রকাশ করলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই অনুষদের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের ৯ম ব্যাচের বিদায়ী শিক্ষার্থী রাজিব, জাহিদ, বাপ্পী, উজ্জল, গোলাম মাওলা, বাপ্পা, সেতু, নীল, আজিম, রাজু, প্রদীপ, সোলায়মান, লিমন, অনিক, লোকমান, তাপস, দীপু, তরিকুল, কাদির, রাজু, মাহফুজ, আজম, নিসা, তানিয়া, দিপা, হাফসা বিথী, সাথী, মিতু, স্বর্ণা, রাখী, রিংকি, নুসরাত এবং শানু। ১৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হলো উক্ত অনুষদের জমকালো আনন্দ বেদনার শিক্ষা সমাপনী উত্সব। ভালোবাসার রঙ্গে মন রাঙ্গিয়ে উত্সবে মেতেছিল বিদায়ীদের সাথে ক্যাম্পাসবাসী। ছিল ভালোবাসার স্নিগ্ধ পরশ বোলানো দিবসের স্মৃতিময় একটি দিন। সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। শিক্ষার্থীদের ভিড়ের কারণে বলতে গেলে ওই সময়টায় অডিটরিয়ামের ভিতরে দাঁড়ানোর তিল ধারণের জায়গা ছিল না।
অনাবিল আনন্দকে সঙ্গে নিয়ে এবং বিদায়ের দুঃখকে সঙ্গে করে এ অনুষ্ঠান সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একাডেমিক ভবনের সামনে এসে শেষ করে। বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় মাঠে চলে, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয় বিস্কুট দৌড়, মোরগ যুদ্ধ, কৌটা ভাঙ্গা, ডিম ভাঙ্গা, ও বালিশ খেলা প্রতিযোগিতা। এর পরে চলে ফটোসেশন। বিকাল ৬টায় কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত ১১টায় অডিটরিয়ামে চলে প্যাকেট বিরানী ভোজ।