কৃষকের পরম বন্ধু। প্রকৃতির অলঙ্কার। গান গেয়ে প্রকৃতিকে নব রূপ দেয়। সুকণ্ঠী পাখি। অপরূপ তার নৃত্য। এমন অসংখ্য গুণে গুণান্বিত দোয়েলপাখি। আমাদের জাতীয় পাখি। কৃষিবান্ধব পাখি দোয়েল। ক্ষতিকর পোকা, মাকড়, কীটপতঙ্গ খায়। পাটখেতের বিচ্ছুও খেয়ে থাকে। ফসলকে সুরক্ষা দেয়।
এখন আর প্রকৃতিতে সেভাবে দোয়েলের দেখা মেলে না। পথে, ঘাটে, ধানখেতে, জমির আইলে, পুকুরপাড়ে, টিনের ওপর, বসতবাড়ির আঙিনায় দোয়েলের দেখা নেই। শিস দিয়ে কেউ ঝড় তোলে না। দোয়েল ছোট পাখি। পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চির মতো লম্বা হয়। সাদাকালো রং তার। লেজে নীল-সাদার মিশ্রণ সত্যিই নয়নাভিরাম। শরীরের তুলনায় লেজ একটু লম্বা, সরু থেকে মোটা। স্ত্রী ও পুরুষ পাখির শরীরের রঙে কিছুটা ভিন্নতা আছে। স্ত্রী দোয়েলপাখি দুই থেকে চারটি ডিম পাড়ে। ডিম লালচে বাদামি আভা ও নীলাভ সবুজ ছাপযুক্ত। বসন্তের শেষ এদের প্রজনন সময়। স্ত্রী পুরুষ উভয়ই পালা করে ডিমে তা দেয়। দুজনে বাচ্চাকে বড় করে তুলতে ভূমিকা রাখে। খড়কুটো, শুকনো ঘাস দোয়েলের বাসা তৈরির উপকরণ।
চৌদ্দ থেকে পনেরো বছর দোয়েল বেঁচে থাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় কম বেশি দেখা যায়। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, চীন ও ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশে এদের দেখা মেলে। ক্রমশ এই উপকারী পাখিটির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে দোয়েল। অথচ আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির সঙ্গে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে পাখিটি। পরিবেশবিদদের মতে, ফসলের খেতে নির্বিচারে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার, গাছপালা উজাড় হওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শৌখিন শিকারিদের কারণে দোয়েল পাখির সংখ্যা কমছে।
বনের পাখি শিকার প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবু একশ্রেণির মানুষ সারা বছরই দোয়েলসহ বিভিন্ন পাখি শিকার করে। তাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হয় কমই। সে কারণে পাখিশিকারিদের তত্পরতা দিন দিন বাড়ছে। জাতীয় সংবাদপত্রে এসংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসন কতোটা ব্যবস্থা নেয় সেটাই প্রশ্ন।