সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের
সম্ভাব্য প্রার্থীদের গণসংযোগ
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৩
সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে আগ্রহীরা তত্পর হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও আগামী এপ্রিল-মে মাসে নির্বাচন হতে পারে ধরে নিয়ে তারা নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। আপাতত তারা বেশি ব্যস্ত গণসংযোগে। ভোটারদের সমর্থন ও দোয়া আদায়ে অনেক নতুন প্রার্থী ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় শুরু করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীরা বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েও নিজের মনের ইচ্ছার কথা ব্যক্ত করছেন। মেয়র ও কাউন্সিলর পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নানা রঙের ও বাহারি শ্লোগানের ব্যানার-বিলবোর্ড নগরীর ব্যস্ত মোড়, অলি-গলিতে শোভা পাচ্ছে। মেয়র পদের প্রার্থীদের কেউ নিজেকে অভিজ্ঞ, কেউবা সত্ আবার তরুণ প্রার্থীরা নিজেদের থার্ড জেনারেশনের প্রতিনিধি দাবি করে বিলবোর্ড টানিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের এমন তত্পরতায় ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। আলোচনা-আড্ডায় উঠছে ভোটের কথা। গত নির্বাচনে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজয়ীরা কী করেছেন, কী করতে পারেননি, সে হিসাব-নিকাশও হচ্ছে। তাদের সাফল্য-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করেই আগামীতে ভোট দেয়ার কথা বলছেন সচেতন ভোটাররা।
মেয়র পদের প্রার্থী নিয়ে অনেকটা সুবিধায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। বর্তমান মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছাড়াও তাদের দলে আরো দুই একজন মেয়র পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক। তবে প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে বিএনপিতে। তাদের দলের অন্তত অর্ধ ডজন নেতা মেয়র পদে প্রার্থী হতে তত্পর রয়েছেন।
পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর তৃতীয় বারের মতো নির্বাচন হতে যাচ্ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে। আগের দুটি নির্বাচনেই মেয়র পদে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। পৌর সভার সবশেষ চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজও মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। ভোটের রাজনীতিতে ‘সফল’ মেয়র কামরানকে টেক্কা দিয়ে তিনি দলীয় সমর্থন আদায় করতে পারবেন কি-না তা দেখার বিষয়। তবে মিসবাহউদ্দিন সিরাজের সমর্থকরা বলছেন, মানুষ নতুনত্ব চায়।
সিলেট সিটির প্রথম নির্বাচনে তত্কালীন ক্ষমতাসীন চার দলীয় জোট এখানে মেয়র পদে প্রার্থী করেছিল মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হককে। তাকে বিজয়ী করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছিলেন তখনকার অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম সাইফুর রহমান। তিনি মেয়র পদে এম এ হককে বিজয়ী না করলে সিলেটের উন্নয়ন করবেন না এমনটিও বলেছিলেন। তবে এতেও কাজ হয়নি। নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ী হন কামরান। অবশ্য ওই নির্বাচনে বিএনপির সমর্থন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন সিলেট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আফম কামাল ও অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান। সিটি কর্পোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচন হয় ২০০৮ সালে দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে। তখন কারাবন্দি থেকেও বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বদরউদ্দিন আহমদ কামরান। বিএনপির প্রার্থী এম এ হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আফম কামাল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি। আসন্ন নির্বাচনেও বিএনপি ‘অধিক’ প্রার্থী নিয়ে বিপাকে পড়তে পারে। বিএনপির সমর্থনে মেয়র পদে নির্বাচন করার দৌড়ে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সভাপতি এম এ হক, সহ-সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আরিফুল হক চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান জামান প্রমুখ। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে কি-না এবং করলে কাকে মনোয়ন দেবে তা দেখার বিষয়।