সিডি

গান শুনতে কিংবা মুভি দেখতে ভালোবাসেন, অথচ সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্কের নাম শোনেননি এমন মানুষ বোধকরি এ যুগে খুঁজে পাওয়াই খানিকটা দুষ্কর। প্রযুক্তির উত্কর্ষের সঙ্গে সঙ্গে এখন ডিভিডি বা ব্লু রে ডিস্কের মতো সিডি’র অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই জনপ্রিয়তার তালিকায় এখনও নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে কমপ্যাক্ট ডিস্ক নামের এই পোর্টেবল স্টোরেজ মাধ্যমটি। মজার বিষয় হলো, তথ্যপ্রযুক্তির অন্য অনেক আবিষ্কারের পেছনে স্বতন্ত্র ধারণার প্রয়োগ ঘটলেও সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্কের ধারণাটি কিন্তু প্রথমবারের মতো বিজ্ঞানীদের মাথায় এসেছিল অতীতের গ্রামোফোন রেকর্ড বা লং প্লে থেকেই। সে সময় এ ধরনের মাধ্যমের সীমাবদ্ধতা আর আয়তনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা কমপ্যাক্ট ডিস্কের মতো একটি ছোট এবং অধিক সুবিধাসম্পন্ন স্টোরেজ মাধ্যমের কথা ভাবতে শুরু করেন। এ বাস্তবতায় ১৯৭০ সালে ফিলিপস এএলপি (audio long play) অডিও ডিস্ক সিস্টেম নিয়ে কাজ শুরু করে। এই প্রজেক্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল লেজার টেকনোলজি ব্যবহার করে ভিনাইল রেকর্ডের বিকল্প হবে এমন কিছু উদ্ভাবন করা। এ সময় ফিলিপসের সে সময়কার অডিও ডিভিশনের পরিচালক লু অটেন্স সর্বপ্রথম পরামর্শ দেন যে, এক ঘণ্টার মিউজিক সম্বলিত এএলপি ডিস্ক হবে প্রচলিত ভিনাইল রেকর্ডের চেয়ে ছোট এবং এটির ব্যাসার্ধ হবে ১০ সেন্টিমিটারের কাছাকাছি। তবে সত্যিকার অর্থে এই ধারণাটিকে কাজে লাগাতে ফিলিপস-এর সময় লেগে যায় প্রায় সাত বছর। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে ফিলিপস নতুন অডিও ফরম্যাট নিয়ে জোরেশোরে কাজ শুরু করে এবং এই নতুন অডিও ফরম্যাটের নাম দেওয়া হয় মিনি র্যাক, মিনি ডিস্ক বা কমপ্যাক্ট র্যাক। অবশেষে ১৯৭৯ সালের মার্চ মাসে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয় কমপেক্ট ডিস্ক বা সিডি। ঠিক এক সপ্তাহ পর এই নতুন ফরম্যাটটিকে কিভাবে আরও উন্নত করা যায় সে লক্ষ্যে জাপানের সনি কর্পোরেশনের সাথে চুক্তি করে ফিলিপস। প্রাথমিকভাবে এক ঘণ্টার অডিও ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ডিস্ক তৈরির কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা ৭৪ মিনিটে উন্নীত করা সম্ভব হয় এবং ১৯৮০ সালে ফিলিপস এবং সনি যৌথভাবে তৈরি করে ‘রেড বুক’ নামের বিশেষ ধরনের কমপেক্ট ডিস্ক। কমপ্যাক্ট ডিস্ক বা সিডির মতো সিডি প্লেয়ার বাজারজাতকরণেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ফিলিপস। ১৯৮২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো বাজারে বাণিজ্যিকভাবে সিডি প্লেয়ার বাজারে ছাড়ে। তবে সে সময় সিডি’র দাম খুব বেশি থাকায় শুধুমাত্র জনপ্রিয় আর ক্লাসিক গানগুলোকেই সিডি আকারে বাজারে ছাড়া হতো। আর সিডি আকারে প্রথমবারের মতো নতুন যে অডিও অ্যালবামটি বাজারে আসে সেটি ছিল বিখ্যাত ব্যান্ডদল অ্যাবা’র অ্যালবাম ‘দ্য ভিজিটর্স’। যদিও সিডি বা কমপ্যাক্ট ডিস্ককে সত্যিকারের জনপ্রিয়তা এনে দেয় ডায়ার স্ট্রেইটের অ্যালবাম ‘ব্রাদার্স ইন আর্মস’ যা বিক্রি হয় এক মিলিয়নেরও বেশি কপি। এদিকে গত এক দশকে স্টোরেজ ব্যবস্থায় আরও কিছু বিকল্প যোগ হওয়ায় এবং অনলাইনে গান ডাউনলোডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় সিডি’র জনপ্রিয়তা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।