বইমেলা হোক প্রকৃত প্রকাশকদের

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৩ প্রকাশক-লেখক ভাবনা গত ২০ জানুয়ারি ইত্তেফাক ভবনে ‘প্রকাশক-লেখক ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করা হয়। সভায় কীভাবে আসন্ন বইমেলাকে আরও সুষ্ঠু ও সফল করে তোলা যায় এবং এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম কী ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। উপস্থিত প্রকাশক-লেখকের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ইত্তেফাকের নির্বাহী পরিচালক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক মিনার মনসুর যাঁরা অংশ নিলেন সভাপ্রধান তাসমিমা হোসেন নির্বাহী পরিচালক, দৈনিক ইত্তেফাক সম্পাদক, পাক্ষিক অনন্যা প্রধান অতিথি শামসুজ্জামান খান মহাপরিচালক, বাংলা একাডেমী আশিস সৈকত ব্যবস্থাপনা সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক সঞ্চালক মিনার মনসুর সহকারী সম্পাদক, দৈনিক ইত্তেফাক প্রকাশক-লেখক অসীম সাহা কবি আলমগীর রহমান প্রকাশক, অবসর প্রকাশন ওসমান গনি প্রকাশক, আগামী প্রকাশনী ফরিদ আহমেদ প্রকাশক, সময় প্রকাশন নির্বাহী পরিচালক, জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি বদিউদ্দীন নাজির কনসাল্টিং এডিটর, ইউপিএল আলমগীর সিকদার লোটন সভাপতি, বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতি প্রকাশক, আকাশ প্রকাশনী মাজহারুল ইসলাম প্রকাশক, অন্য প্রকাশ মনিরুল হক প্রকাশক, অনন্যা আন্দালিব রাশদী লেখক মাসুদুজ্জামান লেখক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন প্রকাশক, কথাপ্রকাশ খান মাহবুব প্রকাশক, পলল প্রকাশনী রবীন আহসান প্রকাশক, শ্রাবণ প্রকাশনী আহমেদুর রশীদ চৌধুরী প্রকাশক, শুদ্ধস্বর ফিরোজ আহমেদ প্রধান সম্পাদক, সংহতি সৈকত হাবিব লেখক মো. শাহাদাত হোসেন প্রকাশক, অন্বেষা প্রকাশন এ. কে এম তরিকুল ইসলাম রনি প্রকাশক, তাম্রলিপি হাসান জায়েদী প্রকাশক, পার্ল পাবলিকেশন্স জহিরুল আবেদীন জুয়েল প্রকাশক, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ মো. মাজেদুল হাসান প্রকাশক, জয়তী প্রকাশনী সমন্বয় মাইনুল শাহিদ বিভাগীয় প্রধান, সাময়িকী আন্দালিব রাশদী বইমেলা একেবারেই কাছাকাছি এসে গেছে। এ সময় যদি বিশেষ কোনো সুপারিশ আসে, তাহলে তা বাস্তবায়িত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও এ আলোচনা থেকে কিছুটা সুফল আমরা অবশ্যই পাব। আর বইমেলা প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমী বরাবরই খুবই যৌক্তিকভাবে বলে আসছে, মেলার আয়োজন করা বাংলা একাডেমীর কাজ নয়। গবেষণা থেকে শুরু করে অনেক বড় বড় কাজের সাথে বছরজুড়ে বাংলা একাডেমীকে নিয়োজিত থাকতে হয়। কিন্তু ঐতিহ্যগতভাবে একুশে বইমেলার সাথে বাংলা একাডেমী এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, এখন মেনে নিতে হবে— এটি বাংলা একাডেমীরই কাজ। তাই এটি এড়িয়ে যাবার কোনো উপায় এখন আর নেই। মূলত আমাদের লেখক এবং প্রকাশকদের উত্সাহিত করার লক্ষে এই মেলা। কিন্তু শেষপর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, তা না করে, যারা আমাদের লেখক নন, তাদেরকেই আমরা প্রোমোট করছি। পাঠকেরা একটি নির্দিষ্ট বাজেট নিয়ে বই কিনতে আসেন। কিন্তু মেলায় ঢোকার আগেই যদি বিদেশি লেখকদের পাইরেটেড বই কিনে বাজেট শেষ করে ফেলেন, তাহলে মেলার ভেতরে গিয়ে বই কিনবেন কীভাবে? মাসুদুজ্জামান আমার সুনির্দিষ্ট কয়েকটি প্রস্তাব আছে। একটা হলো, বাংলা একাডেমীর যে মেলা হচ্ছে, ক্রমশ এটি করপোরেট হয়ে যাচ্ছে। এটাকে কীভাবে রোধ করা যায়, সেটা ভাবার বিষয়। দ্বিতীয় প্রস্তাব হলো, লেখকেরা যাতে সহজে মেলার মধ্যে ঢুকতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা উচিত। মেলার সাথে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকেন প্রকাশক ও লেখকেরা। প্রকাশকদের ঢোকার সুযোগ আছে, লেখকদেরও যদি এমন ব্যবস্থা থাকে তাহলে সুবিধা হয়। লেখককুঞ্জে প্রকৃত লেখকদের প্রবেশাধিকার যেন নেই। এটি একটি অসুবিধা। আমার প্রস্তাব, লেখককুঞ্জে প্রকৃত লেখকেরা যাতে বসতে পারেন, তার ব্যবস্থা করা হোক। প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতি একটি প্রস্তাব রাখতে চাই—তারা যেন কম মূল্যে বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপে। তাহলে বইয়ের প্রচার এবং প্রসার বাড়বে। মাজহারুল ইসলাম যত দূর জানি, বাংলা একাডেমীর প্রস্তুতি প্রায় শেষ। সুতরাং, কী করা উচিত ছিল, তা না বলে মেলা চলাকালীন সময়ে কী করা উচিত, কী করলে মেলাটা সার্বিকভাবে সুন্দর করা যায়, সেসব প্রস্তাব আসাই ভালো। তা না হলে আলোচনার কোনো অর্থ দাঁড়াবে না। এই আলোচনাটি আরও মাসখানেক আগে হলে আমরা আমাদের প্রস্তাবগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারতাম। তাহলে বাংলা একাডেমীরও সুযোগ থাকত সেগুলো বাস্তবায়ন করার। