চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি

চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা। শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে সহস্রাধিক শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় এক সমাবেশে সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া বলেন, সামান্য কয়টি টাকা বাড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রী সারাদেশের শিক্ষকদের অসম্মান-অপমান করেছেন। অন্যদিকে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। তিনি বলেন, শিক্ষকদের এই আন্দোলন অবাস্তব। এর মধ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সমাবেশে সেলিম ভুঁইয়া বলেন, এই টাকা দিয়ে অনেক শিক্ষকের ১০ দিনও চলে না। ১৮ বছর পর যে পরিমাণ ভাতা ও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে তা যৌক্তিক নয়। তিনি আরো বলেন, মন্ত্রী শিক্ষকদের একাংশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সবার সঙ্গে কথা বলেননি। জাতীয়করণের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শিক্ষকরা বাড়ি ফিরে যাবেন না। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের জাতীয়করণের ঘোষণা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সবাই বাড়ি ফিরে যাবেন। শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হলে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষকের চাকরি চলে যাবে এমন অভিযোগ করে অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, আমরা এই শিক্ষানীতি চাই না। দাবি পূরণ না হলে আসন্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দায়িত্ব পালনে বিরত থাকবেন বলে সমাবেশে ঘোষণা দেন শিক্ষক নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে এই শিক্ষক নেতা বলেন, আপনি এখানে এসে জাতীয়করণের ঘোষণা দিন তাহলে আপনাকে ফুলের মালা দিয়ে গ্রহণ করবো। আর যদি ঘোষণা না দেন তাহলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। এদিকে শিক্ষকদের চিকিত্সা ভাড়া ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণায় অসন্তোষ প্রকাশ করে সরকার সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনগুলোর মোর্চা জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্টও দেশের সাতটি বিভাগে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। ফন্টের জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে ২৭ জানুয়ারি জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঘোষণা করা হবে। গতকাল এক সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আজিজুল ইসলাম, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আসাদুল হক, বাংলাদেশ কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, বাংলাদেশ সংযুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মাহবুব-উল-আলম তালুকদার, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব খান মোশাররফ হোসেন, কারিগরি কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী প্রমুখ। অন্যদিকে বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। হঠাত্ করে এসে জমায়েত হয়ে এই দাবি করা অবাস্তব। এই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীর প্রতি প্রশ্ন তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তার সরকার তো অনেকদিন ক্ষমতায় ছিল। তার দল কেন এটা করলো না। বিষয়টি যদি এতই জরুরি ছিল তাহলে তার দল কেন জাতীয়করণ করলো না। প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের ঘোষণা দেয়ায় এমপিওভুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও তাদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলন করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাইমারি আর মাধ্যমিক এক নয়। প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে। উড়াল দিয়ে এসে এখানে বসিনি। ৫৩ বছর ধরে এসব বিষয়ের সঙ্গে জড়িত আছি।