জোকোভিচ-মারে ফাইনাল আজ
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৪৯
রজার ফেদেরার ও রাফায়েল নাদালের পর বর্তমানে টেনিসের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথে পরিণত হওয়া নোভাক জোকোভিচ এবং অ্যান্ডি মারে আজ রবিবার মুখোমুখি হচ্ছেন বছরের প্রথম গ্রান্ড স্ল্যাম অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা লড়াইয়ে। জোকোভিচ টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়ায় এসে খেলছেন টপ ফেভারিটের মতোই। চতুর্থ রাউন্ডে স্টেনিস্লাস ওয়াওরিঙ্কা ছাড়া তাকে ঝামেলায় ফেলতে পারেননি আর কেউই। পাঁচ ঘণ্টার ওই লড়াইয়ে জেতার পরে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ‘জোকো’র সামনে আজ বাধার প্রাচীর তুলতে প্রস্তুত ব্রিটেনের অ্যান্ডি মারে। মারেরও আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি নেই। মাত্রই সেমিফাইনালে সুইস সুপারস্টার ফেদেরারকে হারানো মারের সামনে অনুপ্রেরণা হয়ে আসতে পারে গত বছরের ইউএস ওপেনের ফাইনাল। বার বার শিরোপার খুব কাছে গিয়ে ফিরে আসতে থাকা মারে গত বছর ব্রিটিশদের ৭৬ বছরের গ্রান্ড স্ল্যাম বন্ধ্যাত্ব ঘোচান ইউএস ওপেনের ফাইনালে জোকোভিচকে হারিয়েই।
কোর্টের বাইরে দু’জনের বন্ধুত্ব অবশ্য বেশ পুরোনো। দু’জনের প্রথম সাক্ষাত্ মাত্র ১১ বছর বয়সে। জুনিয়র কোর্টে তখন দু’জনে টেনিস খেলতেন কেবল খেলার জন্যই। জিততেই হবে এমন মানসিকতা সেসময় ছিল না, ছিল নিছক খেলার আনন্দ। তারপরে কেটে গেছে অনেকটা সময়। ২০০৮ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে এই মেলবোর্ন পার্কের্ই শিরোপা জিতে দু’জনের মধ্যে প্রথম স্পটলাইটে আসেন জোকোভিচ। তবে মারেও খুব একটা পিছিয়ে ছিলেন না। শিরোপা জিততে না পারলেও নিজের প্রতিভার প্রমাণ ঠিকই দিচ্ছিলেন তিনি। জোকোভিচের পাঁচটি গ্রান্ড স্ল্যাম শিরোপার বিপরীতে তার ঝুলিতে আছে মাত্র একটা। দু’জনের ১৭বারের মুখোমুখি লড়াইয়েও জোকোভিচ এগিয়ে আছেন ১০-৭ ব্যবধানে। তবে আজকের লড়াইয়ে এসব পরিসংখ্যানের মূল্য হয়তো খুব সামান্যই। সেটা জানেন দু’জনেই। আর দু’জনের পুরনো সখ্যতা এই লড়াইয়ে যোগ করছে ভিন্ন মাত্রা।
এমনটা মনে করছেন খোদ জোকোভিচও, ‘সেই ১১-১২ বছর বয়স থেকে আমরা দু’জন দু’জনকে চিনি। আমার মনে হয় দু’জনের দ্বৈরথে এটা নিশ্চিতভাবেই বিশেষ কিছু যোগ করছে।’ তবে ওপেন যুগের প্রথম পুরুষ হিসেবে টানা তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা জোকোভিচ কোর্টে নিশ্চিতভাবেই এসব কিছু মাথায় রাখবেন না। সুতরাং দারুণ এক ফাইনালের প্রত্যাশা করতেই পারেন সবাই।