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন যেন আগেভাগেই হয়, সেই প্রস্তাব রাখব। তারপরও প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগের জন্য ইত্তেফাককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মনিরুল হক বাংলা একাডেমীর প্রস্তুতি নিয়ে এখন আর কথা বলার তেমন সুযোগ নেই। স্টল বরাদ্দ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রাথমিক সব কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। আমি শুরু করতে চাই অন্য জিনিস দিয়ে। প্রাচীন পত্রিকা হিসেবে ইত্তেফাকের কাছে আমার জানার, বইয়ের বিষয়ে ইত্তেফাক কী করতে পারে? আমরা প্রকাশকেরা প্রতিদিন বইয়ের বিজ্ঞাপন দিতে চাই। কিন্তু আমাদের বইয়ের পাঠক কম, বিক্রিও কম। এ কারণে আমরা চাইলেও স্বাভাবিক রেটে বিজ্ঞাপন দিতে পারি না। সে ক্ষেত্রে যে রেট না নিলে নয়, বইয়ের বিজ্ঞাপনের জন্য এমন একটা রেট নির্ধারণ করা যায় কি না? বছরব্যাপী অন্তত একটি পৃষ্ঠা বইয়ের বিজ্ঞাপনের জন্য বিশেষ ছাড়ে বরাদ্দ দিলে ভালো হয়। রবীন আহসান প্রথমেই বলতে চাই, মাজহারুল ইসলাম ভাই যেমন বলেছেন, এই আয়োজন এক মাস আগে হলে ভালো হতো, আমি তা মনে করি না। কারণ বহু আগে থেকেই আমরা বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা একাডেমীকে বলে আসছি। গত চার বছর ধরে একটি স্টলের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে মাত্র ছয়ফুট জায়গা। এত ছোট স্টলে খুব বেশি বই রাখাও যেমন সম্ভব নয়, তেমনি স্টলের সামনে বেশি ক্রেতাও দাঁড়াতে পারেন না। একটি পরিবারের মা-বাবা আর একটি শিশু—তিনজন দাঁড়ালে সেখানে আর কারও দাঁড়ানোর সুযোগ থাকে না। এটা বড় একটি অসুবিধা। এতে মেলার সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। আমার প্রস্তাব হলো, স্টলের জন্য দশ ফুট জায়গা দেওয়া হোক। এতে বইগুলোও পাঠকের চোখে পড়বে। স্টলের সামনে হাঁটার জন্যও প্রশস্ত রাস্তা নেই। প্রচণ্ড ধুলো। আবার বৃষ্টি হলেও যাতে বইগুলো না ভেজে, সে জন্য উপযুক্ত আচ্ছাদন-ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রকাশকদের এমন একটি জোরালো সংগঠন থাকলে বাংলা একাডেমীর কাছে এসব দাবি তুলে ধরা যেত, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করা যেত। কারণ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া এখন কোনো কিছুই হয় না। প্রধানমন্ত্রী যে মঞ্চে মেলা উদ্বোধন করেন, উদ্বোধনের পর সেটি ভেঙে ফেলার প্রস্তাব রাখছি। ওই জায়গায় কমপক্ষে পঞ্চাশটি স্টল স্থাপন করা সম্ভব। আর ওই মঞ্চে যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়, তা বাংলা একাডেমীর মিলনায়তনে হতে পারে। এই সরকার আসার পর, এমনকি গত সাত বছরে সরকারি উদ্যোগে বই কেনা হয়নি, এটাও একটি নেতিবাচক দিক। ফরিদ আহমেদ ফেব্রুয়ারির মেলা নিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে যদি এমন কোনো আয়োজন হয়, তাহলে তার একটা ফল পরবর্তী মেলায় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু পত্রিকার কাজ তো সেটা নয়। পত্রিকা কেন এত আগে এসব আয়োজন করতে যাবে? এটা প্রকাশকদের কাজ। বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনা কমিটির প্রথম সভা হয়েছে ৩ জানুয়ারি। ওই দিনই ২০১৩ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। সুতরাং যেকোনো আয়োজন যদি এর আগে অনুষ্ঠিত হতো, সে ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালায় সেসব প্রস্তাব সংযুক্ত করা যেত। মাজাহারুল ইসলামের কথায় সুর মিলিয়ে আমিও বলতে চাই, মেলাটি কীভাবে সুসম্পন্ন করা যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করতে পারি। যে নীতিমালাটি চূড়ান্ত হয়েছে, তা যদি আমরা মেনে চলি, তাহলেও কিন্তু মেলাটাকে সুন্দর করা সম্ভব। বাংলা একাডেমীর অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিচালনার নীতিমালা ও নিয়মাবলি নামে ২৪ পৃষ্ঠার একটি পুস্তিকা আছে। এতে এত সুন্দর নীতিমালা আছে, একটা নির্ঝঞ্ঝাট মেলার জন্য এটুকুই যথেষ্ট। এটি সঠিকভাবে মেলে চললে বইমেলা নিয়ে কারও মনে কোনো প্রশ্নের অবকাশ থাকবে না। এবার বইমেলার দুটি পরিবর্তন এসেছে—একটি কাঠামোগাত অন্যটি মৌলিক বা নীতিগত। কাঠামোগত পরিবর্তনটি হলো, বাংলা একাডেমীর সীমানাপ্রাচীরের বাইরে কোনো স্টল হবে না। রাস্তাটা পথচারীদের যাতায়তের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখা হবে। পশ্চিমের আণবিক শক্তিকমিশন এবং পূর্বের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সামনে আর্চ-ওয়ে বসানো হবে। এর মধ্যে রাস্তার যে অংশ, তা একেবারেই পায়ে চলা পথ। এখানে যাতে হকাররা বসতে না পারে, সে জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধ করেছি। তাহলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচলে কোনো অসুবিধা