অপেক্ষা শেষে....
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৪৯
দিনের শুরু থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত তিনি থাকেন সংগীতের মাঝেই। সংগীতের আরাধনা করেই তার সময় কাটে। বলছি, এই সময়ের গানের তারকা নাজমুন মুনিরা ন্যান্সির কথা। সম্প্রতি ছবিতে প্লেব্যাকের জন্য তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। সময়ের সুকণ্ঠী এই গায়িকাকে নিয়ে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
জীবনে চলার পথে সংগীতকে যারা বুকে টেনে নিয়েছেন ন্যান্সি তাদেরই একজন। সংগীতের নানা শাখায় চর্চার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিনিয়ত করে চলেছেন ঋদ্ধ। রোমান্টিক গানে কণ্ঠ দিয়ে বেশ শ্রোতাপ্রিয়তা অর্জন করেছেন সময়ের আলোচিত এই কণ্ঠশিল্পী। তার গাওয়া ‘ভালোবাসব বাসব রে’, ‘বাহির বলে দূরে থাকুক’, ‘আমি তোমার মনের ভেতর’ শিরোনামের গানগুলো সংগীতপ্রেমীদের মুখে মুখে ফেরে। রোমান্টিকতার ঘরানা থেকে বেরিয়ে তিনি সুফি ধাঁচের একটি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। গানের শিরোনাম ‘ভালোবাসি যাও না বলে’। গানটিতে তার সঙ্গে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন জনি খন্দকার। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন ইমরান। এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, ‘শিরোনাম রোমান্টিক মনে হলেও গানটি আসলে সুফি ঘরানার। এর সুরেও সুফি গানের বৈশিষ্ট্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। গানটি গাওয়া আমার জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও যথাযথভাবে গাইতে পেরে নিজের কাছে ভালো লাগছে।’ কিছুদিন আগে ছয় বছরের সংসারজীবনের ইতি টানেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। সংসারজীবনের ইতি টানার পর ছেড়েছেন ঢাকার উত্তরার ভাড়া বাড়িটিও। চলে গেছেন নেত্রকোনায়, বাবার বাড়িতে। সেখানে একমাত্র মেয়ে রোদেলার জন্য তৈরি করেছেন নিজের পছন্দমতো বাড়ি। এ ঘটনায় অনেকেই ভেবেছিলেন গান থেকে দূরে চলে যাবেন ন্যান্সি। কিন্তু না, সংগীতকে যিনি অন্তরে লালন করেন, তিনি কখনও সংগীতকে ছাড়তে পারেন না। এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, ‘এখন আমাকে প্রতিনিয়ত ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।’ বেশির ভাগ সময় সকালে নেত্রকোনা থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঢাকায় আসেন তিনি। স্টুডিও রেকর্ডিং অথবা শো শেষ করে ফের মধ্যরাতে একই গাড়িতে চেপে ফিরে যান নেত্রকোনায়।’ এত লম্বা ভ্রমণ, ক্লান্ত লাগে না? এমন প্রশ্নের জবাবে ন্যান্সি বলেন, ‘একটু ক্লান্ত তো লাগেই। তবে কাজ করতে হলে ক্লান্তির কথা ভাবলে চলে না। আমার তো মনে হয় ঢাকার উত্তরা থেকে ধানমন্ডি-মগবাজার স্টুডিওতে যেতে যতটা সময় লাগে, নেত্রকোনা থেকে আমি যে সময়ে ঢাকায় আসি কিংবা যাই, ঠিক ততটাই সময় লাগে। আসলে বলতে পারেন বেশ কয়েক মাসের ভ্রমণে আমি এখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। তবে এটা ঠিক যে এখন আর হুটহাট রেকর্ডিং কিংবা শোর প্রস্তাব পেলে কাজ করা হয় না। আবার এখন কেউই আমাকে হুট করে ডাকেন না। কারণ, সবাই জানেন আমি নেত্রকোনা থেকে আসব। তাই মঞ্চের অনুষ্ঠান, রেকর্ডিং ও অ্যালবামের কাজ একসঙ্গে হলেই তারপর ঢাকায় আসি। একসঙ্গে অনেক কাজ নিয়ে ঢাকায় এলেও ভালোভাবেই কাজগুলো করতে পারি।’ ন্যান্সি বলেন, ‘এই তো গত সপ্তাহেও আমি একসঙ্গে কয়েকটি কাজ নিয়ে ঢাকায় এসেছিলাম। একই দিনে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্রের গানের রেকর্ডিং এবং নতুন অ্যালবামের ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা করে গেছি।’ তার মানে কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সির আর ঢাকায় স্থির হওয়ার সম্ভাবনা নেই? জবাবে ন্যান্সি বলেন, ‘সময়ের ওপর কারও হাত নেই। হয়তো হতেও পারে; আবার এভাবেও চলে যেতে পারে। আপাতত কিছুই বলা যাচ্ছে না।’ সংসারে বিচ্ছেদ, মায়ের মৃত্যুসহ তার জীবনে নানা টানাপোড়েন চললেও সুখের খবর হলো—মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘প্রজাপতি’ চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। গত ১৪ জানুয়ারি রাতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। এ প্রসঙ্গে ন্যান্সি বলেন, ‘এত অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের মতো এত বড় সম্মাননা পাবো, ভাবিনি। আমি সত্যিই আনন্দিত। স্বাভাবিকভাবেই দেশের শীর্ষ এ সম্মাননা আমাকে কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে দিল। এখন থেকে শ্রোতাদের আরও ভালো গান উপহার দিতে চাই।’ সম্প্রতি ‘পোড়ামন’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করলেন ন্যান্সি। সফট মেলোডিয়াস ধাঁচের গানটির সংগীত পরিচালনা করছেন ইমন সাহা। গানের কথা লিখেছেন শফিক তুহিন। ‘পোড়ামন’ একটি রোমান্টিক ঘরানার ছবি। পরিচালনা করছেন জাকির হোসেন রাজু। গত জুনে ন্যান্সি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘টেলিভিশন’ চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন। কবির বকুলের লেখা গানটির সুর ও সংগীত পরিচালনা করেছেন ব্যান্ডতারকা আইয়ুব বাচ্চু। ‘টেলিভিশন’ ছবির মাধ্যমে প্রথমবার ন্যান্সি আইয়ুব বাচ্চুর সুরে চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। প্লেব্যাকের পাশাপাশি ন্যান্সি দেশের বিভিন্ন স্থানে চুটিয়ে স্টেজ শো করছেন। ন্যান্সি বলেন, ‘স্টেজই শিল্পীদের মূল ভরসা। তাই নিয়মিতই আমি স্টেজ শো করছি। এর পাশাপাশি বেশ ক’টি মিশ্র অ্যালবামেও আমার গান করার কথা রয়েছে।’ গত মে মাসে আবু সাঈদ সৌরভের সঙ্গে ন্যান্সির ৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটে। বিয়ে বিচ্ছেদের পর ন্যান্সি কিছুটা ভেঙে পড়েছিলেন। সংগীতবোদ্ধাদের অনেকই মনে করেছিলেন, বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনাটি ন্যান্সির সংগীতজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ন্যান্সি ব্যক্তিজীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি দ্রুত ভুলে গিয়ে সংগীতাঙ্গনেই পূর্বের মতো সরব রয়েছেন। ২০০৬ সালে ‘হূদয়ের কথা’ ছবিতে প্লেব্যাকের মাধ্যমে ন্যান্সির মিডিয়ায় অভিষেক ঘটে। এদিকে ন্যান্সি প্লেব্যাক ও স্টেজ শোয়ের পাশাপাশি তার তৃতীয় একক অ্যালবাম নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ন্যান্সির এ নিয়ে দুটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। ‘ভালোবাসা অধরা’ ও ‘রঙ’ শিরোনামের অ্যালবাম দুটি শ্রোতামহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল।