নারায়ণগঞ্জের সঙ্গে একীভূত হতে তিন শিল্পাঞ্চল আন্দোলনে নামছে

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের দাবি সফল হওয়ার পরে এবার পৌরসভার দাবি নিয়ে মাঠে নামছেন ৩ শিল্পাঞ্চলের ১০ লক্ষাধিক মানুষ । তারাও এলাকার দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাথে একত্রিত হওয়ার জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। সিদ্ধিরগঞ্জ ও বন্দর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হলেও আইনগত জটিলতার কারণে ফতুল্লাকে সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করা যায়নি। কারণ এসব ইউনিয়নকে প্রথমে পৌর এলাকায় রূপান্তর করতে হবে। আর তাই ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে শহরের সীমান্তবর্তী তিন ইউনিয়ন চাচ্ছে তাদের পৌরসভা ঘোষণা করা হোক। কারণ, এই ৩ ইউনিয়নে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানিখাত নীটশিল্প থেকে শুরু করে ডজনখানেক শিল্পখাতের প্রধান কেন্দ্র অবস্থিত হলেও শুধু ইউনিয়ন পরিষদের গ্যাড়াকলে প্রতিবছর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে কমপক্ষে অর্ধশত কোটি টাকার রাজস্ব। তাই জনসংখ্যা, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অতি গুরুত্বপূর্ণ এই তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ মানুষও পৌরসভার পক্ষে তাদের জোরালো মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদে আয়ের প্রধান উত্স হল ট্রেড লাইসেন্স, ভূমি রেজিস্ট্রি কর। ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও হোল্ডিং ট্যাক্স নেয়ার বিধান থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদের আইন মতে সেখানে রাজস্ব আসছে যত্সামান্যই। ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কুতুবপুর ইউনিয়ন এলাকায় কমপক্ষে ১০ লাখ লোকের বাসস্থান। এই শিল্পাঞ্চল এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশের নীট শিল্প, রোলিং মিল, ডাইং, স্পিনিং, টেক্সটাইল, পেপার মিল,পাইপ,ভোজ্য ও জ্বালানি তেল, প্রিন্টিং, সোয়েটার, ইট বালু, বরফকলসহ কয়েকটি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের কারণে এসব এলাকার জনগণের উন্নয়নের জন্য মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে স্থানীয় এমপি অথবা সরকারি গমের উপর। জানা গেছে, ফতুল্লা ইউনিয়নের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯২ সালের ২ ফেব্রুয়ারী। সে সময় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রয়াত নূর হোসেন। ২০০৮ সালের আগে নির্বাচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হলে নূর হোসেন ফতুল্ল্লাকে পৌরসভায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে এবং সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার অজুহাতে মামলা করেন। ফলে সেসময় এবং গত বছর সারা দেশে ইউপি নির্বাচন শুরু হলেও ফতুল্লাবাসী নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হন। এই ২০ বছর ফতুল্লাবাসীকে কাটাতে হচ্ছে ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট নিয়েই। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুত্ফর রহমান স্বপন জানালেন, এবারে আমাদের ২ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ ফতুল্লা ইউনিয়নের জন্য প্রয়োজন কমপেক্ষ ৩০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রীর একটি খামার বাড়ীর প্রজেক্ট পর্যন্ত আমরা পাইনি, এর কারণ ফতুল্লা ইউনিয়নে কৃষি বলতে কিছুই নেই। তারপরেও আমরা ইউনিয়ন পরিষদে পড়ে আছি। কুতুবপুর ইউনিয়নটি দেশের অন্যতম বৃহত্ ইউপি হিসেবে পরিচিত। গত ১০ বছরে দুই দফায় নির্বাচন হয়েছে এই ইউনিয়নের। বর্তমানে এই ইউনিয়নের নিজস্ব আয় প্রায় আড়াই কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু। তিনি জানালেন,একই কারণে খামার বাড়ির প্রজেক্ট পাননি তারা। পৌরসভা করাটা এখন শুধু সময়ের নয়,সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। এনায়েতনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন জানালেন, পৌরসভা থাকলে দেশের নীট সেক্টরের প্রধান কেন্দ্র বিসিক পল্লী থেকেই সরকার ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও হোল্ডিং ট্যাক্স পেত বছরে কয়েক কোটি টাকা।