নির্ভার রবি বোপারা

ইংল্যান্ডের সুঠামদেহী এই অলরাউন্ডারকে দেশটির ভবিষ্যত্ বলে একসময় অনেকেই মনে করতেন। নিজের প্রতি মানুষের বিশ্বাসের প্রতিদান জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ঠিকমতো দিতে পারেননি। তাই বলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) রবি বোপারা ব্যর্থ হবেন; এটা নিজেও হয়তো কল্পনা করেননি। প্রথম দু’ম্যাচেই দলের হারের সঙ্গী হতে হয়েছে। তাই একটা চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। অবশেষে দল জিতল এবং বোপারা ম্যাচসেরা হলেন। ফলে এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস তিনি ফেলতেই পারেন। বরিশালের বিপক্ষে জয়ের পর নিজেই বললেন, বেশ নির্ভার লাগছে এখন। গত আসরের শুরুটা বেশ চমত্কারই ছিল চিটাগাং কিংসের। কিন্তু শেষদিকে খেই হারিয়ে ফেললে প্রথম আসরের সেমিফাইনালে খেলা হয়নি তাদের। তবে দ্বিতীয় আসরে শুরুটা মোটেও ভালো করতে পারেনি চট্টগ্রাম। শক্তিশালী দল নিয়েও প্রথম দু’ম্যাচেই হারের তিক্ত স্বাদ পায় তারা। তাই টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বেশ চাপে পড়ে যায় মাহমুদুল্লাহ’র দল। সেই চাপকে সাথে নিয়ে বরিশালের বিপক্ষে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামে চট্টগ্রাম। আর এই ম্যাচ দিয়েই হারের বৃত্ত থেকে নিজেদের বের করে আনে তারা। বোলারদের নৈপুণ্যে দারুণ এক জয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চট্টগ্রাম। দলের এই চাপমুক্তিটা বেশ বোঝা গেল বোপারার কণ্ঠে, ‘খুশী, খুবই খুশী। এ ম্যাচ জয়ের পর অনেকটা ভারমুক্ত লাগছে। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে বেশ চাপে ছিলাম। তাই এ ম্যাচে জয়টা খুব বেশি দরকার ছিল। নয়তো চাপটা আরো বড় হতো। তবে ব্যাটিং-এ মাত্র ১২৯ রান করায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম জয়ের ব্যাপারে। কিন্তু বোলাররা দারুণ বল করে দলকে অসাধারণ এক জয় এনে দিয়েছে। এই উইকেটে ১৫০ রান করলেই ভালোভাবে লড়াই করা সম্ভব। কিন্তু কম রান করেও বোলারদের জন্য জয়ের দেখা পেলাম আমরা।’ কাগজে-কলমে এবারও বেশ শক্তিশালী দল গড়েছে চট্টগ্রাম। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের পুরোপুরিভাবে মেলে ধরতে পারছে না তারা। প্রথম দু’ম্যাচ সেই কথাই বলছে। তবে পরের ম্যাচগুলোয় ভালো করার কথাই জানালেন বোপারা। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম দলটি বেশ ব্যালেন্সড। দলে ভালো ও উদীয়মান খেলোয়াড় রয়েছে। বিদেশি খেলোয়াড় যারা আছে তারও বেশ ভালো। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে আমরা আশানুরূপ খেলতে পারিনি। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোয় সবাই যার যার জায়গা থেকেই ভালো পারফরমেন্স করবে।’ কিংবদন্তী ক্রিকেটাররা দলে থাকলে উত্সাহের কোন কমতি থাকে না-এ বিষয়টি সবারই জানা। ঠিক তেমনি অবস্থা চট্টগ্রামের। কারণ দলের সাথে অ্যাম্বাসেডর হিসেবে আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা। তার দলে থাকাটা কেমন লাগছে এ প্রশ্নের জবাবে বোপারা বলেন, ‘ব্রায়ান লারা এই দলের অ্যাম্বাসেডর। সে খুব ভালোভাবেই আমাদের সাথে মিশে গেছে। খেলা নিয়ে সে আমাদের সাথে সবসময়ই কথা বলছে ড্রেসিংরুমে। আমাদের উন্নতির জন্য সে কাজও করছে। ম্যাচে ভালো খেলার জন্য আমাদের বেশ উত্সাহ দিচ্ছে। ক্রিকেট সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতাটা আমরা সবাই বেশ ভালোই জানি। তার ড্রেসিংরুমে থাকাটা অনেক বড় ব্যাপার আমাদের জন্য।’