আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

আরবী বছরের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়ালের ১২ তারিখ আজ। আজকের দিনে পৃথিবীতে এসেছিলেন বিশ্ব মানবতার সর্বশেষ ও একমাত্র দিশারী সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আবার ইসলামের বাণী প্রচার করে আজকের দিনে ৬৩ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আর তাই আজকের দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসাবে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে সারাদেশে পালিত হবে। আজ শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। আর সে কারণে এ দিনটি সরকারি ছুটির মধ্যে পড়েনি। তবে সংবাদপত্র অফিস বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো প্রকাশিত হবে না। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) এর তাত্পর্য বিশ্লেষণ করে জাতীয় দৈনিকগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বিটিভি, বেতারসহ বেসরকারি স্যাটেলাইলট টিভি, এফএম ব্যান্ড চ্যানেল রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, জাতীয় পার্টি-জেপি চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী শেখ শহীদুল ইসলাম বাণী দিয়েছেন। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক দ্বীপ জাতীয় পতাকা ও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) লেখা পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে। সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর জন্ম ৫৭০ খিস্টাব্দে আজকের দিনে। নবীর জন্মের অনেক আগে থেকেই পৃথিবীতে চলছিলো অন্ধকার যুগ অর্থাত্ আইয়্যামে জাহেলিয়া। ছিলো না মানুষের মধ্যে কোন ধরনের মমত্ববোধ। এক গোত্রের সাথে অপর গোত্রের মারামারি ছিলো নিত্যকার বিষয়। তুচ্ছ ঘটনায় হানাহানি ছিলো স্বাভাবিক ব্যাপার। কন্যা শিশুর জন্ম হলে তাকে জীবন্ত কবর দেয়ার মত অমানবিক ঘটনা ঘটাতো সে যুগের লোকজন। তারা ব্যস্ত ছিলো মূর্তি পূজা নিয়ে। মানুষ ভুলেই গিয়েছিলো এ পৃথিবীর একমাত্র সৃষ্টিকারী ও মালিক মহান আল্লাহকে। আইয়্যামে জাহেলিয়ার যুগে মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ দুনিয়াতে প্রেরণ করেন তার বন্ধু শেষ নবীকে। নবীর বয়স যখন ৪০ বছর তখন তিনি নবুয়্যত লাভ করেন। রাষ্ট্রপতির বাণী : রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এক বাণীতে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহেক আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ছিলেন মানব জাতির পথ প্রদর্শক। পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে তাঁর অনুপম জীবনাদর্শ সকল মানুষের জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়। এই মহামানবের জীবনাদর্শের অনুকরণ-অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবজাতির সার্বিক কল্যাণ ও মুক্তি। প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি সদস্য ও দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ্ আমাদের প্রিয়নবী (সা.)-কে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন সারা জাহানের জন্য রহমত হিসাবে। পাপাচার, অত্যাচার, মিথ্যা, কুসংস্কার ও সংঘাতে জর্জরিত পৃথিবীতে তিনি মানবতার মুক্তিদাতা ও ত্রাণকর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আজকের অশান্ত ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত মুখর বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বের শান্তি ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে। বিরোধী দলীয় নেতার বাণী : বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এক বাণীতে বলেন, মহান আল্লাহ বিশ্ব জগতের রহমত স্বরূপ হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে এই জগতে প্রেরণ করেন। বিশ্বনবীর আবির্ভাবে পৃথিবীতে মানুষ ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জগতের মুক্তির সন্ধান পায় এবং নিজেদের কল্যাণ ও শান্তির নিশ্চয়তা লাভ করে। আমি বিশ্বের মুসলিম ভাই-বোনদেরও জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। জাতীয় পার্টি-জেপি : জাতীয় পার্টি-জেপি’র চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সমগ্র মুসলিম উম্মার প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে জেপি নেতৃদ্বয় মুসলিম উম্মার সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর আবির্ভাব ছিল সমগ্র বিশ্বের জন্য এক পরম আশীর্বাদ। আমরা তার আদর্শ অনুসরণের চেষ্টায় ব্রতী হবো, এটাই আমাদের কামনা। আমরা পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে পবিত্র কোরআন ও তার রাসূলের সুন্নাহ অনুসরণের শক্তি দান করেন। কর্মসূচি : গতকাল বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের পূর্ব চত্বরে শুরু হয়েছে দু’সপ্তাহের অনুষ্ঠানমালা। আর এর আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ঢাকাস্থ ইরান দূতাবাসের উদ্যোগে বকশীবাজার আলীয়া মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে বিকাল ৪টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আজ বিকাল ৪টায় পুরানা পল্টন হাউজ বিল্ডিং চত্বরে মহান পবিত্র সীরাতুন্নবী উদযাপন উপলক্ষে দাওয়াতুন্নবী (সা.) সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। জাকের পার্টি দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটি সকাল ৯টায় সদরঘাট মোড় থেকে আনন্দ মিছিল বের করবে। সকাল ১১টায় বিএমএ অডিটোরিয়ামে মাইজভান্ডারী ফোরামের আলোচনা সভা। রেজভীয়া দরবার শরীফ সকাল ৮টায় মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে জশনে জুলুস বের করবে এবং সকাল ৯টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। আশেকান মাইজভান্ডারী এসোসিয়েশন সকাল ৯টায় শাহজাহানপুর রেলওয়ে ময়দানে আলোচনা সভা ও পরে আনন্দ মিছিল বের হবে। আরামবাগ দেওয়ানবাগ শরীফে বেলা ২টায় আশেকে রাসূল (সা.) সম্মেলন। আজিমপুর দায়রা শরীফ খানকাহ-এ ১২ দিনব্যাপী মাহফিল গতকাল বৃহস্পতিবার এশার নামাজের পর শেষ হয়েছে। এছাড়া আঞ্জুমানে তোয়াজিয়ার উদ্যোগে ২৭ সিদ্ধেশ্বরী ঢাকায় মিলাদ মাহফিল ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী যুবলীগ ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বিকাল ৪টায় মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।