কিশোরগঞ্জে হাসপাতালে ঝাড়ুদারের ইনজেকশনে প্রাণ হারালো স্কুলছাত্রী

জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী ইমা (৯) শুক্রবার রাতে ঝাড়ুদার কর্তৃক ইনজেকশন পুশ করার পরপরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং দোষীদের শাস্তি ও গ্রেফতারের দাবিতে শুক্রবার রাতে ও গতকাল শনিবার দুপুরে দুই দফা হাসপাতাল ঘেরাও ও সড়ক অবরোধ করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। জনতা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে শনিবারের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এই ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের এবং দায়িত্বরত নার্স আকলিমা খাতুন হ্যাপি ও ঝাড়ুদার রাফিজা আক্তার নীলুকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ইমার স্বজনরা জানান, গত বুধবার দুপুরে জেলা শহরের মুন্নাপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে রাস্তা পারাপারের সময় একটি সিএনজি অটোরিক্সার ধাক্কায় ইমা গুরুতর আহত হয়। দুর্ঘটনায় ইমার ডান পা ভেঙ্গে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। ইমাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে অর্থপেডিক্স বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক ডা. হাবিবুর রহমান মানিক ইমাকে পরীক্ষা শেষে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেন। কিন্তু ইমার দরিদ্র পিতা জালাল মিয়া নিজের আর্থিক অক্ষমতার কারণ জানিয়ে এখানেই চিকিত্সার জন্য চিকিত্সককে অনুরোধ করেন। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে শহরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকের ডা. হাবিবুর রহমান মানিক ইমার অস্ত্রোপাচার করেন। জ্ঞান ফেরার পর শুক্রবার সকালে ইমাকে পুনরায় হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। ইমার মা রেখা আক্তার জানান, অপারেশনের পর ইমার অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে এবং খাবার খায়। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় চিকিত্সকের পরামর্শমত নির্ধারিত ইনজেকশন দেয়ার জন্য কর্তব্যরত নার্স আকলিমা খাতুন হ্যাপিকে অনুরোধ করা হলে তিনি এজন্য ৫০ টাকা দাবি করেন। পরে ঝাড়ুদার রাফিজা আক্তার নীলুফা ইমার শরীরে ইনজেকশন পুশ করে। এর পরপরই ইমার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ:ঝাড়ুদার ভুলভাবে ইনজেকশন পুশ করার ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. হুসাইন সারোয়ার খান জানান, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীকে ক্লিনিকে নিয়ে কেন অপারেশন করা হলো এবং পরে হাসপাতালে কেন রোগীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হলো এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি দুইজনের সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মীর মোশাররফ হোসেন জানান, এ ব্যাপারে ইমার বড় ভাই হেলালমিয়া বাদী হয়ে হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের চিকিত্সক ডা. হাবিবুর রহমান মানিক, নার্স আকলিমা খাতুন হ্যাপি ও ঝাড়ুদার রাফিজা আক্তার নীলুফার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি।