গণতন্ত্রই পৃথিবীতে সর্বোত্তম রাজনৈতিক ব্যবস্থা

প্রধান বিচারপতি মো:মোজাম্মেল হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট ব্যক্তির মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রতি গভীরভাবে সংবেদনশীল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংরক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। দেশে গণমাধ্যমের মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক শাখায় প্রকাশনার সংখ্যা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বেড়েছে, সে হারে বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বেড়েছে কি-না তা অনুসন্ধান করে দেখতে হবে। গণমাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়ানোর জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের আরো সচেষ্ট হতে হবে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিভাগের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী উত্সবের এ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, দেশে অতীতে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে গণমাধ্যম বন্ধ করা হতো। এখন এটি কল্পনা করা যায় না। গণমাধ্যমকে নিজেদের ও দেশের স্বার্থে আরো দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ গণমানুষকে সমৃদ্ধ করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম করে তোলে। তাই প্রকাশিত তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা ও সামাজিক উপযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। মো:মোজাম্মেল হোসেন বর্তমান শতাব্দীকে গণতন্ত্র ও গণমানুষের শতাব্দী হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গণতন্ত্রই আজকের পৃথিবীতে সর্বোত্তম রাজনৈতিক ব্যবস্থা। গণতন্ত্রে গণমানুষের কর্তৃত্ব সার্বভৌম। এটা শুধু সরকার গঠন বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালনে সীমাবদ্ধ নয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনমতের প্রতিফলন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অপরিহার্য অঙ্গ। জনমত গঠন ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই স্বাধীন গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্র অর্থবহ ও বিকশিত হয় না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার বিকাশ ও উত্কর্ষ সাধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ অনন্য সাধারণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকতা শিক্ষার ইতিহাস এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ইতিহাস এক ও অভিন্ন। দেশের গণতন্ত্র, সুশাসন, অসামপ্রদায়িক চেতনা, মানুষের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি আহবান জানান। গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক আখতার সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক গোলাম রহমান, সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী। ‘বাংলাদেশে সাংবাদিকতা শিক্ষার ৫০ বছর পূর্তি’ স্লোগান নিয়ে গত মঙ্গলবার ৩ দিনব্যাপী উত্সব শুরু করে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। উত্সবের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্র’। এই উত্সবের কর্মসূচিতে ছিল মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র এবং মুক্তিযুদ্ধ ও আমাদের অর্ধশতকের ইতিহাস শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, ১ম বর্ষ সম্মান শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ, শেষবর্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায় সংবর্ধনা, বার্ষিক ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।