থাকবে না। মৌলিক পরিববর্তন যেটি এসেছে, সেটি হলো, এ বছর সাংস্কৃতিক সামাজিক রাজনৈতিক—কোনো সংগঠনকে বইমেলায় স্টল দেওয়া হচ্ছে না। এটি হচ্ছে শুধু প্রকাশকদের বইমেলা। ২০১২ সালের বইমেলাতেই বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ বছর সেটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বেসরকারি পেশাদার প্রকাশনার সাথে জড়িত ২৩৫টি প্রতিষ্ঠানকে এবার স্টল দেওয়া হয়েছে, সরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রকাশনা সংস্থার মধ্যে দেওয়া হয়েছে ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে এবং সৌজন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিডিয়া, স্পন্সর, ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী প্রতিষ্ঠান মিলে অল্প কয়েকটি সংস্থাকে এবং মাত্র দুটি সংগঠনকে স্টল দেওয়া হয়েছে। মেলা পর্যন্ত যদি এর কোনো ব্যত্যয় না হয়, তাহলে এবরের মেলাকে আমরা শুধু প্রকাশকদের মেলা বলতে পারব। বইমেলায় বই বিক্রি ও প্রদর্শনের একটি নীতিমালা আছে, সেটি এবার খুব স্পষ্ট। সেটি হচ্ছে বাংলাদেশে প্রাকশিত বাংলাদেশি লেখকদের বই। কেউ কেউ এই পয়েন্টটি বুঝে বা না বুঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা বলছে বইমেলায় রবীন্দ্রনাথের বই বিক্রি হবে না—এটি খুবই ভুল কথা। কারণ, এই নীতিমালাটি ছয় নম্বর ধারায় গত ১৫ বছর ধরেই লিপিবদ্ধ আছে। কিন্তু বইমেলায় কখনোই রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ, নজরুলের বই বিক্রি বন্ধ ছিল না, এবারও থাকবে না। আর মনে রাখতে হবে, এটি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মেলা। সুতরাং এই স্মৃতির বাইরে গিয়ে শুধু বাণিজ্যিক উদ্দেশে এই মেলার আয়োজন আমরা চাই না। মূল কথা হলো, এই মেলা কোনো আমদানিকারকের বইমেলা নয়। এটি হচ্ছে দেশি প্রকাশকদের বইমেলা। এর আগে আমরা দেখেছি, রাস্তায় অননুমোদিত বই দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। ভেতরে যে অননুমোদিত বই বিক্রি হতো না, তা নয়। রাস্তায়ই এটি বেশি হতো। এর কারণ রাস্তার অধিকাংশ স্টলই ছিল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের স্টল। এদের নিজস্ব কোনো বই নেই। এরাই অননুমোদিত বই বেশি বিক্রি করেছে এবং মেলার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে। এ জন্য এবার শুধু প্রকাশকদেরই স্টল দেওয়া হচ্ছে। প্রকাশকেরা নিজের বই রেখে বাইরের বই বিক্রি করবেন না—এটা আমরা আশা করতে পারি। যদি কোনো প্রকাশক অননুমোদিত বই বিক্রি করেন, তাহলে আমরা তাঁর স্টল তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সুপারিশ করেছি। বলা যায় এ ব্যাপারে আমরা অনেকটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছি। পাশাপাশি আমাদের যে সংগঠন, বাংলাদেশ সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি, তার একটি উপকমিটি এক মাস আগেই গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিদিন মেলা পর্যক্ষেণ করবে। মেলার আটাশ দিন যদি আমরা এভাবে নীতিমালা মেনে চলি, তাহলে একটা সুষ্ঠু বইমেলা আমরা উপহার পাব। রবীন আহসান বলেছেন, স্টল খুব ছোট। কিন্তু বাংলা একাডেমীর যে জায়গা, নতুন ভবন ওঠার কারণে তা সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। আবার প্রকাশকের সংখ্যাও বাড়ছে। এ জন্যই স্টল ৮ ফুটের পরিবর্তে ৬ ফুট করা হয়েছে। রবীন আহসান আরও বলেছেন, মেলার সামনের মঞ্চটি উঠিয়ে দিয়ে যেন স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু ওই যায়গাটই হলো মেলার একমাত্র ব্রিথিং স্পেস। অনুষ্ঠানের চেয়েও বড় কথা, বৃদ্ধ বা শিশু অথবা ক্লান্ত পাঠকেরা এখানে এসে একটু বিশ্রাম নিতে পারেন। আন্দালিব রাশদী লেখকদের প্রবেশাধিকার সহজ করার ব্যাপারে বলেছেন। এখানে সমস্যা হচ্ছে, লেখকদের তালিকা নিয়ে। এই তালিকাটা দেবে কে? সে জন্য আমরা বলে আসছি, লেখকদেরও একটা ভালো সংগঠন হোক। তাহলে বইমেলা পরিচালনা কমিটিতে সেই সংগঠনের প্রতিনিধিরা যুক্ত হতে পারবেন এবং তাঁদের মাধ্যমে লেখকদের পাস দেওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে। আলমগীর সিকদার লোটন এবার প্রকৃত প্রকাশকেরাই স্টল পেয়েছেন। এবার বাংলা একাডেমী যেভাবে প্রকাশকদের ক্রাইটেরিয়া ঠিক করেছে, আমাদের তথা প্রকাশকেরা বসে সেটিকে অনুমোদন দিয়েছি। অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হয়তো দু-একটি ক্ষেত্রে এর সামান্য ব্যত্যয় ঘটে থাকতে পারে। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশন বিক্রেতা সমিতি এবং সৃজনশীল পুস্তক প্রকাশক সমিতি একটা টিম করেছি যে, মেলায় কেউ যদি পাইরেটেড বই, নেট বই বা নকল বই বিক্রি করে, তাহলে আমরাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। র্যাব বা প্রাশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আমরা বলতে পারি, স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে এবার নিরানব্বই শতাংশ সফলতা এসেছে। