খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে বেড়েছে ৮ থেকে ১০ টাকা
প্রকাশ : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৩৮
পর্যাপ্ত মজুদ সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে ভোজ্যতেল সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে। যৌক্তিক কোন কারণ ছাড়াই গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিনের দাম বাড়েনি। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে এখন ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল। শুধু তাই নয় গত ৬ মাসে ডলারের দাম ৮৪ টাকা থেকে কমে ৭৯ টাকায় নামলেও এরও কোন ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি ভোজ্যতেলের দামে। উল্টো দাম আরো বেড়েছে। হঠাত্ করে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণ খুঁজে পাচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও। দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে আজ বৃহস্পতিবার ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠকে বসছে মন্ত্রণালয়।
দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে গতকাল ইত্তেফাককে মৌলভীবাজারের পাইকারী ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেছেন, বাজারে বিক্রয়যোগ্য সয়াবিন তেলের (কেনার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহ) কিছুটা সংকট রয়েছে। এজন্য দাম বেড়েছে। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে এ সংকট কেটে যাবে। বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
গতকাল বুধবার রাজধানীর ভোজ্যতেলের পাইকারী বাজার মৌলভীবাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজার নিউমার্কেট ও মহাখালীসহ কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে দাম বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যায়। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১২৮ থেকে ১৩০ টাকা, পামঅয়েল ১১৮ থেকে ১২০ টাকা ও পাম সুপার ১০৮ থেকে ১১০ টাকা । যা এক সপ্তাহ আগে প্রতি লিটারে ৮ থেকে ১০ টাকা কমে বিক্রি হয়।
এছাড়া মৌলভীবাজারে প্রতি মণ রেডি সয়াবিন ৪ হাজার ৩৮০ টাকা, অর্ডার দেয়ার ৩/৪ দিন পর সরবরাহ পাওয়া যাবে এমন সয়াবিন ৪ হাজার ২৮০ টাকা, রেডি পামসুপার ৩ হাজার ৫০ টাকা ও ৪/৫ দিন পর সরবরাহ পাওয়া যাবে এমন পাম সুপার ২ হাজার ৯৫৫ টাকা ও পামঅয়েল ২ হাজার ৮৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যা সপ্তাহখানেক আগে তেলভেদে মণ প্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে।
এদিকে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী বাজারে ভোজ্যতেলের সংকট রয়েছে দাবি করলেও পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভোজ্যতেলের মজুদ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোন কোন ভোজ্যতেল কোম্পানী চট্টগ্রাম কাস্টমস বন্ড থেকে সয়াবিন খালাস কমিয়ে দিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করছে। দেশে প্রতি মাসে ১ লাখ টনের কিছু বেশী ভোজ্যতেলের চাহিদা থাকলেও গত মাসে মাত্র ৫৫ হাজার টন সয়াবিন খালাস করা হয়েছে। অথচ চট্টগ্রাম বন্ড সূত্র জানিয়েছে, সেখানে প্রায় ১ লাখ টন ভোজ্যতেল মজুদ রয়েছে।
এদিকে গত প্রায় দেড় বছরেও পরিবেশক প্রথা কার্যকর না হওয়াকে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা দায়ি করেছেন।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ২০১১ সালের ২১ জুন ডিও’র পরিবর্তে পরিবেশক প্রথা চালু করলেও তা কার্যকর হয়নি। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখানোর জন্য কাগজে-কলমে পরিবেশক নিয়োগের কথা বলা হলেও পুরোপুরিভাবে এই প্রথা চালু হয়নি। আবার অনেক জায়গায় পরিবেশক নিয়োগ দেয়া হলেও তাদের ঠিকমতো পণ্য সরবরাহ করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।