অবশেষে জয়ের মুখ দেখল চিটাগাং

সংক্ষিপ্ত স্কোর চিটাগাং কিংস : ১২৯/৭ (রবি বোপারা ৩৮, রায়ান টেন ডশেট ২৩; আজহার ২/২২, কবির ২/২৭, শফিউল ২/২৪)। বরিশাল বার্নার্স : ১০৮/৯ (ব্র্যাড হজ ৩৪, অলক কাপালি ১২; এনামুল ২/১২, আরাফাত ২/২৩, কুপার ২/১৮)। ফল : চিটাগাং কিংস ২১ রানে জয়ী। দলে ব্রেন্ডন টেলর, রায়ান ডশেট, রবি বোপারা, জ্যাকম ওরামের মতো তারকা। তারপরও টানা দুই ম্যাচ হেরে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল চিটাগাং কিংসের। অবশেষে গতকাল, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) প্রথম জয়ের মুখ দেখলো চিটাগাং কিংস। হারতে বসা ম্যাচে মূলত এনামুল হক জুনিয়রের অসাধারণ এক স্পেলে ভর করে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বরিশাল বার্নাসকে ২১ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের এই প্রথম জয়ের দিনটা আরো হতাশার হয়ে এলো গতবারের রানার্স-আপ বরিশালের জন্য। চার ম্যাচে এই নিয়ে তৃতীয় হারের মুখ দেখল ব্র্যাড হজের দল। প্রধানমন্ত্রীর জনসভার জন্য গতকাল সূচী পাল্টে দুপুরের খেলাটি নিয়ে আসা হয় সকাল ১০টায়। আর সকাল বেলার আর্দ্রতাকে কাজে লাগাতে টসে চট্টগ্রামকেই প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বরিশাল অধিনায়ক হজ। হজের পরিকল্পনা মোটামুটি সার্থকই বলতে হবে। কারণ চট্টগ্রামের দুই ওপেনার নাইম ইসলাম ও রবি বোপারা ৫২ রানের জুটি করলেও তাতে ব্যয় হয় ৭.২ ওভার। আর এরপরই কবির আলী, আজাহার মেহমুদ ও শফিউল ইসলাম দ্রুত ধসিয়ে দেন চট্টগ্রামের ইনিংস। নাইমের বিদায়ের কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে যান আরেক ওপেনার বোপারাও। ২৯ বলে ৩৮ রান করে থামেন এই ইংলিশ ক্রিকেটার। দুই ওপেনারের দেখানো পথে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা আর হাঁটতে পারেননি। পরবর্তীতে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে চট্টগ্রাম। এবারও ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ফিরেছেন মাত্র ৩ রান করে। ফলে বড় সংগ্রহের পথটা রুদ্ধ হয়ে যায় তাদের। তবে মাঝে ব্রেন্ডন টেইলরের ১৪ এবং শেষদিকে নেদারল্যান্ডের রায়ান টেন ডশেটের ২৩ ও নিউজিল্যান্ডের জ্যাক ওরামের ১৮ রানে লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে চট্টগ্রাম। তারপরও নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে যে ১২৯ রান সংগ্রহ করে চিটাগাং কিংস, তাকে বড় পুঁজি বলা যায় না। বল হাতে বরিশালের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন কবির আলী, আজহার মাহমুদ ও শফিউল ইসলাম। মাত্র ১৩০ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে শুরু থেকেই বিপাকে ছিল বরিশাল। নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকার মধ্যে ব্যতিক্রম হয়ে লড়ছিলেন অধিনায়ক হজ ও মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান অলক কাপালি। এই দুই জনকে যথাক্রমে ৩৪ ও ১২ রানে আউট করে ফেরান এনামুল হক জুনিয়র। এই দুই জনের বিদায়েই অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় বরিশালের পরাজয়। শেষ দিকে শফিউলের ১০ রানের পরও ৯ উইকেটে ১০৮ রানে থেকে যায় তাদের ইনিংস। বল হাতে চট্টগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কেভন কুপার, এনামুল হক জুনিয়র ও আরাফাত সানি; এনামুল ২টি উইকেট নিতে ৪ ওভারে ব্যয় করেছেন মাত্র ১২ রান। ম্যাচের সেরা হয়েছেন রবি বোপারা।