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকও এ ব্যাপারে আমাদের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও প্রকাশকদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করছি। সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে যেমন বঙ্গবন্ধু পরিষদ আসছে, তেমনি বিএনপিরও একটা সংগঠন আসবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতাই আমরা কামনা করছি। আলমগীর রহমান বইমেলা এলেই সবাই প্রকাশকদের ওপর দোষ চাপায়। কিন্তু স্টল বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। একজন প্রকাশক বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই প্রকাশ করেন। মেলাকে পাঠকবান্ধব করতে হলে মানসম্পন্ন প্রকাশককে উপযুক্তভাবে বই প্রদর্শনের ব্যবস্থা করার দিকে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন। আরেকটা প্রস্তাব আমি দিতে চাই, যদি কোনো স্টলে পাইরেটেড বই বিক্রি হয়, তাহলে তা যেন তথ্যকেন্দ্রের মাইকে প্রচার করা হয়। তাহলে অনিয়ম ধরতে সুবিধা হবে। ফিরোজ আহমেদ বইমেলাতে মানসম্পন্ন বই বের হয় খুব কম। বইমেলা সফল করা মানে শুধু বইয়ের বিক্রি বাড়ানো—এটা হতে পারে না। বাংলাদেশের বইয়ের বাজার বিস্তার করা, নতুন নতুন পাঠক তৈরি করাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে একজন মানুষ বছরে সাড়ে চার কেজি কাগজ ব্যবহার করে, যেখানে আমেরিকায় করে পঞ্চাশ কেজি; আর বৈশ্বিক বিবেচনায় প্রায় দুশ কেজি। তার মানে আমরা খুব কম বই কিনি। বই কেনা বাড়াতে বইয়ের দাম কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারকে প্রকাশনাশিল্পের জন্য ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে। কাগজের দাম না কমলে লেখকেও উপযুক্ত সম্মানী দেওয়া সম্ভব হবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, একজন লেখক পত্রিকায় আর্টিকেল হিসেবে লিখলে যে সম্মানী পান, সেটি একটি বই আকারে বের করলে তার ন্যায্য রয়্যালটি তার চেয়েও অনেক কম হয়। এ কারণেই এই বাজারে মানসম্মত বই পাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না। যাঁরা জনপ্রিতার তুলনায় সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়ে বই প্রকাশ করেন, তাঁদের বই বিক্রি হয় খুবই কম। এ জন্য মুনাফা ঠিক রেখে কীভাবে বইয়ের দাম কমানো যায় সে জন্য আমাদের উদ্যোগী হওয়া দরকার। আর আমাদের দেশে সরকারি ক্রয়ও কম। সরকারি ক্রয়ে স্বেচ্ছাচারিতা এবং দলীয় প্রীতি ভয়ানক প্রভাব ফেলে। এতে সরকারি ক্রয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের কোনো প্রকাশক উত্সাহী হন না। প্রকাশক-লেখকদের এমন একটি কমিটি গঠন করা উচিত, যে কমিটি বিভিন্ন লাইব্রেরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বই কেনার জন্য চাপ দিতে পারবে। আমরা অভিযোগ করেছিলাম, সন্দেশ নামের একটি প্রকাশনাপ্রতিষ্ঠান লেখকদের স্বাক্ষর জালিয়তি করে বই প্রকাশ করছে। আনু মুহাম্মদ চিঠি দিয়ে তাঁর বই ছাপতে নিষেধ করেছেন। এসব অভিযোগ জানানোর পরও এর সমাধান হয়নি। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাব। এবারের বই মেলা নিয়ে বলব, এবার একটা অসাধারণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণের সামনের অংশটিকে যদি ব্রিথিং স্পেস বলা হবে, তাহলে সেখানে মাইকের উচ্চশব্দে কান ঝালাপালা করার কী দরকার? আরেকটা ব্যাপার, বইমেলায় এখন আর প্রখ্যাত লেখকেরা আসেন না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনেও দেখা গেছে, বিখ্যাত লেখকেরা মেলায় আসতেন, ঘুরে বেড়াতেন। এখন এমন হয়েছে, যে বইমেলায় বেশিক্ষণ থাকা যায় না। মেলায় বড় একটা ফাঁকা জায়গা আসলেই দরকার, যেখানে বসা যায়, ফ্রেশ নিশ্বাস নেওয়া যায়, ক্লান্ত হয়ে কথা বলা যায়। মেলার মধ্যে একটি সস্তা ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করাও বেশ জরুরি। কারণ লেখক-পাঠকদের পকেটে বেশি টাকা থাকে না। বদিউদ্দিন নাজির ১৯৭২ সালে সরদার জয়েনউদ্দিন ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা থেকে বেশ কিছু নথি নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো ঘেঁটে আমাদের মেলাকে আধুনিক করে তোলা প্রয়োজন ছিল। সে চেষ্টা কেউ করেনি। একাবর দিল্লি থেকে বই আসার পথে এয়ারপোর্টে আটকে গেল। শেষ পর্যন্ত তা ছাড়ানোও হলো না আবার দিল্লির ওই প্রতিষ্ঠান ফেরতও পেল না। এখন পর্যন্ত এর সুরাহা হলো না। বাইরের দেশের কোনো প্রকাশক নিয়মতান্ত্রিকভাবে বাংলাদেশের কোনো মেলায় অংশ নিতে চাইলে কীভাবে বই আসবে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান এখনও হলো না। আবার ব্যাংক-সুবিধার ব্যাপারেও একটা সিদ্ধান্তে আসা উচিত। সে জন্যে প্রয়োজনে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলাকে প্রামাণ্য ধরে আমাদের মেলাকে আরও আধুনিক করে তুলতে হবে। তা না হলে সেই বাহাত্তর সালে মেলার যে দৃশ্য ছিল, এখনও তা-ই থাকবে। মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন এবার বইমেলায় একটি মৌলিক পরিবর্তন এসেছে। আমাদের প্রকাশকদের একটি দাবি ছিল, বইমেলা যেন প্রকৃত প্রকাশকদের মেলা হয়, সেটি এবার নিশ্চিত হয়েছে। মেলা চলাকালীন সময়েও এই নীতিমালার কঠোর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অনেকেই আছেন, একটা কাগজে বিদেশি লেখকের কাছ থেকে এই মর্মে লিখে আনেন যে, আমার এই বই প্রকাশের অনুমোদন দিলাম। এটা আইনগতভাবে কোনো অনুমোদনের মধ্যে পড়ে না। