বাণিজ্য মেলায় প্যাভিলিয়নের ছাদ ধসে নিহত ১, আহত ৩

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পারটেক্স প্লাস্টিক প্যাভিলিয়ন ধসে পড়ে একজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটায় এ ঘটনা ঘটে। প্যাভিলিয়নের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মালপত্র তোলায় এ ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। প্যাভিলিয়নে কর্মরত তেজগাঁও কলেজের স্নাতক শেষ বর্ষের ছাত্র রনি দাস নিহত হয়েছেন। রনি দাস গোপালগঞ্জের রাম দাসের ছেলে। আহতরা হলেন সিরাজ, রাজু এবং শাহিন। তারা সবাই এক মাসের জন্য মেলার পারটেক্স প্লাস্টিক প্যাভিলিয়নে কাজ করতে এসেছিলেন। রনি দাসের সহকর্মীরা জানান, প্যাভিলিয়নের ছাদের মালপত্রের ধারণক্ষমতা ছিল ১.৫ টন। সেখানে ৫ টন মালপত্র রাখা হয়েছে। দোতলা ছাদটি মালপত্রের গুদাম করা হয়েছিল। আমরা প্যাভিলিয়নের কর্মকর্তাদের বার বার বলেছি, মালপত্র কমানোর জন্য কিন্তু তারা তা শোনেননি। শেরেবাংলা নগর থানার এস আই এবং মেলার ইনচার্জ মো. কামাল হোসেন জানান, অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে প্যাভিলিয়নটি ধসে পড়েছে। দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে প্যাভিলিয়নটি ধসে পড়ে। ধসে পড়তে ২ থেকে ৩ মিনিট সময় নেয়। তখন ছাদের নিচে চাপা পড়েন রনি দাস। সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রনি দাস গুরুতর আহত হন। তাকে পার্শ্ববর্তী সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে তিনি মারা যান। অন্যদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনা খুব কাছ থেকে দেখেছেন মেলা ইজারাদার কর্মী মোকলেসুর রহমান। তিনি জানান, প্রায় ১০ মিনিট চাপা পড়েছিলেন রনি দাস। ছাদ ধসে পড়লে সবাই বাঁচার জন্য নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। কেউ রনি দাসকে বাঁচাতে আসেননি। রনি দাস তখন পানির জন্য চিত্কার করছিলেন। অবশেষে নিরাপত্তাকর্মী এসে তাকে উদ্ধার করেন। পারটেক্স কোম্পানির বেভারেজ সেকশনের অফিসার এ ঘটনার কথা শুনে ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি জানান, এক মাসের চুক্তিবদ্ধ মোট ৩৪ জন কর্মী এখানে কাজ করতেন। কোম্পানির মালিক এ ব্যাপারে যথোচিত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন।