পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে বিশ্বাসী নই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারে বিশ্বাসী নই। পুলিশ আইন অনুয়াযী নিরাপত্তা বিধানে কাজ করবে। আইন ভঙ্গকারী যতই শক্তিশালী হোক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনাই পুলিশের কাজ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘পুলিশ সপ্তাহ -২০১৩’ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। পুলিশ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। সন্ত্রাস, অপরাধ দমন, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন, শান্তি, ন্যায়-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মহান দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের চার বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সময়ে আমরা প্রচুর উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আর এতে পুলিশ বাহিনীর ব্যাপক ভূমিকা ছিল। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর পুলিশকে একটি আধুনিক, গতিশীল, যুগোপযোগী, জনমুখী সার্ভিসে পরিণত করতে ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছি। জাতির পিতা প্রদত্ত আইজিপি’র র্যাংক ব্যাজ ২৮ বছর পর পুনঃপ্রবতন করেছি। এসআই, সার্জেন্ট পদকে দ্বিতীয় শ্রেণী ও ইন্সপেক্টর পদকে প্রথম শ্রেণীর নন-ক্যাডার পদে উন্নীত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পদমর্যাদা বাড়ানোর সাথে সাথে জনগণও যাতে উন্নত সেবা পায় সেদিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। আশা করি আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, সততা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে আপনারা কাজ করবেন। ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন’ করবেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের জনবল যথেষ্ট নয়। তাই আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশের ৭৩৩টি ক্যাডারসহ ৩২ হাজার পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ইতিমধ্যে ৫০০ ক্যাডার পদসহ ২৭ হাজার ৫১৬টি সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে পুলিশের সক্ষমতা বেড়েছে। পদোন্নতিরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিভাগের ৫টি গ্রেড-১ পদ সৃষ্টির কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পুলিশ বাহিনীর জন্য ২০১২ সাল থেকে তিন বছরের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় শিল্প পুলিশ গঠন করা হবে এবং আরো দু’টি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা ব্যাটেলিয়ন শিগগিরই কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, শিগগিরই পর্যটন পুলিশ, ক্যাম্পাস পুলিশ ও নৌ পুলিশ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পুলিশ তদন্ত ব্যুরো গঠনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় পৃথক একটি সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, কতর্ব্যরত অবস্থায় আহত হলে অনুদান সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ এবং নিহত হলে অনুদান তিন লাখ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে পাঁচ লাখ টাকা করেছি। সাহসিকর্তাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি বিধানে বিভিন্ন পদকের সম্মাননা ভাতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, পুলিশের মহাপরিদর্শক হাসান মাহমুদ খন্দকার ও অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) শহিদুল হক প্রমুখ। এছাড়া মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সপ্তাহ ২০১৩ উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ সপ্তাহে অসীম সাহসিকতা, বীরত্বপূর্ণ কাজ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ৬৭ জন পুলিশ সদস্যকে ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম)’, ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ ও ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা)’ পরিয়ে দেন ।