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, পত্রিকাগুলোও বিদেশি লেখকদের পক্ষে লিখছে। এ কারণেই আমাদের লেখদের বই বেশি চলে না। নতুন লেখকদের বইও এ কারণে চলে না। আমাদের এ দিকেও মনোযোগী হতে হবে। আমাদের ভাবতে হবে, আমরা ৩০ কোটি টাকার বই আমদানি করছি, কিন্তু ৩ কোটি টাকার বই আমরা রপ্তানি করতে পারি না। এ জন্যই বইমেলায় বাংলাদেশি লেখকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পত্রিকাগুলোও সেভাবে দায়িত্ব পালন করবে—এটাই আমরা আশা করব। এ কে এম তারিকুুল ইসলাম রনি বাংলা একাডেমীর যে নীতিমালা আছে, তা যদি আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করি, তাহলে মেলায় আর কোনো সমস্যা থাকবে না বলে আমার বিশ্বাস। মিডিয়াগুলোকে বলব, আপনারা বাংলা একাডেমীর নীতিমালাটা পড়েন এবং নিউজ কাভার করার সময় যদি দেখেন কোথাও তার ব্যত্যয় ঘটছে, তাহলে তা রিপোর্ট করেন। খান মাহবুব মেলার সাফল্য নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। প্রায়ই দেখা যায়, মেলায় যে টাস্কফোর্স কাজ করে, তা অনেক সময় ঝিমিয়ে যায়। এবার যেহেতু প্রথম থেকেই নীতিমালা খুব কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে, আশা করছি টাস্কফোর্সও সবসময় কার্যকর থাকবে। মেলার জায়গা মানুষের তুলনায় বাড়ছে না। এ ক্ষেত্রে যদি বাংলা একাডেমীর পুকুরটা অস্থায়ীভাবে ব্যাবহারের উদ্যোগ নেওয়া যায়, তাহলে কিছুটা হলেও জায়গার সংকুুলান হবে বলে আমার মনে হয়। বাংলাদেশের বাইরের বাংলাভাষী জনগোষ্ঠীও যাতে এই মেলার সুফল পেতে পারে, সে ব্যাপারেও আমাদের চিন্তা করা দরকার। বিশ্বের আশিটা দেশে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বাংলাদেশি বই রপ্তানি করা হয়। আন্তর্জাতিকীকরণের মাধ্যমে এই পরিসর আরও বাড়াতে আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আহমেদুর রশীদ চৌধুরী আমি স্বপ্ন দেখি, আমাদের প্রকাশনা আর্ট এবং ইন্ডাস্ট্রি—এই দুই অর্থেই শিল্প হয়ে উঠবে। এই স্বপ্ন নিয়েই আমি প্রকাশনায় এসেছি। মিডিয়ার কাছে আমার দাবি থাকবে, তারা যেন এই শিল্পের বিকাশে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সবাই এবারের বইমেলা নিয়ে খুবই আশাবাদী; আমিও। আমি ১ তারিখের অপেক্ষায় আছি, সবকিছু ঠিক থাকলে আমি বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালককে একটি স্যালুট দিতে চাই। জহিরুল আবেদীন জুয়েল বইমেলা পরিচালনা কমিটি নীতিমালা বাস্তবায়নে যে প্রস্তুতি নিয়েছে তাতে একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বইমেলা করা সম্ভব হবে। আমি খুব আশাবাদী, পাইরেটেড বই এবং বিদেশি লেখকদের বই বিক্রি বন্ধে যে নীতিমালা আছে, সেটা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থাগুলো উপকৃত হবে। বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকসহ মেলা পরিচালনা কমিটি এবার নীতিমালা বাস্তবায়নে সচেষ্ট আছেন এবং মেলার শেষ দিন পর্যন্ত থাকবেন বলেই বিশ্বাস করি। বাংলাদেশে বইয়ের প্রচ্ছদ, প্রিন্টিং মান, গ্রাফিক্স, বাইন্ডিং—সবকিছুতে এসেছে অনেক পরিবর্তন। পাশ্ববর্তী দেশের চেয়ে অনেক ভালো ভালো বই বের হচ্ছে আমাদের প্রকাশনা সংস্থাগুলো থেকে। কেউ কেউ বলেন, সারা বছরে ১০টি ভালো বই বের হয় না। তারা শুধু সমালোচনার জন্য এ কথা বলেন। বাংলা একাডেমী আমার প্রকাশনা সংস্থাকে দুবার পুরস্কৃত করেছে সেরা মানের গ্রন্থ ও সর্বাধিক সেরা মানের গ্রন্থ প্রকাশ করার জন্য। আমি বলব, একুশে বইমেলা বাংলা একাডেমী চত্বরেই রাখতে হবে। প্রয়োজনে বাংলা একাডেমী মেলার জন্য আলাদা একটি বিভাগ খোলা যেতে পারে। তাহলে মেলা চলাকালীন সময়ে একাডেমীর প্রাত্যহিক কাজে কোনো সমস্যা হবে না। বাংলা একাডেমীর প্রমিত বানানরীতি ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রকাশনা সংস্থায় অন্তত একজন করে সম্পাদক রাখা প্রয়োজন। আমাদের দেশে সম্পাদক এবং প্রুফ রিডারের অভাব রয়েছে। বাংলা একাডেমী যদি এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে, প্রকাশকেরা উপকৃত হবেন। বইমেলায় শিশুদের উপযোগী প্রচুর বই বের হয়। বিক্রিতেও শীর্ষে থাকে এসব বই। অথচ এসব বই ভুলে ভরা থকে, যা আমাদের শিশুদের ভুল শিক্ষা দিচ্ছে। বাংলা একাডেমী বানান বিষয়ে আরও কঠোর হলে এ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাসান জায়েদী এবারের মেলা সুন্দর হবে—নিঃসন্দেহে এটি খুব ভালো খবর। