বলিউড জ্যাকুলিন ইন অ্যাকশন
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫০
মিস শ্রীলঙ্কা ইউনিভার্স শিরোপা জয়ী সুন্দরী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ বলিউডে পদচারণা করছেন খুব বেশিদিন হয়নি। গত তিন বছরে একজন সুন্দরী, গ্ল্যামারাস এবং আকর্ষণীয়া অভিনেত্রী হিসেবে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলতে পেরেছেন। অভিনীত ছবিগুলোতে দর্শক তাকে বরাবরই গ্ল্যামারাস ইমেজে দেখে আসছেন। নির্মাতারাও জ্যাকুলিনকে বিচিত্র রোলে একজন সাহসী নায়িকা হিসেবে পর্দায় তুলে ধরতে সচেষ্ট রয়েছেন। হিন্দি সিনেমার জগতে এখন তার মতো সাহসী স্মার্ট সুন্দরী নায়িকাদের বেশ কদর লক্ষ করা যাচ্ছে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলা জাকুলিন গ্ল্যামারাস রোলের পাশাপাশি আকশন গার্ল হিসেবেও কম যান না। এটা প্রমাণ করতে আসছেন ‘রেস-২’ ছবিতে। চলতি সপ্তাহের মুক্তিপ্রাপ্ত বহুল আলোচিত ব্যয়বহুল এই অ্যাকশন থ্রিলারে জ্যাকুলিনকে বলিউডের অ্যাকশন গার্লদের মতো দুর্দান্ত স্ট্যান্ট দৃশ্যে দেখা যাবে। ‘রেস-টু’ ছবিতে তার অভিনয় এবং ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে লিখেছেন রেজাউল করিম খোকন
‘রেস-২’ ছবিতে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ অভিনীত চরিত্রটির নাম ও মিশা। দুর্দান্ত আবেদনময়ী, আকর্ষণীয় এক তরুণী। যার উষ্ণ সান্নিধ্য পেতে অনেক পুরুষই উন্মুখ। স্রেফ গ্ল্যামার গার্ল নয়, প্রয়োজনে আত্মরক্ষায় কিংবা শত্রুর মোকাবেলায় মেয়েটির রণরঙ্গিনীরূপ যে কাউকে চমকিত করবে। তেমনি এক রোলে দর্শকদের সামনে আসছেন এই শ্রীলঙ্কা সুন্দরী। তাকে দেখে শ্রীলঙ্কার মেয়ে মনে হয় না। পাশ্চাত্যের চোখ ধাঁধানো সুন্দরী আবেদনময়ী গ্ল্যামারাস নারীদের কাতারে তাকে দাঁড় করানো যায় অনায়সেই। সেই সূত্রে মডেলিং করেছেন। টিভি রিপোর্টিংয়ের কাজ করেছেন। টিভি শোর হোস্ট মানে উপস্থাপনার কাজও করেছেন। আর এভাবেই তার বলিউডে আগমন। ‘আলাদিন’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি সিনেমায় অভিনেত্রী হিসেবে জ্যাকুলিনের অভিষেক। শুরুতেই সবার নজর কাড়েন। ২০১০-এ সেরা নতুন মুখের অভিনেত্রী হিসেবে আইফা আওয়ার্ড লাভ করেন। শ্রীলঙ্কায় জন্ম হলেও তার শৈশব-কৈশোর কেটেছে আরব সাগরের তীরবর্তী দেশ বাহরাইনে। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় মাস কমিউনিকেশনে পড়াশোনা করেছেন।
‘রেস-২’ ছবিটি নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা আর ঘোরের মধ্যে রয়েছেন জ্যাকুলিন। বিগ বাজটে নির্মিত এ ছবির পরিচালক আব্বাস-মাস্তান। বলিউডের বিখ্যাত এই পরিচালক জুটির ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ লাভ নিঃসন্দেহে জ্যাকুলিনের জন্য বড় একটি অর্জন। এর আগে গত বছরের ‘হাউসফুল-২’ ছবিতে তাকে একটি প্রধান নারী চরিত্রে দেখা গেছে। ব্লকবাস্টার হিট ওই ছবিতে জন আব্রাহামের বিপরীতে তাকে দেখা গিয়েছিল। এবার ‘রেস-২’-তে ও জ্যাকুলিনের বিপরীতে আছেন জন আব্রাহাম। সহশিল্পী সম্পর্কে জ্যাকুলিন বলেন, ‘জন আসলেই একজন ভালো মানুষ। তার সঙ্গে খুব সহজেই ফ্রি হওয়া যায়। আমি এর আগেও হাউসফুল-২-তে তার সঙ্গে কাজ করেছি।’ রেস-২-তে দীপিকা পাড়ুকোন এবং আমিশা প্যাটেলও আছেন তার সঙ্গে। একই ছবিতে আরও দুজন সুন্দরী গ্ল্যামারাস নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়ে জ্যাকুলিন ভেতরে ভেতরে কোনো কমপ্লেক্সে ভুগেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি পর্দার বাইরে বাস্তবে অন্যান্য নায়িকাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের বিষয়টি নিয়ে ভাবি না। এটা খুব জরুরি বলেও মনে করি না।’ ছবিতে অভিনয়ের ক্ষেত্রে অভিনয়ে পারঙ্গম হওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ, আজকাল হিন্দি সিনেমার নায়িকারা খুব সাহসী ভঙ্গিতে, স্মার্ট সাজ পোশাকে পর্দায় আসছেন। জ্যাকুলিনকেও ‘মার্ডার-২’ ছবিতে তেমনি সাহসী ইমেজে পর্দায় উপস্থিত হতে দেখা গেছে। এ ছবির মাধ্যমেই তার ক্যারিয়ারের উত্থান ঘটেছে মূলত। নির্মাতারা এরপর থেকে তাকে নিয়ে নতুনভাবে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। ‘কৃষ’ ছবির সিক্যুয়েল এবং ‘রাজ থ্রিডি’তে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও জ্যাকুলিন ইচ্ছে করে প্রস্তাবগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন, ‘বারবার একই ধরনের সাহসী আবেদনময়ী নারীর রোলে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে একঘেয়ে হতে চাইনি বলে অফারগুলো ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।’
২০১১-তে বিশ্বখ্যাত টাইমস ম্যাগাজিন পৃথিবীর সেরা ৫০ কাঙ্ক্ষিত নারীর তালিকা প্রকাশ করেছিল যাতে ৭ম অবস্থানে ছিলেন শ্রীলঙ্কা সুন্দরী জ্যাকুলিন। ‘রেস-টু’ ছবিতে অ্যাকশন দৃশ্যে অনেক চমক নিয়ে আসছেন তিনি। এর আগে কোনো ছবিতে তাকে তেমনি অ্যাকশন গার্ল ইমেজে দেখা যায় না। ‘আসলে আমি সব সময়েই তেমন অ্যাকশন রোল করতে চাইতাম। কারণ আমি এসেছি অ্যাথলেট ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। আমি নিয়মিত ইয়োগা করতাম, জিমন্যাস্টিক করেছি ছোটবেলায়। ‘রেস্ট টু’তে ফাইট দৃশ্যগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য এবং চমকপূর্ণ করতে আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। ভিয়েতনামী ট্রেনারের কাছে কুংফু-কারাতেসহ তলোয়ার চালানো শিখেছি অনেক সময় নিয়ে। দর্শক আমাকে নতুন রূপে দেখে কিছুটা অবাকই হবেন বটে,’ জ্যাকুলিন বলেন।
অনেকেই বলছেন বর্তমান সমাজে নারী নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার পেছনে বলিউডি সিনেমার গ্ল্যামারের পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে একজন বলিউড তারকা হিসেবে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ বলেন, ‘আমরা কোন পোশাকে পর্দায় আসব, কিভাবে অভিনয় করব সেটা বলে দেওয়া হোক। বলিউডের নায়িকাদের মিছেমিছি দায়ী করা হচ্ছে। দিল্লির ধর্ষণের ঘটনাটি ভীষণ তোলপাড় সৃষ্টি করেছে ইদানীং। এ ধরনের পাশবিক ঘটনা যাতে আর না ঘটে সেজন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এ সম্পর্কিত আইন-কানুনও কঠিন করা প্রয়োজন। বলিউডের সিনেমার গানের কথায় যাতে অশ্লীলতা প্রকাশ না পায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। অহেতুক বলিউডের মেয়েদের দায়ী করাটা ঠিক নয়।’
