‘দেখবেন নাকি ভানুমতির খেল!’
মহাদেবপুর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:৪৭
রেডিও-টেলিভিশন আসার অনেক আগে এমনকি কলেরগান যুগেরও আগে পুতুল নাচ আর যাত্রা পালাই ছিল গ্রামীণ জীবনের প্রধানতম বিনোদন মাধ্যম। যাত্রা পালার ‘রাজা-রাণীদের’ ছাড়া সে আমলে মেলা আয়োজনের কথা ভাবাই যেত না। মেলা মানেই অনিবার্যভাবে যাত্রা গান আর পুতুল নাচ। কাপড় দিয়ে ঘিরে বানানো হত পুতুল নাচের মঞ্চ। তার বাইরে টাঙ্গানো থাকত রাক্ষস-খোক্কস, রাজকুমার-রাজকুমারী বা পঙ্খীরাজ ঘোড়ার ছবি। একজন বাইরে দাঁড়িয়ে তাজ্জব তাজ্জব সব কাহিনী বলে যেত আর মাঝে মাঝে উচ্চৈঃস্বরে বলত ‘দেখবেন নাকি ভানুমতীর খেল।’ ছোটদের কৌতূহল চড়ে যেত তুঙ্গে। মঞ্চের ওপর নড়ে চড়ে উঠত, কথা বলত রূপকথার জগতের যত চরিত্র।
দিন বদলেছে। ঘরে ঘরে টেলিভিশন কেবল নেটওয়ার্কের কল্যাণে দেখা যাচ্ছে শতাধিক দেশি বিদেশি চ্যানেল। এসবের কাছে মার খেয়ে বাংলার ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ আর যাত্রা পালার এখন পাত্তাড়ি গোটানোর সময়। শিশুরাও আর ওসব দেখতে চায় না।
এরপরও হাল ছাড়েননি দুই একজন মানুষ। বাপ দাদার পেশা আঁকড়ে ধরে মেলায় মেলায় দেখিয়ে চলেছেন পুতুল নাচ। এমনি একজন মোশাররফ হোসেন। দি আজাদ পুতুল নাচ নামে তার একটি দল আছে। সেটাকেই সম্বল করে তিনি ঘুরে বেড়ান দেশের এ মেলা থেকে ও মেলা।
৩০ বছর আগে তিনি তার বাবার কাছ থেকে পুতুল নাচ দেখানো শিখেছিলেন। এ পুতুল নাচ দেখানো পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তিনি এখনো তার পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে আছেন। এক শ্রেণীর মানুষ বিভিন্ন মেলায় পুতুল নাচের অনুমতি নিয়ে অশ্লীল নৃত্য প্রদর্শন করে এই শিল্পের ধ্বংস ডেকে এনেছে বলে মনে করেন তিনি। এসব লোকের কারণে প্রকৃত পুতুল নাচ দেখানোর মানুষদেরকেও বিভিন্ন মেলায় প্রশাসনের কাছ থেকে পুতুল নাচের অনুমতি নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে অনেকেই পুতুল নাচ দেখানো পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।