আযাদের পর এবার
রায় হতে পারে
কাদের মোল্লার
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৯
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত দুইটি ট্রাইব্যুনালে আট জনের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম চলছে। আবুল কালাম আযাদের পর এবার যেকোন দিন রায় হতে পারে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লার। গত ১৭ জানুয়ারি কাদের মোল্লার মামলায় আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন (সিএভি) বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। যুক্তি উপস্থাপনকালে কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব হচ্ছে মামলাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা। তারা এ দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
গত ২৮ মে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে মামলার বিচার শুরু হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২০ জুন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে। রাষ্ট্রপক্ষের প্রথম সাক্ষী জবানবন্দি দেন ৩ জুলাই। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। ১৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয় আসামিপক্ষের সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ। কাদের মোল্লা নিজেই সাফাই সাক্ষ্য দেন। ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাদের মোল্লাসহ ৬ জনের সাফাই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর পর ১৭ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। দুই পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় ২৭ ডিসেম্বর।
কাদের মোল্লার বাইরে বাকি সাতজনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর এখন আসামিপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করছে। যুক্তি উপস্থাপন শেষ হলে রায়ের দিন ঘোষণা ছাড়া এ মামলায় আর কোনো আইনি প্রক্রিয়া নেই। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যা, লুটপাটসহ ২০টি অভিযোগ এনেছিলো রাষ্ট্রপক্ষ। কিন্তু গত ৬ ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাঈদীর মামলার রায় যে কোনো দিন দেয়া হবে উল্লেখ করে মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখে ট্রাইব্যুনাল-১। পরে বেলজিয়াম প্রবাসী আইনজ্ঞ ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপে কথোপকথনের খবর প্রকাশ হয়। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে নিজামুল হক পদত্যাগ করলে ট্রাইব্যুনাল-১ পুনর্গঠন করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল-১ সাঈদীর মামলায় পুনরায় যুক্তিতর্ক শুনতে রাজি হয়।
সাঈদীর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। বর্তমানে তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিচ্ছেন ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহহিল আমান আযমী। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের পাঁচটি অভিযোগ।
গোলাম আযমের পর বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বেশি সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৭তম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ এনেছে ২৩টি।
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মাদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলায় অগ্রগতি বেশি। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ রয়েছে সাতটি।
ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ সাতটি অভিযোগে মামলার কার্যক্রম চলছে। তার মামলায় এখন পর্যন্ত ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিএনপি নেতা আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে গণহত্যা, হত্যাসহ রাষ্ট্রপক্ষের ১৭টি অভিযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে।
তবে জামায়াতের বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যা ও গণহত্যাসহ ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের মাত্র একজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তার মামলায় অগ্রগতি সবচেয়ে কম। এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আটক জামায়াতের তিন নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।