শিক্ষকের সহায়তার উদ্যোগ
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৯
পেনশনের টাকা পাওয়া মানেই ভোগান্তির করুণ কাহিনী। মাসের পর মাস; বছরের পর বছর সরকারি দফতরে ঘুরে ঘুরে জুতার তলা ক্ষয় করানোর অনেক কাহিনীই পত্র-পত্রিকা, নাটক, সিনেমায় দেখা যায়। কিন্তু এর ব্যতিক্রম ঘটনাও ঘটে, তারই একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট। ট্রাস্টের সদস্য সচিব নিজে ঢাকা থেকে সুদূর পাবনায় অবসরপ্রাপ্ত অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে এসে তার হাতে তুলে দিলেন কল্যাণ সুবিধার চেক। স্থাপন করলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, পাবনা জেলার আতাইকুলা মাধপুর একে ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোসাম্মত শওকত আরা খাতুন কল্যাণ ট্রাস্টে তার কল্যাণ সুবিধার টাকার জন্য আবেদন করেন। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিশেষ বিবেচনায় তার আবেদনটি নিষ্পত্তি করেন ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু একজন মহিলা মুক্তিযোদ্ধার প্রতি সম্মান জানাতে নিজেই পাবনায় এসে মোসাম্মত শওকত আরা খাতুনের হাতে কল্যাণ সুবিধার চেক তুলে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব শওকত আরা খাতুনের পাবনা শহরের বাড়িতে এসে তার হাতে ৪ লাখ ৫ হাজার ৯২৮ টাকার চেক তুলে দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহাব, অধ্যক্ষ তেলোয়াত হোসাইন।
কল্যাণ সুবিধার চেক হাতে পাবার পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে শওকত আরা খাতুন বলেন, বছরের পর ঢাকায় ধরনা দিয়েও যেখানে কল্যাণের টাকা পাওয়া যায় না, সেখানে কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব স্যার ঢাকা থেকে পাবনায় আমার বাড়িতে এসে আমার হাতে চেক তুলে দিয়েছেন। এ যেন স্বপ্নের মত মনে হচ্ছে। এ জন্য আমি কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু বলেন, একজন অসুস্থ মহিলা মুক্তিযোদ্ধার হাতে কল্যাণের চেক তুলে দিতে পেরে আমি গৌরব বোধ করছি।