প্রবেশ পথেই ফুচকা কাবাবের অবৈধ দোকানের সারি
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩২
প্রতি বছর ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মূল প্রবেশ পথের সামনে বসানো হয় অবৈধ দোকান। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। মেলার প্রধান গেট এবং দ্বিতীয় গেটের সামনে লাইন করে বসানো হয়েছে ১৫টি ফুচকা ও কাবাবের দোকান। জমে ওঠা মেলাকে কেন্দ্র করে আরেক ব্যবসা করে যাচ্ছেন কিছু অসাধু ব্যক্তি। দর্শনার্থী ক্রেতাদের চলাচলের পথে সরিবদ্ধভাবে বসানো এই দোকানগুলোর কারণে দর্শনার্থী ক্রেতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দোকানের সামনে রাখা হয়েছে লম্বা চেয়ারের সারি। লোকজনের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। ছুটির দিনে এ ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়। টিকেট সংগ্রহ এবং মেলায় প্রবেশে কষ্ট হয় তাদের। দোকানগুলো মেলা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় ইজারাদার বসিয়েছে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখানে দোকান দিতে ধরতে হয়েছে দালাল এবং টাকার বিনিময়ে মিলে জায়গা। দালালদের টাকা দিয়ে দোকান বসিয়েছেন মোহাম্মদপুর এলাকার চাঁন মিয়া, একই এলাকার তৈয়ব, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মুসা ও খায়রুল এবং চন্দ্রিমা উদ্যানের খোরশেদ, আগারগাঁও পাকা মার্কেট, গণভবন ও মনিপুরপাড়ার আরো ১০ জন। দালালি হিসাবে কাজ করে স্থানীয় এমপির ক্যাডাররা। প্রতিদিন দোকানপ্রতি দিতে হচ্ছে ৬ হাজার টাকা। এছাড়া এক দিনের টাকা অগ্রিম দেয়া আছে ব্যবসায়ীদের। মেলা সচিবালয়ের মধ্যে গিয়ে এই টাকা জমা দিতে হয় প্রতিদিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ‘ব্যবসায়ী’ জানান, অনুমতি নিয়েই এখানে দোকান বসিয়েছি। প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে আমাদের। টাকা মেলার সচিবালয়ের ভিতরে গিয়ে দিয়ে আসতে হয়। একদিনের টাকা অগ্রিম দেয়া আছে। এ বিষয়ে মেলার পরিচালক এহসান কবির কথা বলতে চাননি। তিনি ভাইস চেয়ারম্যান সুভাশীষ বসুর সাথে কথা বলতে বলেন। কিন্তু মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। এখানে চড়া দামে ফুচকা বিক্রি করছেন ‘ব্যবসায়ীরা’। মেলায় প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় ফুচকা খাওয়ার জন্য দর্শনার্থীদের হাত ধরে টানাটানি করেন ব্যবসায়ীরা। মহিলাদের হাত ধরেও টানে এবং বলে: আসেন ম্যাডাম, আসেন। স্বাদের ফুচকা, কাবাব খেয়ে যান। এক প্লেট ফুচকা ১৮০ টাকা রাখে। নিম্নমানের খাবার চারগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এখানে। এত বেশি দাম কেন? একজন ব্যবসায়ী বললেন, আরে ভাই, প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে মেলা সচিবালয়ে। আমাদের লাভ থাকে খুবই সীমিত।