পবিপ্রবিতে আওয়ামী লীগ
ছাত্রলীগ সংঘর্ষে আহত ৪০
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
প্রায় অর্ধ-কোটি টাকার টেন্ডার জমা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাথে স্থানীয় ঠিকাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের দেড়ঘন্টা ধরে দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এসময় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। বেলা সাড়ে ১১টায় পবিপ্রবির প্রশাসনিক ভবনের প্রকৌশল শাখার অহ্বানকৃত ৭ গ্রুপের প্রায় অর্ধকোটি টাকার নির্মাণকাজের সীমিত টেন্ডার দাখিলে বাধা দিলে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সাথে স্থানীয় ঠিকাদারসহ উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে দাঙ্গা পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।
শুরুতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের ধাওয়ার মুখে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের কর্মীরা কিছুটা পেছনে হটে গিয়ে শেরে-ই-বাংলা ছাত্রাবাস থেকে লাঠি-সোঁটা, লোহার রড, ছ্যানা, কিরিজ নিয়ে এসে পাল্টা ধাওয়া করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বাধে। ক্যাম্পাস ছাত্রলীগ একাডেমিক ভবনের সামনে ও উপজেলা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় গেটের বাইরে অবস্থান নিলে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় ক্যাম্পাসে বেশকিছু পটকা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীরা ক্যাম্পাসের কেন্দ ীয় কেন্টিন ভাংচুর করে এবং দ্বিতীয় গেটে অবস্থানরত স্থানীয় ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও ছাত্রলীগের নেতা-কমীদের ধাওয়া করে। এসময় ক্যাম্পাসের বাইরে দোকানপাটে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ক্যাম্পাস ছাত্রলীগের সজীব মোল্লা, উপজেলা যুবলীগের বাবু, জুয়েল, মাসুদ, রুবেল, হাসান, জসিম, স্থানীয় ঠিকাদার আবুল কালাম মৃধা, ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম খান, যুবলীগ কর্মী ঝন্টুসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৪০ জন আহত হন। গুরুতর আহত আবুল কালাম আজাদ ও হাবিবুর রহমানকে বরিশাল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতরা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টার, উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সসহ বিভিনস্থানে চিকিত্সা নিয়েছে।
পরিস্থিতি থানা পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে ও বহিরাগতরা বাজারে অবস্থান নিয়ে তাদের প্রস্তুতি আরো জোরদার করে। এঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে বহিরাগতদের সমর্থন জোগাচ্ছে। সেখানে এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আরো সহিংসতার আশঙ্কায় র্যাব ও পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের এবং উপজেলা প্রশাসন ও আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ স্থানীয়দের নিবৃত করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মোতালেব খান জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে টেন্ডার দাখিল প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা আহ্বান করেছে।
এদিকে, ক্যাম্পাসের বাইরে দোকানপাট হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় এলাকাবাসী আজ বুধবার দুমকীতে হরতাল আহ্বান করেছেন।