নবীনগরে বাহরাইনে নিহত ৫ জনের দাফন সম্পন্ন
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৪
বাহরাইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পাঁচজনের দাফন নিজগ্রামে সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে অপর ৮ বাংলাদেশির লাশের সঙ্গে তাদের লাশ দেশে পৌঁছে।
গতকাল বুধবার বাদ জোহর নবীনগর উপজেলার নিহত পাঁচজনের মধ্যে তিনজন স্বপন,সবুজ ও মোঃ শাহজাহান ওরফে জসিমের জানাজা উপজেলার কাইতলা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। নিহত অপর দুইজনের মধ্যে একজন বিটঘর ইউনিয়নের গুড়িগ্রামের আনোয়ারের জানাজা গুড়িগ্রাম ঈদগাহ মাঠ ও অপরজন নাটঘর ইউনিয়নের খরিয়ালা গ্রামের মোঃ জারু মিয়ার জানাজা খরিয়ালা ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। তাদের জানাজায় এলাকার হাজারো মানুষ জড়ো হন। সেখানে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় । এলাকাবাসী নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। জানাজা শেষে কাইতলার দুই সহোদর স্বপন ও সবুজকে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে পিতার দুই পাশে দাফন করা হয়। গোয়ালী গ্রামের মোঃ শাহজাহান ওরফে জসিমকে গোয়ালী কবরস্থানে দাফন করা হয়। এছাড়া গুড়িগ্রামের আনোয়ারকে গুড়িগ্রাম কবরস্থান ও খরিয়ালা গ্রামের মোঃ জারু মিয়াকে খরিয়ালা কবরস্থানে দাফন করা হয় । নবীনগরের ৫ সন্তান চলে গেছেন না ফেরার দেশে। প্রতিটি পরিবারের সুখের এবং আয়ের অবলম্বন ছিলেন তারা।
জানাজার আগে প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ জিকরুল আহম্মেদ খোকন বক্তব্যে বলেন, পাঁচজনের এমন করুণ মৃত্যু আমার কাছে ভাইয়ের মৃত্যুর মতই লাগছে। তিনি নিহতদের পাঁচ পরিবারকে বিশ হাজার টাকা করে প্রদান করেন । জানাজায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খাইরুল আলম সুমন, উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জিয়াউল হক সরকার, নির্বাহী কর্মকর্তা আনম নাজিমউদ্দিনসহ স্থানীয় সুধীসমাজের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। স্থানীয়রা সংসদ সদস্যের কাছে নিহতদের প্রতিটি পরিবারের একজন সদস্যের কর্মসংস্থানের দাবি জানান । নিহতের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী সন্ধ্যা থেকে ছিল লাশের অপেক্ষায়। কফিন দেখে তাদের কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়ে, কেউ হারিয়ে ফেলে কথা বলার শক্তি, তাদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে ।
ওসমান গনির পরিবারের স্বপ্নের সমাধি
নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম প্রিয়জনের সাদা কাপড়ে মোড়ানো নিথর, ঝলসানো দেহ দেখে হূদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয় বাহরাইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নোয়াখালীর ওসমান গনির বাড়িতে। ওসমান গনির মা সাদিয়া বেগম বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলে বুক চাপড়িয়ে চিত্কার করছেন ‘আমার ওসমান কই’, আমার ওসমানকে আমার কাছে এনে দে, ও ওসমান কথা ক’। বোনরা বিলাপ করে বলছেন- আমাদের আর দেখার কেউ নেই, তুই ছুটিতে বাড়িতে আসবি, বিয়ে করবি, নতুন ঘর সাজাবি, আমরা তা আর দেখলাম না।
ওসমান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবে, বিয়ে করবে। কত স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তার সে স্বপ্ন পূরণ হলো না । তার অকাল মৃত্যুতে সমাধি হলো পরিবারের সকল স্বপ্ন ।
গতকাল বুধবার সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁওয়ের কাশিপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহিমের পুত্র ওসমান গনির লাশ বাড়িতে পৌঁছার পর এলাকার শত শত মানুষ তাকে দেখতে ভিড় জমায়। শোক মিছিল করে এলাকাবাসী। জানাজা শেষে ওসমান গনিকে তার পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়। বাহরাইনের রাজধানী মানামার মুকারকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হতভাগ্য ১৩ বাংলাদেশির মধ্যে ওসমান একজন ছিলেন।