দর্শনার্থীদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে

নতুন বছরের শুরুতেই গত ২ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং তা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেছেন— ঢাকাবাসীর জন্য এটি নববর্ষের উপহার। আমরা এ উপহার দিতে পেরে আনন্দিত। সত্যিই আলোচিত হাতিরঝিল-বেগুনবাড়ি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পটি রাজধানীবাসীর জন্য বর্তমান মহাজোট সরকারের একটি বড় উপহার। বৃষ্টির পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, বৃষ্টি ও বন্যা জনিত পানি ধারণ, নগরের নান্দনিক সৌন্দর্য বর্ধন, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনসহ সার্বিক পরিবেশ উন্নয়ন করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। দেশীয় পরামর্শকদের তৈরি করা নকশা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। রাজউকের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন এটি বাস্তবায়নের কাজ করে। আলোচিত এ প্রকল্পটি ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে সহায়তা করার পাশাপাশি রাজধানীবাসীর নির্মল বিনোদনের সুযোগ করে দেবে—এ প্রত্যাশায় নগরবাসীর মধ্যে রয়েছে ব্যাপক উত্সাহ-উদ্দীপনা। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ অবসর বিনোদনের জন্য এখানে ভিড় করেন। অনেকেই সপরিবারে বেড়াতে আসেন এই নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য। এর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাস্তার ধারে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জাতের ফুলগাছ ও সৌন্দর্য বর্ধনকারী বৃক্ষ। সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ফলে সন্ধ্যার পর এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সব মিলিয়ে পুরো প্রকল্পটি সত্যিই এক নান্দনিক সৌন্দর্যের আধার। কিন্তু কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো দেখতে অনেক বিশ্রী ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন যত্রতত্র মলত্যাগ করা, ঝিলের পানিতে আবর্জনা ফেলা, পরিত্যক্ত ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র পানিতে ছুড়ে মারা ইত্যাদি। সবচেয়ে আপত্তিকর যে বিষয়টি তা হলো ঝিলের ঠিক মাঝখানে একটি ভাসমান টিনশেড মসজিদ রয়েছে। সেখানে মুসল্লিদের ব্যবহারের জন্য একটি খোলা টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে যা সরাসরি ঝিলের পানির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এতে পরিবেশ যেমন দূষিত হচ্ছে তেমনি তা দেখতেও ভীষণ বিশ্রী দেখায়। এসব প্রতিরোধে সর্বপ্রথম জনসাধারণের সচেতনতা প্রয়োজন। রাজউক-এর পক্ষ থেকেও বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন—  ভাসমান টিনশেড মসজিদটি স্থানান্তর করে সেখানেই ঝিলের ধারে পরিকল্পিতভাবে একটি স্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করা।  রাস্তার পাশে সুবিধাজনক স্থানে কিছু স্থায়ী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা।  পর্যাপ্ত পরিমাণ ডাস্টবিন স্থাপন করে সাধারণ দর্শনার্থীদের সেগুলো ব্যবহারে উত্সাহিত করা।  ঝিলের পানি পরিষ্কার রাখার জন্য নিয়মিত বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করা। জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কথা লিখে তা সেখানে প্রচারের ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি ঝিলের পরিবেশ রক্ষায় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন ও দায়িত্ববান হতে হবে। যেখানে সেখানে আবর্জনা না ফেলে ও মলত্যাগ না করে নির্দিষ্ট স্থানে তা করতে হবে। এমন কোনো কাজ করা ঠিক নয় যাতে ঝিলের পানি ও পরিবেশ দূষিত হয়। একটি দৃষ্টিনন্দন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ উপহার দেয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। তবেই ঝিলের সৌন্দর্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়