বিচারকদের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়ন করুন

অধস্তন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এর আগে এ সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগাদা দিয়ে এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনি আদালতের মনোভাব বুঝতে পেরেছেন। এ সময়ের মধ্যে সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে এখানে আপনাদেরকে অন্যভাবে আসতে হবে। আশা করি এরই মধ্যে আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। গত বছরের পহেলা অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বিচারকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে এক মাস সময় দেয়। এরপর সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সময়সীমা কয়েকদফা বৃদ্ধি করে। কিন্তু এর পরেও পে-কমিশনের সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করেনি সরকার। গত ১০ জানুয়ারি আদালত সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও সুপারিশ বাস্তবায়ন না করে অর্থ সচিবের একটি প্রতিবেদন এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম আদালতে দাখিল করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আদালতের উপরোক্ত আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ সচিব ফজলে কবির কর্তৃক জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০০৭-এর সুপারিশ পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট নথি উপস্থাপন করা হয়। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি গত ২১ জানুয়ারি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করেন। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকার জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০০৭-এর সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য আট সদস্যবিশিষ্ট একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে। কমিটিতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, আইন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী রয়েছেন। সরকার আনুষঙ্গিক সকল দিক পর্যালোচনা করে জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য এই কমিটি গঠন করেছে বলে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর এটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনারা আদালতের আদেশকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে যাওয়ার জন্য) করার জন্য কোন কৌশল (ডিভাইস) তৈরি করতে পারেন না। আপনারা কমিটি গঠন করেছেন, নথি দাখিল করেছেন। আপনাদের এসব নোটিস আমরা আমলে নিচ্ছি না। আমাদের আগের আদেশই এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে। আপনারা তো আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোন কিছুই করেননি। আজ (বৃহস্পতিবার) আবার সময় চাচ্ছেন। কোনভাবেই সময় দেয়া যায় না। আমরা দিন ধার্য করে দিচ্ছি। এর মধ্যে আদেশ বাস্তবায়ন করে নিয়ে আসবেন। অন্য কোন কথা শুনতে চাই না। গতকাল আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট এম কে রহমান, এডভোকেট মুরাদ রেজা, এডভোকেট মমতাজউদ্দিন ফকির এবং আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।