এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র

প্রশ্ন-২ অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি কি ? কিভাবে এটি হিসাবভুক্ত হয় ? অথবা এটি সংরক্ষণের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা কর ? উত্তর ঃ অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি এক প্রকার অনুমান ভিত্তিক খরচ। ধারে পণ্য বিক্রয়ের ফলে যে দেনাদার সৃষ্টি হয় তারা সকলে নির্দিষ্ট সময়ে সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করবে এরূপ ধারণা ঠিক নয়। হিসাববিজ্ঞানের আয়-ব্যয় সমন্বয় নীতি (Matching Concept) অনুসারে যে সকল খরচ আয় উপার্জনের জন্য ব্যয় করা হয় সে সকল খরচকে উক্ত আয়ের সহিত সমন্বয় করে মুনাফা বা ক্ষতি নির্ণয় করা হয়। সাধারণভাবে বলা যায়, বিবিধ দেনাদারের নিকট পাওনার যে অংশ আদায় সম্পর্কে সন্দেহ থাকে তাকে সন্দেহজনক পাওনা বলে। সন্দেহজনক পাওনার ক্ষতিপূরণের জন্য যে সঞ্চিতির ব্যবস্থা রাখা হয় তাকে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি বলে। বিশেষভাবে বলা যায় ভবিষ্যতে অনাদায়ী পাওনাজনিত ক্ষতি পূরণের জন্য মুনাফার যে অংশ আলাদাভাবে রাখা হয় তাকে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি বলে। পরিশেষে বলা যায় অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি হল প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যত সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অগ্রিম ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ফলাফল ও আর্থিক চিত্র সঠিকভাবে নির্ণয় করতে হলে এ জাতীয় ভবিষ্যত ক্ষতির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখতে হবে। সুতরাং বলা যায় অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি প্রতিষ্ঠানের এক প্রকার অন্তর্দায় যা মুনাফা থেকে সৃষ্টি করা হয়। নিম্নলিখিত প্রক্রিয়ায় অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি হিসাবভুক্ত হয় ঃ অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির জন্য সনাতন পদ্ধতিতে লাভলোকসান হিসাবকে ডেবিট এবং অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতিকে ক্রেডিট করা হয়। এবং উদ্বৃত্তপত্রে বিবিধ দেনাদার থেকে বাদ দিয়ে দেখানো হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে অনাদায়ী পাওনাকে ডেবিট এবং অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতিকে ক্রেডিট করা হয়। অতঃপর অনাদায়ী পাওনাকে লাভলোকসান হিসাবে স্থানান্তর করা হয় এবং সঞ্চিতিকে দেনাদার থেকে বাদ দিয়ে দেখানো হয় বা উদ্ধৃত্তপত্রের দায় পার্শ্বেও দেকানো যায়। নিম্নে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি সংরক্ষনের উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা আলোচনা করা হল ঃ অনাদায়ী ও সন্দেহজনক পাওনা সঞ্চিতি রাখার উদ্দেশ্য বা প্রয়োজনীয়তা হিসাববিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। (১) সামাঞ্জস্যতার নীতি ঃ সামঞ্জস্যতার নীতি অনুযায়ী যে বছরের ব্যয় সে বছরের আয়ের সাথে সমন্বয় করে ব্যবসায়ের মুনাফা নির্ণয় করতে হয়। ধারে বিক্রয়ের ফলে দেনাদার সৃষ্টি হয়, দেনাদারদের নিকট অনাদায়ী পাওনা সঙ্গে সঙ্গে হয় না। এমতাবস্থায় অনাদায়ী হতে পারে ধরে নিয়ে সঞ্চিতির ব্যবস্থা করে উক্ত সঞ্চিতি লাভলোকসান হিসাবে ডেবিট করার মাধ্রমে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ফলাফল নির্ণয়ের জন্য অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ব্যবস্থা করতে হয়। (২) প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় ঃ অনাদায়ী পাওনা সাথে সাথে হয় না। সাধারণত বেশ কিছুদিন পর প্রকৃত অনাদায়ী পাওনা হয়, এমতাবস্থায় দেনাদারের উপর সম্ভাব্য শতকরা হার অনুযায়ী সঞ্চিতির ব্যবস্থা করে উহা পরবর্তীতে অনাদায়ী পাওনার সাথে সম্বয় করা হয়। এ ব্যবস্থার ফলে যে বছর দেনাদার সৃষ্টি হয সে বছর সঞ্চিতির ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মুনাফা নির্ণয় করা সম্ভব হয়। (৩) দেনাদারের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় ঃ দেনাদারের নিকট হতে সকল টাকা আদায় করা সম্ভব নয় এ কতা প্রায় সত্য ঘটনা। এ জন্য অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি নির্ধারণ করে একদিকে ক্ষতি হিসাবে দেখিয়ে নীট মুনাফা কমানো হয় অন্য দিকে উদ্বৃত্তপত্রে সম্পত্তি পার্শ্বে দেনাদারের নিকট হতে বাদ দিয়ে দেকানোর মাধ্যমে দেনাদারদের সঠিক পরিমাণ নির্ণয় করতে সুবিধা হয়। (৪) ভবিষ্যতে প্রাপ্য টাকা সম্পর্কে ধারণা ঃ ভবিষ্যতে দেনাদারদের নিকট হতে কি পরিমাণ টাকা আদায় করা যাবে তা জানার জন্য অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি জানা প্রয়োজন। (৫) প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রদর্শন ঃ হিসাববিজ্ঞানের মূল উদ্দেশ্য হল প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রদর্শন। উক্ত উদ্দেশ্য সাধনের জন্য অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন। কারণ অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতি নির্ণয় করে উহা উদ্ধৃত্তপত্রে বিবিধ দেনাদার হতে বাদ দিয়ে দেখানো হয়। (৬) মূলধন অক্ষত রাখা ঃ অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ব্যবস্থা রাখা না হলে মুনাফা বৃদ্ধি করে দেখানো হয়। মুনাফা মালিক পক্ষ ভোগ করে বিধায় মূলধন অক্ষত রাখা যায়না। সুতরাং মূলধন অক্ষত রাখার প্রয়োজনে অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। উপরিউক্ত প্রয়োজনীয়তার আলোচনায় দেখা যায় অনাদায়ী পাওনা সঞ্চিতির ব্যবস্থা করা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কল্যাণের জন্য অপরিহার্য।