হাতিয়ায় নয় ডাকাতকে গণপিটুনি ওসিসহ আহত ৩০ জন

শুক্রবার সকালে হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর সাগরিয়া বাজার বাসস্ট্যান্ডে স্থানীয় জনতা সন্দেহভাজন ১০ জন ডাকাতকে আটক করে। এ সময় এক ডাকাত অস্ত্রসহ পালিয়ে গেলেও বাকি ৯ ডাকাত জামাল উদ্দিন মিলন (৩৫), আব্দুল মালেক (৪৫), মো. বাবুল (৩৪), মো. শরীফ (২৮), মোশারেফ হোসেন (২৭), নূরনবী (৩৭), সোহেল (২৮), রিয়াজ উদ্দিন (২৬), মাসুদ মুন্সিকে (৩০) গণপিটুনি দিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে হাতিয়া থানার ওসি মোকতার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডাকাতদের উদ্ধার করতে গেলে পুলিশ জনতার সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট- পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং পুলিশ শতাধিক রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে ওসিসহ ৭ পুলিশ ও ২৩ জনতা আহত হয়। সন্ধ্যায় দাঙ্গা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সহায়তায় আটক ডাকাতদের উদ্ধার করে হাতিয়া থানায় নিয়ে আসা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, একই ইউনিয়নের ছালাউদ্দিন, এমরান, ইউপি সদস্য নিজাম জলদস্যু কালাম বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে ভোলার লালমোহন থেকে ধৃত ডাকাতদের নিয়ে আসে হাতিয়া উপকূলীয় এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে। এদিন সকালে ৪টি ভাড়ায় চালিত হোন্ডা দিয়ে তাদের গোপন আস্তানায় যাবার সময় স্থানীয় জনতা সন্দেহজনকভাবে আটক করলে ঘটনাটি ফাঁস হয়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরে হাতিয়া উপকূলীয় এলাকায় জেলে নৌকায় ডাকাতি ও মুক্তিপণ আদায় বেড়ে গেলে স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে উঠে। ফলে জনতা মারমুখী হয়ে ধৃত ডাকাতদের স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে নিয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে হাজির হয়। এতে জনতা আরো ক্ষিপ্ত হয়। স্থানীয় জনতার ধারণা পুলিশের সঙ্গে ডাকাতদের গোপন আঁতাত রয়েছে। এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ পাল্টা রাবার বুলেট ছোঁড়ে। এতে হাতিয়া থানার ওসি মোকতার হোসেন (৫০), এএসআই নয়ন (৩৫), ত্রিদীপ (৩৭), কনস্টেবল সুজন কৃষ্ণ (২৫), মহবুবার (৪০), ইউছুপ (৪০), পেয়ার (৩২) এবং মুক্তিযোদ্ধা হাসান জামান (৬০), এমরান মাস্টার (৪৫), ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেজবাহুল হক মিঠুসহ (৩২) ৩০ জন আহত হয়। সন্ধ্যায় দাঙ্গা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করলে এক সমঝোতা বৈঠক বসে এবং ডাকাতি হওয়া জেলে নৌকা উদ্ধার করে দেয়ার আশ্বাসে জনতা আটক ডাকাতদের পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এ সময় স্থানীয় জনতা ডাকাতদের সহযোগিতা করার অভিযোগে ইউপি সদস্য নিজাম চৌধুরী এমরান ও সালাউদ্দিনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।