দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষকদের বিচার দাবি

‘ধর্ষণ, গণধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, হত্যাসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেছেন, নির্যাতনের শিকার নারীর বিচার প্রাপ্তির জন্য জেলায় জেলায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ধর্ষকের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ধর্ষকদের রাজনৈতিক প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া বন্ধ এবং ধর্ষণসহ সকল প্রকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ঐ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ‘সমাজের বিবেক জাগ্রত হোক’-এই শ্লোগান নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আয়শা খানম। আয়শা খানম বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, এই নির্যাতনের মাত্রা ও ধরন দিন দিন অনেক নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ হচ্ছে। ভোগবাদী সমাজে ধর্ষণকারীদের উল্লাসে ঝরে যাচ্ছে নারীসহ কোমলমতি শিশু, কিশোরী। বর্তমান সময়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রীসহ শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, হত্যার ঘটনার মাত্রা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, আমাদের শিশু, কিশোরী, মা-বোনেরা যে আক্রান্ত, এখানে প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেত্রী নারী হয়েও এ সহিংসতা বন্ধে ভূমিকা রাখতে পারেননি। নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, মুক্তিযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিল তারা পরবর্তীকালে রাষ্ট্রীয়ভাবে, রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রের উদ্যোগ নেই। এটা কেবল নারী আন্দোলনের এজেন্ডা নয়। তিনি সন্ত্রাস এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, রাষ্ট্র, সরকার, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম-সকলেই নারীর বিরুদ্ধে একটা অবস্থান নিয়েছে। নারীকে কেবল পণ্য নয় পুরুষের জন্য নারীকে ‘ইচ্ছুক’ হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অ্যাডভোকেসি জনা গোস্বামী। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, সাংবাদিক মিথিলা ফারজানা, মনোবিজ্ঞানী ডা. শাহীদা চৌধুরী, হিল উইমেনস্ ফেডারেশনের চঞ্চনা চাকমা ও ইজাজ ইউসুফ প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন পরিষদের লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি ও লবি ডিরেক্টর অ্যাডভোকেট মাকসুদা আক্তার।