কোনটি বেশি প্রয়োজন—সমরাস্ত্র ক্রয় না শিক্ষকদের বেতন প্রদান
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৯
সরকার বেশ কয়েকদিন ধরে বেতনভাতার সরকারি অনুদান বা এমপিওভুক্তির (মান্থলি পে অর্ডার) দাবিতে আন্দোলনরত বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের আন্দোলনে বাধার সৃষ্টি করছেন। শিক্ষকদের ওপর লাঠি চার্জ, জলকামান থেকে গরম পানি নিক্ষেপ ইত্যাদি দেখতে খারাপ লাগে। কিন্তু মশা বা তেলাপোকার ওপর অ্যারোসল স্প্রে করার মতো পিপার স্প্রে নামের গ্যাস স্প্রে করা হচ্ছে। শহীদ মিনার, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, প্রেসক্লাব কোথাও তাদেরকে দাঁড়াতে দেয়া হচ্ছে না, মানবাধিকার কমিশনের সামনে থেকে তাদেরকে বিতারণ করা হয়েছে।
শিক্ষকদের বেতন দেয়ার অর্থ থাকে না, কিন্তু সমরাস্ত্র কেনার অর্থের অভাব হয় না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটও বেশি মনে হয় না! স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বছরে কয়েকশত কোটি টাকা খরচ করে এমপিওভুক্তির আর্থিক সঙ্গতি সরকারের নাই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। অথচ সম্প্রতি রাশিয়ার কাছ থেকে আট হাজার কোটি টাকার (১০০ কোটি ডলার) সমরাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। যে দেশের শতকরা ৩১ ভাগ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে, যেখানে এখনো মাথাপিছু গড় আয় মাত্র ৮০০ ডলার, শুধু অর্থের অভাবে পদ্মা সেতুর মতো একটি বড় যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, সেই দেশে ঋণের টাকায় আধুনিক সমরাস্ত্র কেনার যৌক্তিকতা কতটুকু তা ভাবনার বিষয়। আমাদের সন্তানদের যাঁরা শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন, তাঁদের মানবেতর জীবন-যাপন কিংবা ইট ভাটায় দিনমজুরির কাজ করা আমাদের ভাবায় না। আমাদের শিক্ষকদের ওপর গ্যাস স্প্রে করা হবে এবং শিক্ষকরা স্প্রে খেয়ে আর ভাত-কাপড় না পেয়ে খুব সম্মান, মর্যাদা আর মনোযোগের সঙ্গে শিক্ষা বিতরণের মহান কাজটি করে যাবেন!
শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি খ্যাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র শিক্ষকদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেক ভালো ফলাফল করছে, দেশ শিক্ষায় প্রতিবছরই নতুন রেকর্ড গড়ছে, দেশে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে— কিন্তু সেই মহানায়করা বারবার উপেক্ষিতই থেকে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু সবার আগে প্রয়োজন শক্তিশালী একটি প্রতিরক্ষা নীতি। আমরা পৃথিবীর সুখী দেশ হিসেবে পরিচিত। আমাদের বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বেশ ভালো সম্পর্ক। আর একটি দেশের প্রতিটি মানুষ যদি শিক্ষিত হয়, মূল্যবোধ সম্পন্ন হয় তাহলে তারা প্রকৃত দেশপ্রেমিক হবে, দেশের জন্য কাজ করবে। শুধু সামরিক অস্ত্র কোনো দেশকে রক্ষা করতে পারে না যার প্রমাণ আমরা ১৯৭১ সালে পেয়েছি। এদেশের নিরস্ত্র দেশপ্রেমিক জনগণ দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসার পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছেন। সুতরাং জাতির বিবেকের কাছে প্রশ্ন কোনটি বেশি প্রয়োজন— সমরাস্ত্র ক্রয় না শিক্ষকদের বেতন প্রদান?
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়