একসময় পরিচালক সাজিদ খানের সঙ্গে জ্যাকুলিনের গভীর সম্পর্কের রটনা শোনা গেছে। এসব নিয়ে তার তেমন মাথাব্যথা নেই। এ প্রসঙ্গে অনেকটা ডেমকেয়ার ভাব নিয়ে জ্যাকুলিন বলেন, ‘আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে এ ধরনের রটনা খুবই মামুলি ব্যাপার। এসব নিয়ে মাথা ঘামালে কাজ করা যাবে না। সবকিছু মোকাবেলা করেই এখানে চলতে হয়। সিনেমার নায়ক-নায়িকা এবং অন্যান্য লোকজনদের আলাদা একটি ইমেজ রক্ষা করে সবার চোখে ভালো মানুষ সেজে থাকতে হয়। ব্যক্তি জীবনে সত্ ও সুন্দরভাবে সুখী জীবনযাপনটাই হলো বড় কথা। কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে রটনা হতে পারে শোবিজে। আমি ব্যাপারটিকে তেমন পাত্তা দিই না।’
‘হাউজফুল-২’ তে কমেডি করার পর ‘রেস টু’তে অ্যাকশন ধামাক্কা নিয়ে আসছেন জ্যাকুলিন। ‘মার্ডার-২’তে আবেদনময়ী এক নারীরূপে পর্দায় উপস্থিত হয়ে তোলপাড় তুলেছিলেন। কমেডি, রোমান্স, অ্যাকশন—কেন ধরনের রোল তার বেশি পছন্দ জানতে চাইলে বলিউডের নতুন প্রজন্মের আবেদনময়ী সুন্দরী এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কমেডি করতে বেশ মজা লাগে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করতে সমস্যা হয় না। তবে অ্যাকশন করতে গেলে মাথায় নানা টেনশন চেপে বসে। আর রোমান্সের সময় ভাবতে হয় দৃশ্যগুলো বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না।’
বিউটি কুইন থেকে বলিউডের তারকা বনে যাওয়া অনেক সুন্দরীদের মধ্যে একজন জ্যাকুলিন ফার্নানে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে ক্রমইে আরও বিকশিত করে তুলছেন। ‘আমি একজন অভিনেত্রী হিসেবে চরিত্রটি রূপায়নের সময় নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চাই। অভিনীত চরিত্রটি যদি দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হয়ে ওঠে তাহলে সব পরিশ্রমই বৃথা বলে মনে করি। আমি আমার প্রতিটি ছবিতে অভিনয়ের সময় বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটাতে চাইছি সাজ-পোশাক, মেকআপ, লুক ইত্যাদিতে নানা পরিবর্তন আনছি সচেতনভাবে। আমি মনে করি এর মাধ্যমেও অনেকটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছি। দর্শক আমার অভিনয়, সাজ পোশাক, লুক ইত্যাদিতে আলোড়িত হচ্ছেন। আমি আগামীতেও এ ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যাবো।’ জ্যাকুলিন বলেন সিনেমায় নিজেকে সাহসী ভঙ্গিতে উপস্থাপন প্রসঙ্গে কোনো ঘোরপ্যাচ না করে সহজভাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে কি আমি ব্যাপারটিকে আমার অভিনীত চরিত্রের দাবি মেটাতে গিয়ে সাধ্যমতো নিজেকে উপস্থাপন করব তবে আমি যতক্ষণ পর্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব ঠিক ততক্ষণ নিজেকে ক্যামেরার সামনে তুলে ধরতে দ্বিধা করব না।’ আগামীতে আর কতদিন অভিনয় করতে চান জ্যাকুলিন, জানতে চাওয়া হয়েছিল তার কাছে। এ প্রশ্নের জবাবে জ্যাকুলিন বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত অভিনয় করে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে না পারি ততদিন পর্যন্ত অভিনয় করতে চাই। আমি এজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে দ্বিধা করব না। যেদিন আমার এ অধ্যায় শেষ হয়ে যাবে তখন চমত্কার স্ত্রী হতে চাই সংসার জীবনে। বিয়ের পর আমি শুধুমাত্র সংসার নিয়েই মেতে থাকতে চাই, অন্য কিছু নিয়ে নয়।’