ত্বক ফর্সা করার ক্রিমে মিলেছে মারকারি

রাজশাহীর দু’টি প্রসাধনী তৈরির কারখানা সিলগালা করে দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ওই দুই প্রতিষ্ঠানে উত্পাদিত ত্বক ফর্সা করার ক্রীমে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী পারদ পাওয়া যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। অভিযান চলাকালে কয়েক হাজার কৌটা ক্ষতিকর ‘স্কীন ক্রীম’ এবং ক্রীম তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ ও জনসম্মুখে ধ্বংস করে আদালত। এছাড়া প্রতিষ্ঠান দু’টির মালিকদের জেল-জরিমানা করে। গত সোমবার নগরীর সপুরাস্থ বিসিক এলাকায় এবং পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সূত্র জানায়, সপুরার ‘জিএম কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ দীর্ঘদিন ধরে ১৪টি পণ্য উত্পাদন ও বাজারজাত করে আসছে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাদের উত্পাদিত স্কীন ক্রীমের প্রতি কেজিতে ৩৪২ দশমিক ৮৩ মিলিগ্রাম ‘পারদ’ পাওয়া গেছে। এ জন্য এগুলোর উত্পাদন ও বাজারজাত নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে বাজার থেকে তাদের ৬ প্রকার স্কীন ক্রীম প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, অনুমতিবিহীন ক্ষতিকর প্রসাধনী সামগ্রী উত্পাদন ও বাজারজাত করার কারণে ‘জিএম কেমিক্যাল ওয়ার্কস্’র মালিক ডা. গোলাম আরিফ জিয়াকে (৫৫) বিএসটিআই অধ্যাদেশ এর ধারায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত ক্রীমে ক্ষতিকারক পারদ ব্যবহার করায় মেসার্স মডার্ন কেমিক্যাল অ্যান্ড হারবাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মালিককে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ও কারখানা সিলগালা এবং ক্রীমের ৮০ কেজি কাঁচামাল ও প্যাকেটজাত ক্রীম ধ্বংস করে। এছাড়া এক সপ্তাহের মধ্যে বাজার থেকে স্কীন ক্রীম প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলমগীর কবির এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।