নবাগত রংপুরের টানা জয়
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অসম্ভব স্কোর নয়। কিন্তু বোলিং প্রান্তে ছিলেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ আব্দুর রাজ্জাক। আর ব্যাটিং প্রান্তে ছিলেন বরিশাল বার্নার্সের হয়ে দুর্দান্ত ব্যাটিং করা সাব্বির রহমান রুম্মন। প্রথম তিন বলে ১২, এরপরই শামসুর রহমান শুভকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন ৬৯ রানে। ম্যাচটিও ফসকে গেল বরিশালের। অধিনায়ক রাজ্জাকই ৭ রানের জয় পাইয়ে দিলেন রংপুর রাইডার্সকে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এটি তাদের টানা দ্বিতীয় জয়। অন্যদিকে এই হারের ফলে গতবারের রানার্স আপ বরিশালের তিন ম্যাচে সংগ্রহ মাত্র দুই পয়েন্ট।
গতকাল বুধবার খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রংপুরের ১৭৪ রানের জবাবে প্রথম থেকে বিপদে ছিল বরিশাল। ব্র্যাড হজ ছাড়া টপ-অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের কেউ দুই অংক ছুঁতে পারেননি। এদের ব্যর্থতায় বরিশালের স্কোর এক পর্যায়ে দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৪৮। সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে হজ লড়াইটা ভালোই জমিয়ে তোলেন। পঞ্চম উইকেটে দুজন ৫৯ রান এনে দেন দলকে। এই দুইজনের ভিত গড়ার পরও শেষ পাঁচ ওভারে জয়ের জন্য বরিশালের প্রয়োজন দাঁড়ায় ৬৪ রানের।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এই টার্গেটও কঠিন নয়। কিন্তু এই সময় রাজ্জাককে সামলাতে গিয়েই বরিশালের ব্যাটসম্যানরা হিমশিম খেয়েছেন। ৩৮ বলে তিন ছয় ও চারটি চারে ৫৮ রান করে হজ বিদায় নেয়ার পরও দলকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাব্বির। দলের ১৮তম ও রাজ্জাকের তৃতীয় ওভারে পরপর দুই বলে কবির আলি ও শুভগত হোম ফিরে যাওয়ায় সাথে সাথে অনেক সম্ভাবনাও নিভে যায়। তবুও সাব্বিরের ব্যাটিংয়ে শেষ ওভার পর্যন্ত জয়ের স্বপ্নে বিভোর ছিল বরিশালের ড্রেসিংরুম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজ্জাকের কাছেই পরাস্ত হয়েছেন দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা সাব্বিরও। সেই সাথে স্বপ্ন দেখা বরিশালও মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়ে।
এর আগে রংপুরকে ১৭৪ রান এনে দিয়েছেন শামসুর রহমান শুভ। আগের দুই ম্যাচে নাসির হোসেন সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু কাল রংপুরকে বড় স্কোর এনে দিয়েছেন শুভ। ৪০ বলে নয়টি চার ও দুই ছয়ে ৬৬ রান করেন তিনি। ইমরুল কায়েসকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনিংয়ে করেছেন ৭০ রানের পার্টনরশিপ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচসেরাও হয়েছেন শুভ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স- ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (শামসুর ৬৬, কায়েস ২৯, নেইল ও’ ব্রেইন ২৭, বর্গাস অপঃ ২৪, নাসির ১৭, সানি ২/২১, কাপালি ১/৩৪)।
বরিশাল বার্নার্স- ২০ ওভারে ১৬৭/৮ (সাব্বির ৬৯, হজ ৫৮, রাজ্জাক ৪/৩৩, নেইল ও’ ব্রেইন ১/১৯)।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ:শামসুর রহমান শুভ (রংপুর রাইডার্স)।
ফল:রংপুর রাইডার্স জয়ী ৭ রানে।