আরণ্যকের চার দশক পূর্তিতে বর্ণিল উত্সব

মহান মুক্তিযুদ্ধে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে মঞ্চনাটককে আশ্রয় করে সমাজ বদলের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ হলেন একদল তরুণ। তাদের প্রথম প্রযোজনা ভাষা আন্দোলনের পটভূমিকায় লেখা শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’ নাটক। সেই দলটির নাম আরণ্যক নাট্যদল। কালের প্রবাহমানতায় দলটি পেরিয়ে এসেছে পথচলার দীর্ঘ চার দশক। আনন্দের এই মুহূর্তকে উত্সবের রঙে রাঙিয়ে তুলতেই শনিবার থেকে দলটি শুরু করেছে উত্সব। শিল্পকলা একাডেমীর জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে শনিবার বিকালে এর উদ্বোধন করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহম্মদ হাবিবুর রহমান। উদ্বোধনকালে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের নাট্যজন মনোজ মিত্র, নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন দলপ্রধান মামুনুর রশীদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘আরণ্যক একটি দলের নাট্যকথা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট- আইটিআই বিশ্ব সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। এতে বাংলাদেশের নাট্যকার ও নির্দেশকদের দেয়া হয় সংবর্ধনা। প্রায় বিশজন নাট্যকার ও নিদের্শককে সংবর্ধনা দেয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে ‘আরণ্যকের চার দশক’ নিয়ে একটি লাইট এন্ড সাউন্ড শো ও বিশেষ নৃত্যকলা প্রদর্শিত হয় শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে। উদ্বোধন শেষে মঞ্চস্থ হয় দলটির জনপ্রিয় হাসির নাটক ‘রাঢ়াঙ’। নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ। আজ রবিবার নাট্যপ্রদর্শনীর আগে পরিবেশিত হবে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। এরপর প্রদর্শিত হবে নাটক ‘এবং বিদ্যাসাগর’। এছাড়াও আরো মঞ্চস্থ হবে ‘ময়ূর সিংহাসন’, হংকংয়ের একটি নাট্যদলের পরিবেশনায় ‘ঠ্যাগোর ইন চায়না’, ‘সঙক্রান্তি’ ও ‘ইবলিশ’। মঙ্গলবার ‘জনগণের নাটক’ ও বুধবার ‘দুই বাংলার নাটকের সাঁকো’ শীর্ষক দুইটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। এতে মুখ্য আলোচক হিসেবে যথাক্রমে মামুনুর রশীদ ও বিভাষ চক্রবর্তী এবং সভাপতি হিসেবে যথাক্রমে থাকবেন অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন। শুক্রবার সমাপনী দিনেও একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ‘বিশ্বায়নের মুখে বাংলা নাটক— করণীয়’ শীর্ষক এই সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে থাকবেন নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ। সভাপতিত্ব করবেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। প্রতিটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে একাডেমীর সেমিনার কক্ষে। সমাপনী দিনে প্রদান করা হবে ‘আরণ্যক দীপু স্মৃতি পদক’। দলটির প্রথম প্রযোজনা ‘কবর’ মঞ্চস্থ হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ আয়োজন। রফিকুল ইসলামের স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্ন দেখি বাকশিল্পী রফিকুল ইসলাম দ্বিতীয় একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান হয়ে গেল গত শনিবার। সুফিয়া কামাল কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারে অনুষ্ঠিত এ আবৃত্তি সন্ধ্যার শিরোনাম ‘স্বপ্ন নিয়ে স্বপ্ন দেখি’। মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্রের ২৩ বছর পূর্তিতে এ আবৃত্তি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়। শুরুতেই সংগঠনটি থেকে প্রকাশিত আবৃত্তি অ্যালবাম ‘হূদয়ে চৈতন্য বাজে’র মোড়ক উন্মোচন করেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউট- আইটিআই বিশ্ব সভাপতি রামেন্দু মজুমদার। এরপর শুরু হয় রফিকুলের আবৃত্তি। তিনি একে একে ১৭ জন কবির ২৫টি কবিতা আবৃত্তি করেন। কবিগুরুর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ‘আমার মত নত’ কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে শুরু হয় পরিবেশনা। এরপর কবিগুরুর ‘সোনার তরী’ ও ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’, জীবনানন্দ দাশের ‘তোমারে যেখানে সাধ’ ও ‘বনলতা সেন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘সাম্যবাদী’, ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ ও ‘আগমনী’, শামসুর রাহমানের ‘বর্ণমালা আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’ ও ‘যদি তুমি ফিরে না আসো’সহ ২৫টি কবিতা আবৃত্তি করেন রফিকুল ইসলাম। শিশু চলচ্চিত্র উত্সব সমাপ্ত গত এক সপ্তাহ ধরে সুফিয়া কামাল কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার চত্বর ছিলো শিশুদের কলকাকলিতে মুখর। উপলক্ষ— চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি আয়োজিত ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উত্সব। শুক্রবার শেষ হলো এ উত্সব। এদিন প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের পাশাপাশি ছিলো চলচ্চিত্র প্রদর্শনীও। শুক্রবার বিকালে বসে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন উত্সব উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনোয়ার। এ বছর ছোটদের নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতায় ১ম হয়েছে তওকীর ইসলামের চলচ্চিত্র ‘গোলযোগ’, ২য় আরিফুল ইসলাম ও ওবায়দুল্লাহর ‘একাত্তরে’ এবং তৃতীয় হয়েছে রায়হান আহম্মেদের ‘আই উইল মিস ইউ’ । এছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে এস এম সজিবের ‘স্বপ্ন পূরণের গল্প’ ও মাসুদুল হকের ‘এপিটাপ’; একশনএইড নারী ক্ষুদে নির্মাতা পুরস্কার পেয়েছে লায়লা কবির সুস্মিতার ‘প্যারাডক্স’। পুরস্কার হিসেবে তারা পেয়েছে ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও পরবর্তী ছবি নির্মাণের জন্য পঁচিশ হাজার টাকার আর্থিক প্রণোদনা । এছাড়াও, দর্শক ভোটে পুরস্কার জিতেছে আর্জেন্টিনার ‘লুমিরাস’ ও নরওয়ের ‘রাফিকি’। এর আগে সারাদেশ থেকে আগত শিশু প্রতিনিধিরা অন্তরঙ্গ আড্ডা দেয় প্রিয় লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবালের সাথে। গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই চলচ্চিত্র উত্সবে সারাদেশে মোট ২২টি ভেন্যুতে ৪২টি দেশের দুই শতাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। উত্সবের সকল প্রদর্শনী শিশুদের জন্য উন্মুক্ত ছিল।