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণের বাইরে কোনো স্টল দেওয়া হচ্ছে না—এ উদ্যোগটি ইতিবাচক। যেসব নীতিমালা নিয়ে এবারের মেলা আয়োজিত হতে যাচ্ছে, তা কঠোরভাবে মানা হলে এবং নেট বই, পাইরেটেড বই ও নামধারী প্রকাশকদের মেলায় নিষিদ্ধ করা হলে এটি শুধু প্রকাশকদেরই মেলা হবে। আর লেখককুঞ্জে লেখক-সমাগমের বিষয়টিও আয়োজকদের গুরুত্বের সাথে ভাবতে হবে। মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বাংলাদেশের সৃজনশীল প্রকাশনার সবচেয়ে বড় উত্সব এই বইমেলা। এই এক মাসের বইমেলার ওপরই সারা দেশের সৃজনশীল প্রকাশনা অনেকটা নির্ভরশীল। আবার লেখক ও পাঠকদের সঙ্গে প্রকাশকদের সরাসরি মিলন ঘটায় এই মেলা। এর সঙ্গে বহু মানুষের রুটি-রুজির প্রশ্নও জড়িত। একজন প্রকাশক হিসেবে বইমেলা আমার কাছে ঈদ-উত্সবের মতোই আনন্দের। কিন্তু প্রতি বছরই মেলাকে ঘিরে যে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি হয়, তা পীড়াদায়ক। বইমেলায় যে বিপুল জনসমাগম, সে তুলনায় বাংলা একাডেমীর চত্বরটি ছোট। এ জন্য ক্রেতা-পাঠকদের অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আবার সবাই লাইনবদ্ধভাবে মেলায় প্রবেশ করলেও, প্রবেশপথ কম থাকায় তাদের খুব সমস্যায় পড়তে হয়। মেলার জায়গা কম থাকায় এবং স্টলের আকৃতি ছোট হওয়ায় পাঠক দেখেশুনে পছন্দের বই কেনার সুযোগ পান না। নতুন প্রজন্মের শিশু-কিশোরেরাও মেলার বড় পাঠকগোষ্ঠী। কিন্তু তাদের খাওয়া বা ঘোরার কোনো ব্যবস্থা নেই। অথচ তারাই আগামী দিনের বড় পাঠক। এসব বিষয় নিয়ে একাডেমী কর্তৃপক্ষ এবং প্রকাশকেরা মিলিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করলে সবাই উপকৃত হবে। তবে আশার কথা হলো, বাংলা একাডেমী গুরুত্বের সঙ্গে এবারের বইমেলার আয়োজন করছে এবং প্রকৃত প্রকাশকদের জন্যই বইমেলার উদ্যোগ নিয়েছে। রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে যদি এটা করা যায় তাহলে খুবই ভালো হয়। ওসমান গনি প্রথমেই আমি ইত্তেফাককে ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে, গত বছর বিশেষ ছাড়ে ইত্তেফাক বিজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এবারও যাতে এটি অব্যাহত থাকে, সে জন্য আমি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করব। বইমেলা এলে দেখা যায় প্রকাশকসহ বিভিন্ন সংগঠনেরও অভিলাষ হয় মেলাতে একটি স্টল নেওয়ার। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এবার এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা গেছে। অবশ্য এর মধ্যেও এমন দু-একটি প্রকাশককে স্টল দেওয়া হয়েছে, যাদের অন্যদের বই বিক্রি ছাড়া কোনো উপায় নেই। বাংলা একাডেমীতে বিক্রি হবে শুধু বাংলাদেশি এবং চিরায়ত বই—এই বিষয়টিকে যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এই মেলা অবশ্যই সুন্দর হবে। আর পাইরেটেড বইয়ের বিক্রি বন্ধ হলে ভালো বইয়ের বিক্রিও বাড়বে। বইয়ের দাম বাড়ছে কাগজের দাম বাড়ার কারণে। কিন্তু পত্রিকাগুলোও অল্প দামে কাগজ পাচ্ছে বলে তারা এ বিষয়ে কিছু লিখছে না। আমার দাবি থাকবে, কাগজ আমদানিতে যে ৬৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে, তা কমিয়ে আনা হোক। এই সরকার একটি বইবান্ধব সরকার; বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকও এসব ব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ—এটা আমাদের জন্য বেশ আশার ব্যাপার। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো প্রকাশকদের চেয়ে নতুন প্রকাশকদের কদর বেশি, এটি দুঃখজনক। অনেক নতুন প্রকাশক আছেন, তাঁরা পাঁচটি নতুন বই নিয়ে এসে পাইরেটেড বই বিক্রি করেন। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা তা-ই বলে। অবশ্য এটি একটি বড় কাজ। এতে কিছু অসুবিধা থাকতেই পারে। তবে মেলায় কারা স্টল পাবে, তার প্রকৃত নির্ধারক হবেন প্রকাশকেরা। কারণ প্রকাশকেরাই বলতে পারবেন, কে প্রকৃত প্রকাশক। আর একটা বার্তা আমি এবার দিতে চাই, যেকোনো মূল্যে এবার পাইরেটেড ও বিদেশি বইয়ের বিক্রি প্রতিহত করা হবে। মিডিয়াকে অনুরোধ করব, তারা যেন বইমেলা কাভার করার জন্য দক্ষ রিপোর্টার নির্বাচন করেন। তাহলে মেলায় কোনো অনিয়ম হলে তা ধরা পড়বে। সৈকত হাবিব এবার বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শুধু প্রকৃত প্রকাশকদের নিয়েই বইমেলা করতে চাচ্ছেন, এজন্য সাধুবাদ। আমরা তাঁর সাফল্য প্রার্থনা করি। তবে আজকে আমার কথা একটু ভিন্ন। প্রতি বছরই দেখি বইমেলা এলে মিডিয়াগুলোর বইপ্রীতি বেড়ে যায়। কিন্তু সারা বছর আর খবর নেই। এটি পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। পত্রিকায় যা-ও মাঝে মাঝে দু-চারটা বইয়ের সমালোচনা বের হয় কিন্তু টেলিভিশনগুলো নাচা-গানাকেই সম্ভবত সংস্কৃতি মনে করে। এটা খুব দুঃখজনক। তারা কি সপ্তাহে না হোক, মাসেও বইপত্র নিয়ে কোনো অনুষ্ঠান করতে পারে না? আর আমাদের লেখক-প্রকাশকরাও বইমেলার সময় সজাগ হন। এবং এক ধরনের যুদ্ধ লিপ্ত হন। এটা ঠিক যে, ফেব্রুয়ারি ভাষার মাস, সে কারণে ব্যস্ততা থাকবে। কিন্তু এ কারণে বইয়ে যেন মানহীনতার উত্সব চলে, সেটাও মর্মান্তিক। প্রকাশকদের দেখি, প্রতি বছর বইমেলা নিয়েই তত্পর থাকতে। কারণ এটা তৈরি বাজার। কিন্তু বইয়ের সংস্কৃতি বিস্তারে তাদের তেমন কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে না। অথচ তাদের দু-দুটো শক্তিশালী সমিতি রয়েছে। তাদের বইমেলাকেন্দ্রিক না থেকে বইয়ের বিপণন ও প্রচারে কার্যকর উদ্যোগ দরকার। অন্যদিকে হরেদরে বই প্রকাশ না করে প্রকৃত লেখকদের তুলে ধরা দরকার। নইলে প্রতি বছর একই কথা আর অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি শেষ হবে না। মো.মাজেদুল হাসান এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় যে, বাংলা একাডেমী অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকৃত প্রকাশকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে মেলাকে সুস্থ প্রকাশনার প্রধানতম প্রেরণাস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। আমি আশা করছি, একাডেমির এ প্রচেষ্টাকে সফল ও অর্থবহ করতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তথা সরকারকে সংকীর্ণ, দলীয় ও ব্যক্তিসম্পর্কের বাইরে এসে প্রকৃত ও মানসম্পন্ন বইয়ের সঠিক ও যথাযথ মূল্যায়নে আন্তরিক হতে হবে। বই পড়া ও কেনার প্রতি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারকে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত পাঠাগার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে বই ক্রয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে হবে। এই প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও দ্রুততর করতে হবে। মেলায় বাংলা একাডেমীর ক্যাফেটেরিয়ায় খাদ্যসামগ্রীর মূল্য ক্রেতা-পাঠকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার ব্যবস্থা নেওয়াসহ স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মেলার ক্রেতা-পাঠকদের বিনা মূল্যে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করাও অত্যন্ত জরুরি। আশিস সৈকত দুটি পয়েন্ট ধরে আমি কথা বলব। একটি হলো, ইত্তেফাকে বিজ্ঞাপনের রেট কমানোর প্রস্তাব এসেছে। আপনারা জানেন, গত বছর থেকেই ইত্তেফাক বইয়ের বিজ্ঞাপনে ছাড় দিয়ে আসছে। এবারও তা অব্যাহত থাকবে। শুধু ফেব্রুয়ারি বা শুক্রবার নয়, বছরের যে সময়ই হোক, আমরা বইয়ের বিজ্ঞাপনে বিশেষ ছাড় দেব। গোলটেবিলে আসা আরেকটি প্রসঙ্গ নিয়ে আমি বলব, যাঁরা বইমেলায় আসেন না, বা যাঁরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকেন, তাঁদের বইয়ের প্রতি আগ্রহী করতে তুলতে ইত্তেফাক সচেষ্ট ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। সবাইকে ধন্যবাদ। (আলোচনার ক্রমানুসারে বক্তব্য সাজানো হয়েছে। শ্রুতি লিখন :চাণক্য বাড়ৈ, সহযোগিতায় :সালাহউদ্দিন মুকুল, হাসনাত শাহীন, রণজিত্ সরকার, আজহারুল হক ফরাজী) তাসমিমা হোসেন এত প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য সবাইকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এতক্ষণ যে আলোচনা শুনলাম, তাতে আমি খুবই আশাবাদী যে, এবারের বইমেলা খুব সুষ্ঠ ও সফল হবে। আমি মেলায় মাইকের শব্দদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। শামসুজ্জামান খান এতক্ষণ বেশ উদ্দীপক আলোচনা হয়েছে। স্টল বরাদ্দের ব্যাপারে দু-একজন প্রকাশক কিছুটা সমালোচনা করেছেন। অথচ প্রকাশকেরা বসেই স্টল বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি তো স্পষ্ট করেই বলেছি, যাকেই স্টল দেব, আপনাদের মতামত নিয়েই দেব। চারজন প্রকাশক, সাংস্কৃতিক জোটের প্রধান, আবৃত্তি জোটের প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের একজন প্রতিনিধি নিয়ে বইমেলা কমিটি করা হয়েছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত তাঁদের মত নিয়েই নেওয়া হয়েছে। তারপরও আমি প্রচণ্ড চাপের মধ্যে আছি। বিভিন্ন দিক থেকে চাপ আসছে। বাংলা একাডেমীর অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটের মধ্যে হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ আসছে। এসব ক্ষেত্রে কোনো প্রকাশক-নেতাদের আমার পাশে পাই না। সব আমাকেই সামলাতে হচ্ছে। এই চাপ কখনো কখনো অসহ্য হয়ে ওঠে। আমি গত বছরই ঘোষণা দিয়েছিলাম, ২০১৩ সালের বইমেলা হবে শুধু প্রকাশকদের বইমেলা। সেই কথা মনে রেখেই আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি। আপনাদেরও সহায়তা চাচ্ছি। বেশ কয়েকটি গোপন মিটিং করে আমাকে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। তার পরও মেলার প্রস্তুতি কিছুটা বাকি রয়ে গেছে। এবারের মেলাটি আমাদের সবার জন্যই চ্যালেঞ্জ। কারণ যেকোনোভাবেই আমরা এই মেলাকে প্রকাশকদের মেলা হিসেবে দেখতে চাই। আরেকটি বিষয়, আমাদের প্রকাশকদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া আর কেউই কিন্তু প্রকাশক নন, সবাই বইব্যবসায়ী বা বইবিক্রেতা। আমাদের প্রকাশকেরদ প্রুফ রিডার, সম্পাদক, বা সম্পাদনা পরিষদ—কিছুই নেই। বইমেলার আলোচনায় চিত্তরঞ্জন সাহা এবং সরদার জয়েনউদ্দীনের কথা কিন্তু আমাদের কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উচ্চারণ করতে হবে। তাঁরা শুধু বইমেলা নয়, বই প্রকাশে একটা মানদণ্ড তৈরিতেও অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন। অনেকেই নতুন প্রকাশকদের উত্সাহ দেওয়ার ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন। কিন্তু নতুরাও অসাধারণ বই বের করছেন। তাঁদের সহায়তা না করলে পরিবর্তন আসবে কীভাবে? পাইরেটেড বইয়ের বিক্রির ব্যাপারে বাংলা একাডেমী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আর বাংলা একাডেমীর কোথাও মেলার কথা বলা নেই। এ ক্ষেত্রে দারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। তারা যদি এ কাজটি করত, তাহলে আমরা তাদের সাহায্য করতে পারতাম। তবু আমাদেরই যখন মেলা করতে হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমীতে একটি বিশেষ সেল গঠন করে দেওয়ার জন্য আমি সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাব। যাহোক, এবার যদি মেলাটা পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতের মেলাগুলো একটি নিয়মের মধ্যে থাকবে—এটি আশা করতে পারি। এ জন্য আমরা মিডিয়া, রাজনৈতিক দল, ছাত্রসমাজ—সবার সহযোগিতা কামনা করছি। অসীম সাহা বইমেলার নিয়ম-শৃঙ্খলা নিয়ে অনেক কথাই প্রতি বছর বলা হয়। অগ্রগতি খুব ধীরে ঘটছে। অল্প কিছু প্রকাশকের সম্বন্ধে লেখক হিসেবে আমার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল, যা আমি গত বছর একটি দৈনিকে লিখেছিলাম। তখন প্রায় সব প্রকাশক সংঘবদ্ধভাবে এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। লেখাটি ছিল লেখকের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট। ঢালাওভাবে সব প্রকাশকের বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ ছিল না। অনেক প্রকাশককেই আমি জানি, লেখক-প্রকাশক সম্পর্কটা যথাযথ ভাবে অনুসরণ করেন। বইমেলার আয়োজক কর্তৃপক্ষকে যারা অন্যায়ভাবে নানাবিধ চাপ প্রয়োগ করে, বইয়ের পাইরেসি করে, তাদের প্রতিহত করার কথা সবাই বলে আসছে, কিন্তু তাদের ঠেকানো যাচ্ছে না। পত্রিকা, প্রকাশক, লেখক—সবাই দল-উপদলে বিভক্ত। প্রকাশকের সঙ্কট, লেখকের সঙ্কট দূর করতে সবাইকে সচেষ্ট হওয়া দরকার। কিন্তু প্রশ্নটা হলো—বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালকের একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। তার পরও তিনি যেভাবে সমস্ত চাপ সামলিয়ে শুধু প্রকাশকের মেলা করার জন্য বদ্ধ পরিকর হয়েছেন, তা একটি নতুন ইতিহাস। তবুও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা খুব অস্বাভাবিক নয়। অতএব, এ পর্যন্ত যা হয়েছে আমাদের তার প্রশংসা করতেই হবে। আমরা যদি পরিবর্তনের ইচ্ছায় অবিচল থাকি, তাহলে ধাপে ধাপে সমস্যাগুলো দূর হবে। সমস্যা প্রকাশকদের মধ্যে যেমন আছে, লেখকদের মধ্যেও কম-বেশি আছে। নতুন প্রকাশকদের উত্সাহ দেওয়ায় কয়েকজন প্রবীণ প্রকাশক নাখোশ। কিন্তু নতুন প্রকাশক যদি ভালো বই প্রকাশ করেন, তাহলে তাঁকে সহযোগিতা করতে অসুবিধা কোথায়? নতুন-পুরোনো সবার সম্মিলনে মেলাকে সফল করে তুলতে হবে। নতুন প্রকাশক যেমন আসবেন, নতুন লেখক-কবিও আসবেন। নতুনরা ভালো করলে অবশ্যই তাঁদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করতে হবে। সমস্যা হলো, আমরা যারা বয়সী—আমরাই তরুণদের আসতে দিতে চাই না। আমাদের প্রকাশকেরা সাধারণত ব্যক্তিসম্পর্ক ও জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর কর বই প্রকাশ করেন। প্রকাশকদের নিজস্ব সম্পাদকও নেই। অথচ পৃথিবীর সব দেশে প্রকাশকেরা বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সম্পাদক নিয়োগ দেন। আমাদের সীমাবদ্ধতা হলো, এ দেশের প্রকাশকেরা অতিরিক্ত ব্যায় করার মতো মুনাফাও করতে পারেন না। এর কারণ, বইয়ের বিক্রি কম। প্রকাশক-লেখককের মধ্যে সুবিধাবদীদের আধিক্য থাকায় সবজায়গাতেই বিপর্যয়। চেতনার অভ্যন্তরে সংস্কৃতির আলো না জ্বালালে ইতিবাচক কিছু আশা করা যায় না। সবারই উচিত মানসম্মত বই প্রকাশে উদ্যোগী হওয়া। সবচেয়ে বেশি উদ্যোগী হওয়া দরকার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের।