উত্পাদন খরচ বেড়েছে ২০ ভাগ
চট্টগ্রামে ৫ হাজার হেক্টর
বোরো চাষ কমেছে
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২০
চট্টগ্রামে উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। প্রতি কানি জমিতে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে কৃষককে। বিদ্যুত্, ডিজেল ও শ্রমিকদের খরচ বৃদ্ধির কারণে উত্পাদন খরচ বেড়ে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ফলে লোকসান পোষাতে জমির মালিকদের মধ্যে অনেকেই বর্গা দিয়ে দিচ্ছে। গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ৫ হাজার হেক্টর কম বোরো চাষ হয়েছে। যাদের কোন জমি নেই ও আয়ের বিকল্প কোন উত্স নেই তারাই হাড় ভাঙা পরিশ্রম করে কৃষি কাজে জড়িত রয়েছে বলে কৃষি কর্মকর্তারা জানান।
চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলা ও মেট্রো এলাকায়ও কিছু বোরো চাষ হয়ে থাকে। বাঁশখালী উপজেলার কৃষি অফিস জানায়, বোরোর বীজতলা হয়ে গেছে। কিছু এলাকায় চারা রোপণও শুরু হয়েছে। কিন্তু উত্পাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। কৃষি অফিস জানায়, বোরো ক্ষেতে পানির খরচ বাবদ এলাকা ভেদে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রতি কানিতে উত্পাদন খরচ পড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা। আর আয় হয় ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
এদিকে সাতকানিয়ায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হবে। এর আগে ৬০ থেকে ৭০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সিরাজ উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, ‘বর্তমানে বাজারে ধানের চেয়ে চালের দাম অনেক বেশি। দৈনিক ৫শ’ টাকার নিচে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন বিদ্যুত্ সংযোগ পাওয়া যাচ্ছে না। ডিজেলের দাম বেড়েছে। ফলে প্রতি হেক্টরে ৪/৫ হাজার টাকা কৃষকদের লোকসান দিতে হচ্ছে। লোকসানের কারণে এবার সাতকানিয়ায় বোরো চাষ গতবারের চেয়ে কম হবে।’ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমার এলাকায় এবার ৮ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার চট্টগ্রাম জেলায় ৬৪ হাজার ৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে চট্টগ্রামে পুরোদমে বোরো চাষ শুরু হবে। চট্টগ্রামের ১৪টি উপজেলার মধ্যে রাঙ্গুনিয়া, বাঁশখালী, রাউজান, সাতকানিয়া, ফটিকছড়ি ও আনোয়ারায় সবচেয়ে বেশি বোরো চাষ হয়।