আমার প্রিয় বই

পথের পাঁচালী

কিশোর সংস্করণ বই পড়া শখ অনেকের। আমিও নিয়মিত বই পড়ি। কখনো কখনো পাঠ্যপুস্তকের বাইরে একটি ভালো বই পড়ার জন্য আমার প্রিয় স্যারকে বলি, একদিন স্যার আমাকে একটি বই হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন— বইটি বাড়ি নিয়ে পড়ে দেখো। বই নিয়ে সোজা বাড়ি ফিরে এলাম। আসার পথে বইটির মলাটে দেখলাম নাম লেখা আছে—পথের পাঁচালী। মলাটে আরো আছে আঁকা একজন কিশোরী ও একটি শিশুর ছবি। তারা হাত ধরাধরি করে চলছে। বাড়ি গিয়ে বইটি পড়তে শুরু করলাম। একি এখনও পড়ছিস যে! নাওয়া-খাওয়া নেই নাকি?’ আমার মা বললো- তাকিয়ে দেখি দুপুরের খাবারের সময় পেরিয়ে গেছে। তবু বইটি ছাড়তে ইচ্ছে করছে না। যতই পড়ছি ততই পড়তে ইচ্ছে করছে। পড়তে পড়তে মনে হলো যে আমিও সেই হরিহর পরিবারের একজন সদস্য। যে পরিবারের বর্ণনা দিয়েছেন বিভূতি ভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তার অপূর্ব লেখনিতে। যেখানে, যে পল্লী-সমাজে, যাদেরকে সুখ পাখি কখনও দেখা দেয় না। দুঃখ-দুর্দশা যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তার মাঝে সেই অপু দুর্গার ডানপিটে জীবন। তার সেই পথচলা, বনে বনে ঘুরে বেড়ানো, আম কুড়ানো, অবাধ্য মন, চারদিকের পৃথিবীর প্রতি কৌতূহল, ছোট ভাইয়ের প্রতি অবাধ স্নেহ, ছোট ভাইয়ের চাওয়া পূরণ করতে না পারার বেদনা—সবকিছুতে মুগ্ধ হয়ে গেছি। দু’ভাই-বোনের সেই বনভোজন, লতাপাতার দোকান, পাতার টাকা সব কিছুতে যেন নিজেকেই খুঁজে পেয়েছিলাম। কারণ ওরকম একটা দিন আমিও কাটিয়েছি। আমিও সেরকম একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে আর থাকতে পারলাম না। দেখি নিজের অজান্তেই দু’চোখ বেয়ে অবাধ্য জলগুলো গড়িয়ে পড়ছে, যখন দেখলাম দুর্গার মৃত্যু হয়েছে। যখন সেই ঝড়ের রাতে দুর্গা জ্বর নিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ঝড়ের পানিতে ভিজতে ছিল। যখন একবার সেই রাতে জেগে উঠে তার ভাইকে বলেছিল— আমাকে একদিন ট্রেন দেখাবি?.................? সেগুলো এখনও আমি ভুলতে পারি না। দুর্গার সেই শেষ কথাটি এখনও আমার কানে প্রতিধ্বনিত হয়। মনে হয় দুর্গা যেন আমাকেই বলছে—আমাকে একবার ট্রেন দেখাবি? মো. আবু তাহের, কাটাখালি, বামনা।