মুন্সীগঞ্জে পাঁচ লাশ উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জে গুলিবিদ্ধ তিন ব্যক্তিসহ ৫ জনের লাশ গতকাল বৃহস্পতিবার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা হলেন আব্দুল কুদ্দুস (৪২), ইব্রাহীম (২৫) ও মাসুদ ওরফে রাঢ়ী মাসুদ (৩২)। লাশগুলোর চোখ ও দু’হাত পেছনে বাঁধা ছিল। তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয় সিরাজদিখানের রশুনিয়া ব্রিজের নিচে দু’টি ও শ্রীনগর উপজেলার শ্রীধরপুর রাস্তার পাশ থেকে। শিয়ালদি গ্রামের আল আমিন (৩৫) ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের সরিষাবন গ্রামের নূর আলমের স্ত্রী শিরীন আক্তারের (২০) ঝুলন্ত লাশ পুলিশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিন যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার সম্পর্কে পুলিশ মনে করছে, তিনটি হত্যাকাণ্ডের মধ্যেই যোগসূত্র রয়েছে। পরিবারের লোকজনের দাবি, এগুলো গুপ্তহত্যা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, এদের মধ্যে কুদ্দুস ও ইব্রাহিম রাজধানীর কদমতলী পূর্ব জুরাইনের আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন হত্যা মামলার আসামি। গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ত্রাসীরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে তাকে গুলি করে হত্যা করে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানেই বেরিয়ে আসবে হত্যার মূল কারণ। গুলিবিদ্ধ তিন যুবকের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত রয়েছে-পরিবারের এমন অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে এমনটা মনে করছি না। তদন্তেই বেরিয়ে আসবে সঠিক ঘটনা।’ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার নওপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের পুত্র মো. ইব্রাহীম। তার মাথায় তিনটি গুলির চিহ্ন রয়েছে। ইব্রাহীম ঢাকার পূর্ব জুরাইনে তার মামা আব্দুস ছাত্তার মিয়ার বাড়িতে থাকতেন। ইব্রাহিমের মা নাজমা বেগম বলেন, ইব্রাহিম গত ১৬ জানুয়ারি কাতার যাওয়ার জন্য ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে বনানী যাওয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। পরেরদিন ঢাকার কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরী করা হয়। ইব্রাহিমের মামা আব্দুস ছাত্তার বলেন, ইব্রাহিম রাজধানীর নয়াবাজারের আবুলের গ্রিলের দোকানে কাজ করতো। তার বাবা কুয়েত প্রবাসী। তিনি আরও বলেন, আমার ভাগ্নে কোন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল না। কিন্তু গুম করার পর পরিকল্পিতভাবে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যা করা হয়েছে। কেরানীগঞ্জের আম বাগিচা গ্রামের বাসিন্দা কুদ্দুস মাদারীপুর জেলার গোগলী গ্রামের আব্দুল খালেক ব্যাপারীর পুত্র। তার মাথায় ও বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। কুদ্দুসের বড় ভাই সারোয়ার হোসেন জানান, ১৪ দিন ধরে তার ভাই নিখোঁজ ছিল। কেরানীগঞ্জের আম বাগিচার পানাকা মার্কেটের মিনি গার্মেন্টসের মালিক ছিল তার ভাই। দোকান থেকে বের হয়ে বাসায় যাওয়ার পথে ১১ জানুয়ারি বিকাল ৪টার দিকে সে নিখোঁজ হয়। কুদ্দুস তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক। হত্যার কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। তবে তিনি দাবি করেছেন, কুদ্দুস কোন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল না। অপরদিকে রশুনিয়া থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগর উপজেলার শ্রীধরপুর সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় মাসুদ ওরফে রাঢ়ী মাসুদের (৩২) লাশ। তার গ্রামের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আম বাগিচা। পিতা মিজান খান। মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে লাশ সনাক্ত করেন তার ভাবী নুরজাহান বেগম। তিনি বলেন, গত ১১ জানুয়ারি পাওনা টাকা আনতে যায় পোস্তগোলায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ হয়। ঢাকার সোয়ারীঘাটের খেয়া পারাপারে টোল আদায় করত। সিরাজদিখান থানা ওসি শেখ মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, থার্টি ফার্স্ট নাইটে রাজধানীর কদমতলীর পূর্ব জুরাইন কদমতলী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হত্যা মামলার আসামি ছিলেন ইব্রাহিম। একই মামলায় আটক সজীব পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিমের নাম প্রকাশ করে। তবে ইব্রাহিম কিভাবে মারা গেছে পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। এদিকে সিরাজদিখান উপজেলার শিয়ালদি গ্রামের মোকলেছ চকিদারের পুত্র আল আমিনের (৩৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আর মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সা করাতে এনে স্ত্রী শিরীন আক্তারের (২০) লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে স্বামী। টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘিরপাড় ইউনিয়নের সরিষাবন গ্রামের নূর আলমের স্ত্রী শিরীন আক্তার। সদর থানার ওসি আবুল বাশার জানান, মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।